bangla-sydney
bangla-sydney.com
News and views of Bangladeshi community in Sydney













কাহলিল জিবরান / আবু এন. এম. ওয়াহিদ



আগের অংশ


জিবরানের সৃষ্টিশীল বোস্টন-জীবনের শুরুতেই হঠাৎ একটা ছেদ পড়ে যায়। কী মনে করে বিশুদ্ধ আরবি শেখার জন্য তিনি ১৮৯৮ সালে ১৫ বছর বয়সে লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ফিরে গিয়ে ভর্তি হন মাদ্রাসাতুল হিক্কায়। সেখানে আরো কয়েকজন বন্ধুর সহযোগিতায় আরবি ভাষায় একটি সাহিত্য পত্রিকা সম্পাদনা করতে শুরু করেন। চার বছর পর আবার বোস্টনে ফিরে আসেন ১৯০২ সালের ১০ই মে। তার দুসপ্তাহ আগে, তাঁর বোন সুলতানা ১৪ বছর বয়সে যক্ষ্মা রোগে মারা যান। পরের বছর তাঁর ভাই পিটারও মারা যান একই রোগে। একই বছর জিবরানের মাও মারা যান ক্যান্সারে। (লক্ষ করার বিষয়, এখানে আরবি কবি জিবরানের জীবনের সঙ্গে বাঙালি কবি রবীন্দ্রনাথের এক ধরণের একটা অদ্ভুত মিল খুঁজে পাওয়া যায়।) তারপর তাঁর বোন মারিয়ানা সেলাইয়ের কাজ করে তাঁদের দুজনের সংসার চালাতেন। বৈরুত থেকে ফিরে এসে জিবরান, ফ্রেড ডে-র সাথে পুরো উদ্যমে পেইন্টিংয়ের কাজ আবার শুরু করেন। ১৯০৪ সালে তাঁর প্রথম চিত্র-প্রদর্শনী (of charcoal drawings) হয় বোস্টনে, ফ্রেড ডে-র স্টুডিওতে। এরপরই চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে চিত্রশিল্পী হিসেবে জিবরানের নামডাক। এই প্রদর্শনীতে জিবরানের সাথে প্রথম সাক্ষাত ও পরিচয় হয় মেরি এলিজাবেথ হ্যাস্কেলের। মেরি হ্যাস্কেল ছিলেন স্থানীয় একটি বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা। মেরির সাথে অচিরেই গড়ে ওঠে জিবরানের বন্ধুত্ব। মেরির আগ্রহে এক সময় এই সম্পর্ক বন্ধুত্ব থেকে প্রেমে গড়ায়, তবে প্রেম ছিল অনেকটা একতরফা। মেরি বিভিন্ন সময়ে জিবরানকে বিয়ে করতে চেয়েছেন, কিন্তু বার বার জিবরান তাঁকে ফিরিয়ে দিয়েছেন এই বলে, আমি বিবাহযোগ্য নই। তথাপি, মেরি হ্যাস্কেল নিজের টাকায় জিবরানকে দুবছরের জন্য প্যারিস পাঠিয়েছিলেন বিশ্ববিখ্যাত ফরাসী ভাস্কর ও চিত্রশিল্পী, অগস্ত রোদ্যাঁ-র (১৮৪০-১৯১৭) সাথে থেকে আর্ট শেখার জন্য। জিবরানের শিল্পী-জীবন ও তাঁর সফলতার ওপর মেরি হ্যাস্কেলের অবদান ও প্রভাব খুবই বেশি। জিবরানের প্রতি মেরির প্রেম পরিণতি না পেলেও তাঁদের মধ্যকার গভীর বন্ধুত্ব নিখুঁতভাবেই বহাল ছিল জিবরানের মৃত্যু পর্যন্ত। সম্পর্কটি কেমন ছিল? পড়ে দেখুন, জিবরান নিজে কী বলছেন:

'When I am unhappy, dear Mary, I read your letters. When the mist overwhelms the I in me, I take two or three letters out of the little box and reread them. They remind me of my true self. They make me overlook all that is not high and beautiful in life. Each and every one of us, dear Mary, must have a resting place somewhere. The resting place of my soul is a beautiful grove where my knowledge of you lives.'

জিবরানের প্রথম দিককার লেখা সবই আরবিতে। ইংরেজিতে তাঁর প্রথম বই দি ম্যাড ম্যান বের হয় ১৯১৮ সালে। ১৯২০ সালে তিনি নিউ ইয়র্কে সোসাইটি ফর এরাব রাইটার্স প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯২৩ সালে প্রথম বের হয় তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ, দি প্রফেট। জিবরানের অন্যান্য বইয়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল স্যান্ড অ্যান্ড ফোম, জিসাস, দি সান অফ ম্যান, ইত্যাদি।

১৯১২ সাল থেকে জিবরান বোস্টন ছেড়ে নিউ ইয়র্ক শহরে গিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস করা শুরু করেন। ১৯৩১-এর ১০ই এপ্রিল লিভার ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মাত্র ৪৮ বছর বয়সে নিউ ইয়র্কেই তাঁর জীবনাবসান ঘটে। জিবরানের শেষ ইচ্ছানুযায়ী তাঁর লাশ লেবাননের বির্শারি-র নিভৃত পল্লীতে নিয়ে সমাহিত করা হয়। জিবরানের কথামত, তাঁর এপিটাফে লেখা আছে, 'A word I want to see written on my grave: I am alive like you, and I am standing beside you. Close your eyes and look around, you will see me in front of you.'


আগের অংশ

লেখক: আবু এন. এম. ওয়াহিদ; অধ্যাপক - টেনেসি স্টেট ইউনিভার্সিটি;
এডিটর: দি জার্নাল অফ ডেভোলাপিং এরিয়াজ; Email: wahid2569@gmail.com




পুনশ্চ: এখানে আরেকটি ব্যাপার আপনাদেরকে না বলে পারছি না। এটা সরাসরি জিবরানের জীবন কিংবা জীবনীর সাথে সম্পর্কিত নয়, আবার এ লেখার জন্য একেবারে অপ্রাসঙ্গিক বলেও মনে করি না। লেখাটা শেষ করে আনার পর আমার ইংল্যান্ড প্রবাসী বন্ধু মাহবুব (শেফিল্ড শহরে থাকে) বলল, সে একদিন শেফিল্ড সেন্ট্রাল পাবলিক লাইব্রেরিতে গিয়ে কাহ্লিল জিবরানের দি প্রফেট বইটি খুঁজে পেয়েছে সেই শেল্ফে যেখানে রাখা হয় হজরত মুহাম্মদ (স:)-এর জীবনী-গ্রন্থ। তারপর সে লাইব্রেরির কর্মচারীদের অগোচরে নিজেই কয়েকবার দি প্রফেট অন্য শেল্ফে রেখে দেয়, এবং প্রতিবারই সে দেখতে পায় কিছু দিন পর বইখানা যথারীতি আবার জায়গা করে নেয় রসুলুল্লাহর (স:) জীবনীর পাশে; যদিও ইসলাম, ইসলামের ইতিহাস, হজরত মুহাম্মদ (স:) কিংবা তাঁর জীবনীর সাথে এর কোনোই যোগসূত্র নেই।

কৌতূহল বশত, আমিও আজ ন্যাসভিল পাবলিক লাইব্রেরিতে গিয়ে দেখলাম, জিবরানের দি প্রফেট শেল্ফে সাজানো হয়েছে অন্যভাবে। এখানে এটা রাখা হয়েছে জিবরানেরই অন্যান্য বই এবং আরো কিছু আরব লেখক - যেমন নাজিব মাহফুজ, আলা আল-আসওয়ানি, রাশেদ এল্-এনানি, হাফা জাঙ্গানা-র বইএর আশেপাশে। হজরত মুহাম্মদ (স:) এর জীবনী, এর ধারেকাছেও নেই। মাহবুব এবং আমার মতে, এটা হওয়াই স্বাভাবিক এবং প্রত্যাশিত।

এখন আমাদের প্রশ্ন, শেফিল্ড পাবলিক লাইব্রেরি বইটিকে দর্শন, সাহিত্য, জিবরানের অন্য বই, অথবা সমসাময়িক অন্যান্য আরব লেখকদের বই এর সাথে না রেখে, রসুলুল্লাহ (স:)-র জীবনীর সাথে কেন রাখে? এর কারণ যাই হোক না কেন, এখানে আমরা দুই বন্ধুর দৃষ্টিতে, শেফিল্ড লাইব্রেরি কর্তৃপক্ষের একটি মহানুভবতা ও একটি বিশ্বাসের বিষয় ধরা পড়ে। প্রথমত, মহানুভবতা বলছি এজন্য যে, তাঁরা হজরত মুহাম্মদ (স:)কে একজন প্রফেট-এর মর্যাদা দিয়েছেন বলেই জিবরানের দি প্রফেট-কে এভাবেই শেল্ফে রাখেন। দ্বিতীয়ত, জিসাস (আ:)-কে আমাদের মত প্রফেট না মনে করে তাঁরা গড ভাবেন বলেই তাঁর ওপর লেখা বইএর ধারেকাছে জিবরানের দি প্রফেট-এর জায়গা হয়নি। এটা নিতান্তই তাঁদের বিশ্বাসের বিষয়।





Share on Facebook                         Home Page



                            Published on: 3-Sep-2017