bangla-sydney
bangla-sydney.com
News and views of Bangladeshi community in Sydney












এই লিংক থেকে SolaimanLipi ডাউনলোড করে নিন



“ম্যান ও' ওয়ার”
আবু এন এম ওয়াহিদ



আমেরিকার কেন্টাকি অঙ্গরাজ্যের লেক্সিংটন শহরের একটি প্রধান সড়কের নাম “Man o' War Boulevard” । এ রাস্তা ধরে আমি একাধিকবার গাড়ি চালিয়েছি। প্রথমবার যখন ওই শহরে যাই তখন আমার এক অগ্রজপ্রতিম বন্ধুকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, ‘ম্যান ও' ওয়ার’ কে ছিলেন? তিনি বললেন যে, ‘ম্যান ও' ওয়ার’ কোনো মানুষের নাম নয়, এটি একটি ঐতিহাসিক ঘোড়ার নাম, আরো বললেন, বার বার যে ‘যুদ্ধ’ জয় করে সে ইতিহাসে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছে সেটা কোনো ‘সশস্ত্র সংগ্রাম’ও নয়; সে জিতেছিল ঘোড়দৌড়ে। এমন কীর্তিমান ঘোড়াটির নাম, ‘হর্স ও' ওয়ার’ না হয়ে ‘ম্যান ও' ওয়ার’ কেন হলো, তারও একটা সুন্দর ইতিহাস আছে, তবে সে কথা হবে পরে।

তার আগে সংক্ষেপে দু’কথা বলা বোধ করি বেমানান হবে না, কেন আজ আমি ঘোড়া নিয়ে লিখতে বসেছি। আসামের শিলচর থেকে প্রকাশিত ‘দৈনিক সাময়িক প্রসঙ্গ’ আমি নিয়মিত পড়ার চেষ্টা করি। আজ রোববারের পাতায় চোখ বুলাতে গিয়ে দেখি এক শিশুশিল্পী ঘোড়ার ওপর মাত্র দুই প্যারাগ্রাফের একটি ছোট্ট রচনা লিখেছে। তার লেখায় অন্য আরেকটি ঘোড়ার সাথে জায়গা করে নিয়েছে ষোড়শ শতাব্দীর উত্তর-পশ্চিম ভারতীয় রাজ্য মেবারের মহারানা প্রতাপ সিংহের ঘোড়া। ওই ঘোড়ার নাম ছিল ‘চৈতক’। ‘চৈতক’-এর কথা ছোটবেলা আব্বার কাছে শুনেছিলাম। তিনি হাইস্কুলে ইতিহাস পড়াতেন। ইতিহাসে মানুষের নাম এবং সন-তারিখ মনে রাখা আমার জন্য একটা কঠিন কাজ ছিল, তাই ছাত্রজীবনে সব সময়ই আমি ইতিহাসকে এড়িয়ে গেছি, তবে কেচ্ছাকাহিনির মত করে ইতিহাস পড়তে ও শুনতে কোনো কালেই আমার অনিহা ছিল না। ইদানীং তো ইতিহাস চর্চা আমার একটা পছন্দের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক দিন পর ‘চৈতক’ এর কথা পড়ে আমার প্রিয় বাবার মুখখানা স্মৃতির আয়নায় ভেসে উঠল, একই সাথে সুখ-দুঃখের আরো কত কথা...! এ সব গল্প হবে না হয় আরেক দিন। ফিরে আসি ঘোড়ার কথায়। ‘চৈতক’ নামটি আমার কাছে যেমন সুন্দর ও বিরল তেমনি অনন্যসাধারণ ও তেজ-দীপ্ত লাগে! ভাবলাম আপনাদের জন্য ‘চৈতক’-এর ওপর একটা শর্ট পিস লিখলে কেমন হয়, কিন্তু ইন্টারনেট ঘাঁটাঘাঁটি করে রানা প্রতাপের ঘোড়ার ওপর যথেষ্ট তথ্য-উপাত্ত পেলাম না। এমন সময় জঙ্গি ঘোড়ার (‘চৈতক’ ছিল একটি যুদ্ধ-ঘোড়া। ঘোড়াটি ১৫৭৬ সালে মোঘল সেনাপতি মান সিংহ এবং মহারানা প্রতাপ সিংহের মধ্যে সংঘটিত বিখ্যাত হলদিঘাটির যুদ্ধে আহত হয়ে মারা যায়। ভারত, তথা রাজস্থানের মানুষ ‘চৈতক’-কে এখনো ‘হিরো’ হিসেবে স্মরণ করে থাকেন!) বদলে আমাদের বাড়ির কাছের দৌড়ের ঘোড়া ‘ম্যান ও' ওয়ার’-এর কথা মনে পড়ে গেল। এ সম্বন্ধে পড়তে গিয়ে বেশ কিছু মজাদার তথ্যও জানতে পারলাম। আর তাই এসব কথার ডালা নিয়েই আজ আপনাদের খেদমতে হাজির হয়েছি।

যৌবনকালে ‘ম্যান ও' ওয়ার’ এর উচ্চতা ছিল সাড়ে পাঁচ ফুট। তার দৈহিক গঠন কাঠামো ছিল শক্ত, সুঠাম, চৌকস এবং সর্বোপরি দেখার মতন। ঘোড়াটির পেছনের পা দু’টো বাঁধানো ছিল অত্যন্ত মজবুত এবং শক্তিশালী গাঁথুনির ওপর। ‘ম্যান ও' ওয়ার’-এর ঘাড়ের নিচে ছিল বেখাপ্পা ধরণের এক মাংসপিণ্ড (Lump). কাছে গেলে তার পাঁজরের হাড্ডিগুলো স্পষ্ট দেখা যেত। ঘোড়াটির খুরের উপরের ও পেছনের দিকের কেশ-গুচ্ছ কখনো ছাঁটা হত না। ‘ম্যান ও' ওয়ার’-এর পিঠ ছিল ধনুকের মত বক্রাকারে একটু বেশি দাবানো। গায়ের রঙ ছিল বিরল কিসিমের কড়া লাল; যার জন্য তার ডাক নাম ছিল, “Big Red!”

লিঙ্গ বিচারে ঘোড়া তিন প্রকারের হয়ে থাকে - Male, Female এবং Stallion (প্রজননের জন্য যেসব পুরুষ ঘোড়াকে খোজা করা হয় না তাদেরকে বলে Stallion). ‘ম্যান ও' ওয়ার’ ছিল Stallion ধরণের। তাকে মার্কিন আর্মির অশ্বারোহী বাহীনির কারুকার্যখচিত লাগাম পরানো হত। সাজসজ্জা করে বাঁকা পিঠে সওয়ারি নিয়ে ‘ম্যান ও' ওয়ার’ যখন দৌড়ের মাঠে নামত তখন তার মসৃণ লোমশ শরীর চকচক করত, আর যখন সে ধীরে ধীরে পা ফেলত তখন মনে হত কোনো মহামতি সম্রাট এমনভাবে অহঙ্কারভরে হাঁটছেন যেন মাটিতে পা পড়ছে না! ঘোড়াটির নাম কেন ‘ম্যান ও' ওয়ার’ হলো, এবার শুনুন সে কাহিনী।

এই ঘোড়ার জন্ম ইতিহাস অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িয়ে আছে August Belmont, Jr. নামে এক ভদ্রলোকে সাথে। তিনি ৬৫ বছর বয়সে মার্কিন সেনাবাহীনিতে যোগ দেন, এবং প্রথম মহাযুদ্ধের সময় মিত্র বাহীনির হয়ে লড়তে যান ফ্রান্সে। ওই সময়ে, অর্থাৎ ১৯১৭ সালের ২৯শে মার্চ তাঁরই ঘোড়া-প্রজনন খামারে একটি শাবকের জন্ম হয়। বিদেশের মাটিতে যুদ্ধরত Belmont সাহেবের সম্মানে তাঁর স্ত্রী নবজাতকের নাম রাখেন ‘ম্যান ও' ওয়ার’। পরের বছর Belmont পরিবার ঘোড়াসহ খামারটি নিলামে তুলেন। নিলামে ‘ম্যান ও' ওয়ার’-এর সর্বোচ্চ দাম উঠে ৫ হাজার ডলার (বর্তমান বাজারে এর মূল্যমান হবে ৮০ হাজারেরও বেশি)। এ ভাবে সর্বোচ্চ ডাকে Samuel D. Riddle ঘোড়াটির মালিক বনে যান। পরবর্তীকালে বিখ্যাত এই ঘোড়ার প্রশিক্ষক ও সোয়ারি নিযুক্ত হয়েছিলেন যথাক্রমে Louis Feustel Ges Johnny Loftus.

এ পর্যন্ত রেস-ট্র্যাক-এর ইতিহাসে ‘ম্যান ও' ওয়ার’ সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ শুদ্ধ-শোণিত (Thoroughbred) ও তেজস্বী ঘোড়াদের অন্যতম। প্রথম মহাযুদ্ধের পরে পরে ‘ম্যান ও' ওয়ার’ তার জীবনে ২১ বার কঠিন দৌড় প্রতিযোগিতায় মাঠে নেমেছে। কত জাতের কত তেজী ঘোড়ার সাথে সে দৌড়েছে, তথাপি ২১ বারের মধ্যে ২০ বারই সে প্রথম হয়েছে! মাত্র ১ বার দ্বিতীয় স্থান দখল করেছিল, তাও খুব অল্প ব্যবধানে (Half length)। এ সব দৌড় খেলে ঘোড়াটি তার প্রভুর জন্য আয় করেছিল প্রায় আড়াই লক্ষ ডলার (আজকের হিসেবে ৪০ লক্ষ ডলারের কম হবে না।) দৌড়ের ঘোড়া বেশি দিন ফর্মে থাকে না। ‘ম্যান ও' ওয়ার’-এর মত তেজস্বী ঘোড়া তার জীবনে সর্ব সাকুল্যে দেড় বছরও দৌড়াতে পারেনি। তার প্রথম দৌড় হয়েছে ৬ই জুন ১৯১৯ এবং শেষ দৌড় ১০ই অক্টোবর ১৯২০। এর পর সে আর রেস-ট্র্যাক-এ পা ফেলেনি।

আগেই বলেছি, একটি বাদে বাকি সব দৌড়ে সে জিতেছে; এবং যেটাতে হেরেছে সেটা হয়েছে ১৩ই আগস্ট ১৯১৯ সালে। রাজকীয় এই ঘোড়ার জন্য শেষ বিচারে এই ‘হার,’ হার ছিল না জিত ছিল, সেটাও বলা মুশকিল! জীবনে প্রথম ও শেষ বারের মত ‘ম্যান ও' ওয়ার’ যখন দৌড়ে হারল তখন চারদিকে যে আলোচনা সমালোচনা ও তার দৌড়ের চুলচেরা বিশ্লেষণ হলো তাতে ক্রিড়াজগতে ঘোড়াটির নাম ছড়িয়ে পড়ল আরো বেশি! এ ‘নাম’ যতটা না ছিল বদনামের তার চেয়ে অনেক বেশি ছিল সুনামের। কোনো কোনো সময় পরাজয় যেমন মানুষের জন্য ‘বিজয়’ বয়ে আনে, তেমনি ‘ম্যান ও' ওয়ার’-এর বেলাও তার একমাত্র পরাজয়, ‘বিজয়’ হয়েই তার কাছে ধরা দিয়েছিল!

ঘোড়া বেশি দিন বাঁচে না। ‘ম্যান ও' ওয়ার’-এর বেলাও তাই হয়েছে। সে ৩০ বছর বয়সে ১৯৪৭ সালের ১লা নভেম্বর অপরাহ্নে লেক্সিংটনেই মারা যায়। পরদিন ছোট বড় সব স্থানীয় সংবদাপত্রে তার মৃত্যু সংবাদ গুরুত্বের সাথে ছাপা হয়। মৃত্যুর পর অনেক দিন পর্যন্ত ঘোড়াটির ওপর বিভিন্ন ধরণের ম্যাগাজিনে অনেক প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। এটি জানা ইতিহাসের প্রথম ঘোড়া, যার মৃতদেহ মানুষের মরদেহের মত Embalm করা হয়। তার জন্য ২৩ বোতল Embalm ফ্লুইড লেগেছিল; যেখানে একজন প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের জন্য দরকার হয় মাত্র ২ বোতল। ওই Embalm প্রক্রিয়ায় ২ ঘণ্টা সময় লেগেছিল। পরদিন লেক্সিংটন হেরাল্ড-এ খবর বেরিয়েছিল এভাবে, “...the big horse’s eyes and mouth were closed and he looked just like he was taking a nap.”

মৃত্যুর তিন দিন পর ‘ম্যান ও' ওয়ার’-কে লেক্সিংটন-এ সমাহিত করা হয়। তারিখটা ছিল ৪ঠা নভেম্বর, ১৯৪৭ সাল। ওই দিন অনেক নারী-পুরুষ তার ফিউনার্যাাল প্রসেশনে যোগ দেন। পুরুষদের সবার পরনে ছিল স্যুট-টাই এবং সকলের দুই হাত প্রথিত ছিল তাঁদের প্যান্ট-পকেটের গভীরে। মেয়েরাও সেজে-গুজে এসেছিলেন। সবার হাতে পরা ছিল কালো গ্লাভ্স। ঘোড়াটির দাফনের আগে ৩০ মিনিট ধরে ৯টি Eulogy পড়া হয় এবং সেগুলো রেডিওতে সরাসরি প্রচার করা হয়েছিল। ‘ম্যান ও' ওয়ার’-কে কবর দেওয়ার জন্য মিস্ত্রি দিয়ে ৬’ x ৯’ x ৩.৫’ সাইজের মূল্যবান ‘ওক’ কাঠের একটি বিশাল ক্যাসকেট তৈরি করা হয়। ঘরে বানানো sling-এর সহায়তায় ১৩ জন করিৎকর্মা পুরুষ ঘোড়াটির ১,৩০০ পাউন্ড ওজনের মৃতদেহকে ক্যাসকেটে ভরেন। তারপর ঘোড়ার পা’গুলোকে সমান করে ক্যাসকেটে বসানো হয়, খুরগুলোকে ভালো করে ধুয়ে-মুছে পরিষ্কার করা হয়, তার পুরুষাঙ্গকে কালো কাপড় দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয় এবং মাথার নিচে নরম বালিশ গুঁজে দেওয়া হয়। এ সব কাজ শেষ হলে তার ক্যাসকেটের ডালা বন্ধ করে চারদিকে পেরেক ঠুকা হয়। অতঃপর, ক্রেন-এর সাহায্যে ট্রাকে তুলে ক্যাসকেট কবরস্থানে নেওয়া হয়। সেখানে আবার ক্রেন দিয়ে ট্রাক থেকে সরাসরি কফিন কবরে নামানো হয়। সযত্নে কবরে রাখার আগে উপস্থিত আড়াই হাজার নারী-পুরুষ ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার সাথে ‘ম্যান ও' ওয়ার’-এর কফিন ছুঁয়ে তাকে শেষ বিদায় জানান। ফিউনার্যাুলের সময় ঘোড়াটির প্রতি সম্মান জানানোর জন্য আমেরিকার সকল রেস ট্র্যাক-এ চলমান দৌড় থামিয়ে এক মিনিটের নীরবতা পালন করা হয়! বারবারা লিভিংস্টোন-এর অনলাইন ব্লগে ‘ম্যান ও' ওয়ার’ সম্বন্ধে আরো কিছু মজার কথা পাওয়া যায়। ঘোড়াটির ফিউনার্যানলের বিবরণ দিতে গিয়ে তিনি লিখেছেন, ‘ম্যান ও' ওয়ার’ মার্কিন সেনা বাহীনির প্রথম ক্যাভালরি ডিভিশনের একজন অনারারি কর্নেল ছিল। তার ফিউনার্যায়লের সময় পৃথিবীর অন্য প্রান্তে অর্থাৎ টোকিওতে অবস্থিত আমেরিকান আর্মির ক্যাভালরি ডিভিশনের ৩ হাজার সসজ্জিত সেনা ঘোড়াটির প্রতি সামরিক কায়দায় শেষ সম্মান জানায়। এটা নিঃসন্দেহে ইতিহাসের একটি বিস্ময়কর ও অভূতপূর্ব ঘটনা! (“Man o’ WarΥs Funeral” By Barbara Livingston - Online Blog.) ফিউনার্যারলের সাথেই ‘ম্যান ও' ওয়ার’এর প্রতি ঘোড়া অনুরাগীদের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায়নি। তার দাফন-কাফনের পর ঘোড়াটির কবরের ওপর পাকা সমাধি গড়ে তোলা হয়। তার কবরের চারপাশে ১৬টা ওক গাছ লাগানো হয়, কারণ প্রজনন ও দৌড়ের জন্য রিডল সাহেব তাকে ১৬ বছর ব্যবহার করেছিলেন। ঘোড়াটি ৩০ বছর বেঁচেছিল, তাই রাস্তা থেকে ‘ম্যান ও' ওয়ার’ এর কবরে যাওয়ার পথে ৩০টা হর্নবিম গাছ লাগানো হয়। এ ছাড়াও তার স্মৃতি রক্ষার জন্য ঘোড়াটির একটি রিয়েল সাইজ Statue তৈরি করা হয়, যেটা এখন কেন্টাকির স্টেট হর্স-পার্কে শোভা পাচ্ছে।

বাস্তবে দেখা যায়, মৃত্যুর পরও ক্রীড়ামোদী আমেরিকান মানুষের মন থেকে ‘ম্যান ও' ওয়ার’ একেবারেই বিস্মৃত হয়নি। সে মারা গেছে আজ থেকে প্রায় ৬৯ বছর আগে। Online সূত্রে পাওয়া এক হিসেবে দেখা যায় এ পর্যন্ত ৩০ লাখ লোক ঘোড়াটির কবর জিয়ারত করেছেন। গড় করলে বছরে প্রায় ৪০ হাজার ঘোড়া অনুরাগী মানুষ ‘ম্যান ও' ওয়ার’ এর সমাধি দেখতে আসেন। ঐতিহাসিক এই ঘোড়ার ওপর এ পর্যন্ত চার চারটা বই লেখা হয়েছে। যেমন, “Man o’ War”, by Page Cooper and Roger Treat (1950); “Man o’ War” by Walter Farley (2000); “Man o’ War: Thoroughbred Legends” by Edward L. Bowen (2006); “Man o’ War: A Legend Like Lightning”, by Dorothy Ours (2007).

এ ছাড়া আমেরিকার সিনেমা জগতেও আছে ‘ম্যান ও' ওয়ার’-এর উপস্থিতি। John Ford এর পরিচালনায় ΤKentucky PrideΥ এ আপনারা ‘ম্যান ও' ওয়ার’ কে দেখতে পাবেন। এ দেশের সাহিত্যেও ঘোড়াটির উল্লেখ পাওয়া যায়। কেন্টাকি বিষয়ে Sterling A. Brown এর বিভিন্ন কবিতায়, ‘ম্যান ও' ওয়ার’-এর প্রসঙ্গ বারবার ঘুরেফিরে এসেছে। আমেরিকার সংস্কৃতি জগতেও আছে তার অবদান। Joey DeMaio এর মতে, অন্যতম শ্রেষ্ঠ Heavy Metal Band “Manowar” এর নামকরণ হয়েছে এই রাজকীয় ঘোড়াটির নামেই। ‘ম্যান ও' ওয়ার’-এর মত সৌভাগ্য নিয়ে দ্বিতীয় কোনো ঘোড়া পৃথিবীতে জন্মেছে বলে আমার জানা নেই!


সওয়ারি পিঠে ‘ম্যান ও’ ওয়ার’ মাটিতে দৌড়চ্ছে নাকি হাওয়ায় উড়ছে বোঝাই মুশকিল!

‘ম্যান ও' ওয়ার’ কে রেস-ট্র্যাকে সরজমিনে আমি কখনো দৌড়তে দেখিনি এবং সে সুযোগও আমার ছিল না। বাস্তবে যা হওয়ার নয় তা কল্পনায় ভাবতে তো আর মানা নেই! ঘোড়াটি সম্বন্ধে যতটুকু পড়লাম এবং জানলাম তাতে আমি নিশ্চিত, সওয়ারি পিঠে ‘ম্যান ও' ওয়ার’ কে মাঠে দৌড়তে দেখলে উত্তেজনায় আর আনন্দে আমার শরীর মুক্ত প্রজাপতির মতন হাওয়ায় দুলত, আর পুলকিত মন আপনা থেকে গেয়ে উঠত:

‘সোনার বান্দাইল নাও,
পিতলের ঘোড়ারে, পিতলের ঘোড়া;
ও’ রঙের ঘোড়া, দৌড়াইয়া যাও......’



লেখক: আবু এন. এম. ওয়াহিদ; অধ্যাপক - টেনেসি স্টেট ইউনিভার্সিটি;
এডিটর - জার্নাল অফ ডেভোলাপিং এরিয়াজ; Email: wahid2569@gmail.com





Share on Facebook                         Home Page



                            Published on: 24-May-2017