bangla-sydney
bangla-sydney.com
News and views of Bangladeshi community in Sydney












এই লিংক থেকে SolaimanLipi ডাউনলোড করে নিন



সবাই তো সুখী হতে চায়....
সুতপা বড়ুয়া



ফিরছিলাম কলকাতা থেকে বাজেট এয়ারলাইন্স AirAsia করে। হঠাৎ করেই ভাগ্নের বিয়ে উপলক্ষে মাস দেড়েকের ব্যবধানে আবার যেতে হলো বলেই বাজেট এয়ারলাইন্স এর খোঁজ করা হয়েছিল এবং অতীশ যখন উত্তেজিত হয়ে জানালো অর্ধেক দামে ঘুরে আসা যাবে তখন ঘুরেই আসবো ঠিক করলাম। এক তো বিয়ের মতো সামাজিক অনুষ্ঠান গুলোতে এবং বিশেষ করে যদি তা পারিবারিক হয়, তাহলে অনেকের সঙ্গে দেখা হয়ে যায়। উপরন্তু আমার প্রিয় জন্মভূমি কলকাতা বলে কথা!

বাজেট এয়ারলাইন্স এর অভিজ্ঞতার কথা আরেক সময় লিখবো। এন্টারটেইনমেন্ট এর অভাবে যখন তাদের inflight magazine '3Sixty Degrees' এর cover to cover পড়ে শেষ করছিলাম, দেখি একটা পাতায় লেখা আগামী ২০শে মার্চ নাকি International Day of Happiness! জাতিসংঘের যে সুখ এর জন্য এমন একটা বিশেষ দিন বরাদ্দ করা আছে, তাই তো জানতাম না। কিন্তু জানার পর থেকেই ভাবছি, সুখ জিনিষটা ঠিক কি? কিসে হয় সুখ? আমি কি সুখী? আমার জীবনটা একটা short film এর মতো চোখ বুলিয়ে দেখলাম। আমার প্রাপ্তির ঝুলি নেহাত কম ভরে নি। কিশোরী-বেলার tall , dark and handsome পছন্দের যুবকটিকে জীবন সঙ্গী হিসেবে পেয়েছি, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে মাঝারি এবং বড়ো মাপের চাকরিও করেছি। এক ছেলে, এক মেয়ে, নাতি-নাতনি নিয়ে সংসারও পরিপূর্ণ। যেকোনো মানদণ্ডে আমি যথেষ্ট 'সুখী' একজন মানুষ। কিন্তু তবু কি আমি পরিপূর্ণ সুখী?

অনেক ভেবে চিন্তে দেখলাম, সুখ বা happiness জিনিষটা যেহেতু একটা state of mind, একটা মানসিক অবস্থা, তাই আমি সুখী কিনা, বা সুখী হবো কিনা, এটা আমার ওপরেই নির্ভর করে। আমার ভাবনার এবং রিসার্চ এর ফসল টা এই ভেবে লিখছি, যদি একজনকেও তা কিছুটা সুখ এর খোঁজ দিতে পারে তাহলে মন্দ কি!

সুখ জিনিষটা কিন্তু আপনা আপনি পাকা ফলের মতো টুপ করে ঝরে পড়বে না। এর জন্য চেষ্টা করতে হয়। অনেকেরই ধারণা সুখী হওয়াটা ভাগ্যের ব্যাপার, কিন্তু সে বিতর্কে না গিয়ে সুখী হতে আমি, আপনি, প্রত্যেকে কিছু steps নিতে পারি। যদি আমরা সেই ছোট ছোট পদক্ষেপ গুলো নিতে পারি, আমরা অবশ্যই happier বা সুখীতর হবো

আসুন দেখি কি করা যায় সুখ পাখিটাকে পোষ মানাতে।

১) প্রথমেই বিশাল কোনো ব্যাপার করতে হবে না, ছোট খাটো দু'একটা ব্যাপার দিয়েই শুরু করি। আমাদের রোজকার জীবনে অনেক সময়ই আমরা একটু বে-হিসেবী হয়ে যাই। নানারকম কমিটমেন্ট এর দরুন অনেকসময় আমাদের রোজকার রুটিনের বারোটা বেজে যায়, নাওয়া খাওয়া, শোয়া/ জাগার নির্দিষ্ট সময়সূচী অনেক সময়ই আমরা মেনে চলি না। কিন্তু বিজ্ঞান বলে যে সামগ্রিক ভাবে 'ভালো' থাকার জন্যে এটা খুবই জরুরি যে আমরা পর্যাপ্ত পরিমাণে বিশ্রাম নেবো, অর্থাৎ অন্তত ৭/৮ ঘণ্টা ঘুমাব, এবং কখনই অনেকক্ষণ না খেয়ে থাকবো না।

২) আগে শুনেছি কোনোকিছু নিয়ে অসন্তুষ্টি থাকলে, সেটা অবশ্যই প্রকাশ করা দরকার, মানে কেন, কি নিয়ে আমার রাগ হয়েছে, সেটা যার জন্য হয়েছে, তাকে জানিয়ে তার একটা সুরাহা করে নেওয়া দরকার। নয়তো একদিন ছোট ছোট অনেকগুলো রাগ জমে অগ্নুৎপাত হতে পারে! কিন্তু আমি মনে করি, এটার এক্কেবারে উল্টোটাই আমাদের করা উচিত। কেন? বলছি, বলছি। রোজকার জীবনে কত শত খুঁটিনাটি ব্যাপারেই তো আমাদের মাথা গরম হয়। সে সব প্রত্যেকটা নিয়েই যদি আমরা ঘ্যান ঘ্যান করি এবং তাৎক্ষণিক সুরাহা চাই তাহলে কিন্তু জীবন হবে বিষবৎ। অকিঞ্চিৎকর অনেক কিছু যদি 'আনদেখা' করতে পারি, তাহলেই জীবন অনেক বেশি বর্ণীল হতে পারে।

৩) মন খারাপ হলে হাসির কিছু দেখুন, ভালো কিছু ভাবুন। কারো ওপর রাগ থাকলে, তার উপকার হয় এমন কিছু করার চেষ্টা করে দেখুন, তার এবং আপনার, দুজনের জন্যেই অভাবিত ভালো ফল বয়ে আনবে আপনার এই চেষ্টা। একবার করেই দেখুন না। আরেকটা কাজ করতে পারেন, নিজেকে তার জায়গায় নিয়ে ভাবুন কেন সে এমনটা করে থাকতে পারে, আমি নিজে এ জায়গায় থাকলেও কি তাই করতাম? এভাবে ভেবে আমি কিন্তু ভীষণ ভালো ফল পেয়েছি, আপনিও হয়তো পাবেন।

৪) নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ এর মোকাবিলা করুন। বের হয়ে আসুন 'থোড়, বড়ি, খাড়া আর খাড়া, বড়ি, থোড়' এর আবর্ত থেকে। নতুন কোথাও বেড়াতে যান, নতুন কারো সঙ্গে পরিচিত হোন, তবে যা ই করুন না কেন, আনন্দ পাওয়ার জন্যই করুন, এবং তার জন্য চাই 'সন্তুষ্টি'। যদি আপনি 'perfect' হতে চান, সুখ পাখি নাগালের বাইরেই থেকে যাবে। যা নেই, বা যা পারবো না, তার জন্য কষ্ট না পেয়ে, যা পেয়েছি, তার থেকেই 'ভালো' টুকু উপভোগ করুন। দেখবেন জীবন অনেক বেশি বর্ণীল মনে হবে। মনে রাখবেন, সন্তুষ্টি খুব বড়ো একটা গুণ এবং তা কখনোই কারো ব্যাঙ্ক ব্যাল্যান্স এর ওপর নির্ভর করে না, নইলে আন্তর্জাতিক জরীপে বাংলাদেশ কখনো 'Happiest Nation In The World ' এর খেতাব পেতো না। বিশ্বাস হচ্ছে না? ভাবছেন গুল দিচ্ছি? তো অধ্যাপক গুগল আছেন কি করতে?

৫) বিশ্বাস করবেন কিনা জানিনা, কিন্তু শারীরিক পরিশ্রম বা এক্সারসাইজ কিন্তু আমাদের মনকে আসলেই 'ভালো' করে দিতে পারে। এর পেছনেও বৈজ্ঞানিক যুক্তি আছে তবে যেটা বলে শেষ করবো, সেটা জানি সব্বার পছন্দ হবে! তবে তার আগে আর একটু ভণিতা: আমাদের মন চায় বিপদমুক্ত আশ্রয় এবং আপনজনের মনে অথবা পৃথিবীর কোথাও কারো মনের এক কোনায় আমাদের এতটুকু প্রয়োজনীয়তা আছে, সেটুকু জানা। এছাড়া আমরা প্রত্যেকেই চাই আমাদের জীবনের ওপর আমাদের কিছুটা নিয়ন্ত্রণ। নিছক টাকা পয়সা দিয়ে এসব কিছু পাওয়া না গেলেও, তা কিছুটা থাকলে যে খুব একটা মন্দ হয়না, সে ব্যাপারে নিশ্চয়ই সবাই একমত হবেন। তো সেই টাকা পয়সা দিয়ে সুখ কি 'কেনা' যায়? না, তা যায় না, তবে এমন কিছু নিশ্চয়ই কেনা যায়, যা আমাদের পারস্পরিক সম্পর্ক আরো মজবুত করতে পারে, যেমন টাকা পয়সা খরচ করে প্রিয়জনদের নিয়ে একটু একান্ত সময় কিন্তু আপনি কিনতেই পারেন। অথবা নিজের সুস্বাস্থ্যের জন্যও কিছু খরচ করা আপনাকে অন্তত অসুখী করবে না।

আমার এই সুখ খোঁজার লিস্টি মোটেই exhaustive নয়, কিন্তু যদি আপনি এতদূর কষ্ট করে পড়ে থাকেন, তাহলে অন্ততঃ আমার সেই কথাটার সঙ্গে একমত হবেন, যে সুখ এর চাবিকাঠিটা আছে আমাদের নিজেদেরই কাছে, ওটা কেবল 'এস্তেমাল' করতে জানতে হবে।

'বিশ্ব সুখ দিবসে' জগতের সকল প্রাণী সুখী হোক, এই কামনায় শেষ করছি।



সুতপা বড়ুয়া, সিডনি



Share on Facebook                         Home Page



                            Published on: 16-Mar-2017