bangla-sydney
bangla-sydney.com
News and views of Bangladeshi community in Sydney












সুন্দর ফন্টের জন্য SolaimanLipi ডাউনলোড করে নিন...

পচে ফুলে উঠেছে বাংলাদেশ
শাখাওয়াৎ নয়ন

২৮ মে ২০১৪ বাংলাদেশের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত থেকে বিজিবি সদস্যরা মিয়ানমারের সীমান্ত-রক্ষীদের গোলাগুলির মুখে পিছু হটে আসেন। ওই ঘটনায় বাংলাদেশের দায়িত্ব-রত সদস্যদের মধ্যে নায়েক সুবেদার মিজান নিখোঁজ হন। পরবর্তী সময়ে অধিক সংখ্যক সেনা নিয়ে বিজিবি সদস্যরা টহল পয়েন্টটিতে যান। সেখানে মিজানের মুঠোফোনের সেটটি খুঁজে পান কিন্তু মিজানকে খুঁজে পাননি। ঘটনাস্থলে তাঁরা লক্ষ করেন, রক্তের একটি ধারা বয়ে গেছে মিয়ানমারের দিকে। অতঃপর মিয়ানমারের সাথে উচ্চপর্যায়ে দেন-দরবার, যথারীতি পতাকা বৈঠক এবং মিজানের লাশ ফেরত এনেছেন। এসবই বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে আমরা জেনেছি। তাহলে এই ইস্যু নিয়ে লিখছি কেন?

মিয়ানমার ও বাংলাদেশের সীমান্ত সমস্যা মূলত রোহিঙ্গা ইস্যু ভিত্তিক। রোহিঙ্গা ইস্যুটি একই সাথে মানবিক, ধর্মীয় ও রাজনৈতিক। বাংলাদেশের মতো একটি ঘনবসতিপূর্ণ দেশের পক্ষে বছরের পর বছর লাখ লাখ বিদেশি শরণার্থীকে পালন করা অসম্ভব। তার পরও বাংলাদেশ তা করে যাচ্ছে। কিন্তু বিস্ময়ের বিষয় হলো, এ পর্যন্ত মিয়ানমারের সাথে বাংলাদেশের যতগুলো সীমান্ত সংঘাত হয়েছে, তার একটিও রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে হয়নি। তাহলে সীমান্ত সংঘাত হচ্ছে কেন?

নিকট অতীতে ২০০৯ সালের ১ এবং ২ অক্টোবর বাংলাদেশের বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম মিয়ানমারের সামরিক শক্তি-বিষয়ক বেশ কিছু সংবাদ গুরুত্বের সাথে ফলাও করে প্রকাশ করেছিল। ওই সময়ে প্রকাশিত খবরগুলোতে বলা হয়েছিল, মিয়ানমারের সামরিক শক্তির কাছে নাকি বাংলাদেশ এক দিনও টিকতে পারবে না। বিরাট বিপদ। তাহলে বাংলাদেশের রাজনীতির ময়দানে দেশটাকে ভারত নিয়ে গেল, দেশটাকে পাকিস্তান বানিয়ে ফেলল বলার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখে কেন? দেশটা মিয়ানমার নিয়ে গেল, তা-ও তো বলা উচিত।

নিশ্চয়ই আপনাদের অনেকেরই মনে আছে, (এক) ২০০৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসের শেষের দিকে কী ঘটেছিল? আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জলিল ইংল্যান্ডে গিয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে কিছু স্পর্শকাতর কথা ফাঁস করে দিয়েছিলেন। সরকারের অবস্থা তখন বিব্রতকর। ঠিক তখন বাংলাদেশের চিরকালীন জুজুর ভয় ভারত ও পাকিস্তানকে বাদ দিয়ে মিয়ানমারের সামরিক শক্তির ভয় দেখানো হয়েছিল। সংবাদ শিরোনাম থেকে আব্দুল জলিল ইস্যু বদলে গিয়েছিল। টক শোগুলোর ইস্যু পরিবর্তন হয়ে গিয়েছিল। (দুই) যখন জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তন করা হয়েছিল, বিএনপি উত্তাল আন্দোলনের ডাক দিয়েছিল। ঠিক তখনই পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়ি ও বাঙালিদের মধ্যে কে বা কারা সাম্প্রদায়িকতার আগুন লাগিয়ে দিয়েছিল। ফলে বিএনপির বিমানবন্দর ইস্যুটি ভেস্তে গেল। (তিন) এখনকার মিয়ানমার সীমান্ত সংঘাত কি সে রকমই একটি ঘটনা? মানুষের মনোযোগ অন্যদিকে ঘোরানোর চেষ্টা নয় তো?

কারণ সরকার হাল আমলে নারায়ণগঞ্জের সাত খুন নিয়ে ভয়াবহ বেকায়দায় পড়েছে, নারায়ণগঞ্জ সমস্যা কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই ফেনী হত্যাকাণ্ডে নাকাল। ইতিমধ্যে সরকার এটা-ওটা বলে জনগণের দৃষ্টি সরাতে চেষ্টা করেও সফল হতে পারেনি। এর মধ্যেই হঠাৎ মিয়ানমার সীমান্তে বিজিবি সদস্য মিজানের লাশ। কেউ যদি সন্দেহবশত বলে, এটা রাজনীতির পুরনো কৌশল। ভারত ও পাকিস্তানের সরকারগুলো বড় কোনো অভ্যন্তরীণ সমস্যায় পড়লেই সীমান্তে গোলাগুলি শুরু করে। দেশের মানুষ তখন সরকারের ব্যর্থতা ভুলে গিয়ে দেশ রক্ষার কথা ভাবতে থাকে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন যখন মনিকা লিউনেস্কি কেলেঙ্কারিতে জর্জরিত, রিপাবলিকানরা তাঁকে ইম্পিচমেন্ট করার চেষ্টা করছে। তখন যুদ্ধবিরোধী ক্লিনটনও সুদান ও ইরাকের বাগদাদে মিসাইল নিক্ষেপ করেছিলেন। একইভাবে, বাংলাদেশে যখনই কোনো সরকার কোনোভাবে বেকায়দায় পড়ে, তখনই বড় বড় সোনা চোরাচালান, অবৈধ অস্ত্র-চালান ধরা পড়ে। ভারতীয় কিংবা পাকিস্তানি নাগরিক বিপুল পরিমাণ বিদেশি মুদ্রাসহ ধরা পড়ে যায়। অন্য সময় ধরা পড়ে না কেন? অন্য সময় কি বাংলাদেশে এসব হয় না?

উল্লেখ্য, নায়েক সুবেদার মিজান একজন শহীদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা ল্যান্স কর্পোরাল আব্দুল হাফিজের সন্তান। মিজানের বাবা মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানিদের হাতে শহীদ হয়েছিলেন। আর তাঁর সন্তান মিজান শহীদ হলেন মিয়ানমারের সীমান্ত-রক্ষীদের হাতে। মিজানের মা রাবেয়া আক্তার এখনো বেঁচে আছেন। সত্যিই কি তিনি বেঁচে আছেন? দেশের জন্য তাঁর যে সন্তান জীবন দিয়েছে, সেই বীরের লাশ পচে গলে ফুলে দুর্গন্ধ ছড়িয়েছে, কেউ কাঁধে নিতে চায় নি। রক্তের ধারা বয়ে গেছে মিয়ানমারের দিকে।

বড় আক্ষেপের সাথে বলতে ইচ্ছে করে, সব দোষ শীতলক্ষ্যার। শীতলক্ষ্যা বড় বেইমান একটি নদীর নাম। কত কিছুই তো তোমার বুকে ডুবিয়ে রাখো, সামান্য কটি লাশ ডুবিয়ে রাখতে পারলে না? তুমি কি বলতে পারো, এরপর অন্য কোনো মিজানের কিংবা বাংলাদেশের রক্তের ধারা কোন দিকে যাবে? নাকি ইতোমধ্যেই দুর্গন্ধে ফুলে উঠেছে বাংলাদেশ? যে লাশ কেউ কাঁধে নিতে চায় না?


লেখক: কথাসাহিত্যিক, গবেষক, ইউনিভার্সিটি অব নিউক্যাসল, অস্ট্রেলিয়া।
ইমেইল: shakhawatnayon@gmail.com






Share on Facebook                         Home Page



                            Published on: 4-Jun-2014