bangla-sydney
bangla-sydney.com
News and views of Bangladeshi community in Australia













ধরা
মীর সাদেক হোসেন




হ্যাপি ওয়াইফ, হ্যাপি লাইফ। আচ্ছা, আন হ্যাপি হাজবেন্ড হলে তাহলে কি?
আশেপাশের দোকানগুলোতে লাঞ্চ করতে আসা অফিসিয়াল গেট-আপের নারী-পুরুষের দিকে তাকিয়ে কথাগুলো ভাবতে থাকে ফয়সাল।
করোনা ভাইরাসের তাণ্ডবে পুরো শহরটাই যেন বোবা হয়ে গিয়েছিল। রাস্তায় গাড়ি চলার শব্দ ছিল না, পার্কে-শপিং সেন্টারে মানুষের কোলাহল ছিল না।
লক-ডাউন শিথিল করে দেওয়ার পর থেকে আবার সব খুলতে শুরু করেছে। শহরটাও তার বাকশক্তি ধীরে ধীরে ফিরে পাচ্ছে।

মোবাইলে মেসেজ চেক করল ফয়সাল। না, নতুন কোন মেসেজ নেই।

একটা আন-নোন নাম্বার থেকে ফয়সালের কাছে সপ্তাহ দুয়েক হল মেসেজ আসছে। প্রথম প্রথম পাত্তা দেয়নি। প্রথমে ভেবেছিল কোন বন্ধু হয়তো বেনামে মজা করছে। তবে এতদিন ধরে বেনামে মেসেজ দেওয়ার মতো ধৈর্য ফয়সালের কোন বন্ধুর নেই।

তারপর ভেবেছিল জয়া তাকে কলার আইডি লুকিয়ে মেসেজ দিচ্ছে। রসহীন দাম্পত্য জীবনে যেখানে কথা বলাই দিন দিন কঠিন থেকে কঠিনতর হয়ে উঠেছে সেখানে জয়া বেনামে মেসেজ পাঠিয়ে রহস্য করবে। ফয়সালের তা মনে হয়নি।

বেনামে পাঠানো মেসেজের প্রেরক একজন পুরুষও হতে পারে আবার নারীও হতে পারে। তবে মেসেজ লেখার ধরণ দেখে ফয়সালের মনে হয়েছিল মেসেজ প্রেরক একজন নারী। মেসেজ প্রেরকই একটা ভয়েস মেসেজ দিয়ে ফয়সালের অনুমান সত্য প্রমাণ করছিল। অনুমান সত্য প্রমাণিত হওয়ার পর থেকে ফয়সালের মনে হল সে যেন এক ঘেয়ে, পানসে, গতিহীন জীবনে নতুন করে গতি ফিরে পেয়েছে। মেসেজে মেসেজে ভাব-বিনিময়ের পর আজ সশরীরে দেখা করবে বলে মেসেজের প্রেরক মেসেজ রেখেছিল। তাই ফয়সাল অপেক্ষা করছে।

হঠাৎ ফোন বেজে উঠল। ফয়সাল তাড়াতাড়ি ফোন কানে নিয়ে হ্যালো বলল। ওপাশ থেকে ফয়সালের সুপারভাইজার রিচার্ড সৌজন্যমূলক ভাব-বিনিময় শেষে বলল, তুমি কি অফিসে ফেরার আগে ইস্টউডের সাইটটা ঘুরে আসতে পারবে?
ফয়সাল মনে মনে বলল, ফোন করার আর টাইম পেলি না। আমি ইস্টউডের সাইটটাই ভিজিট করতে এসেছি। মিথ্যেটাকে সত্যের মতো বলল ফয়সাল।

ও থ্যাংক ইউ সো মাচ। অফিসে ফিরলে কথা হবে, বলে রিচার্ড ফোন রেখে দিল।

ফয়সাল ফোন ছড়াতেই দেখল গোটা আটেক সাধারণ আর স্পেশাল পুলিশ স্কোয়াডের গাড়ি এবং অ্যাম্বুলেন্সে ফয়সাল যেখানে বসে অপেক্ষা করছিল তার সামনের রাস্তাটা ঘিরে ফেলল।
পুলিশের একজন মাইক দিয়ে সব ক্যাফে, রেস্টুরেন্ট বন্ধ করে দিতে বলল এবং জনসাধারণকে ঘিরে ফেলা জায়গাটার বাইরে দ্রুত সরে যাবার নির্দেশ দিল।

ফয়সাল একজন পুলিশকে জিজ্ঞেস করে জানতে পারল অবস্থা ভয়াবহ। পুলিশ একটা হোস্টেজ সিচুয়েশন ইনভেস্টিগেট করতে এসেছে।
সবার সাথে ফয়সালও ওই জায়গা থেকে দূরে সরে এল। যার জন্য এত রোমাঞ্চ, এত অপেক্ষা, আজ কি দেখা হবে? বলে মেসেজ পাঠাল ফয়সাল। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর মেসেজের রিপ্লাই না পেয়ে উদাস মনে রওনা দিল অফিসের উদ্দেশ্যে।




তোমার দিন কেমন কাটল? বিছানায় শুয়ে ম্যাগাজিনের পাতা উল্টোতে উল্টোতে জিজ্ঞেস করল জয়া। চোখে মুখে ক্লান্ত ক্লান্ত ভাব নিয়ে ফয়সাল বলল, আর বলো না, সাইট ভিজিট, দুটো মিটিং, টেন্ডার অ্যাসেসমেন্ট একদিনেই সব করতে হলে। লাঞ্চেই বেরুতে পারিনি। তোমার কেমন কাটল?
এই তো গেল আর কি।
ওটা কি তোমার নতুন ফোন? ফয়সাল জয়ার স্মার্ট-ফোনের দিকে ইশারা করে বলল।
হুম, আগের ফোনটা আজ সকালে হাত থেকে পড়ে গিয়েছিল। তারপর থেকে আর কাজ করছে না। অফিস শেষ করে ফোন নতুনটা আনতে গিয়েছিলাম।

জয়া রিডিং গ্লাস আর ম্যাগাজিনটা বেড সাইড টেবিলে রেখে বিছানা থেকে উঠে দাঁড়াল। বলল, আমি ব্রাশ করে শুয়ে পড়ব। তুমি কি আরও জাগবে নাকি?
না আমিও শুয়ে পড়ব। প্রচণ্ড টায়ার্ড লাগছে।

বাথরুমে ঢুকে দরজা ভিড়িয়ে দিল জয়া। ফয়সালকে আন-নোন নাম্বার থেকে মেসেজ পাঠাল, সরি, আজকে আসতে পারিনি। জরুরী একটা কাজে আটকে গিয়েছিলাম। আর মোবাইল ফোনটা কাজ করছিল না, তাই মেসেজ দিতে পারিনি। আপনি কি এসেছিলেন?

টিং করে শব্দ হতেই ফয়সাল মেসেজ চেক করতে মোবাইল ফোনটা হাতে নিল। উত্তর দিল, এসেছিলাম তো। হঠাৎ পুলিশ এসে পুরো রাস্তাটাই লক-ডাউন করে দিল। তাই আর অপেক্ষা করতে পারিনি। চলে আসতে হয়েছিল।

ফয়সালকে এমন হাতে-নাতে ধরতে পারায় জয়ার আনন্দ হওয়ার বদলে বিশ্বাস ভঙ্গের আশংকায় তল পেটে সুর সুর করতে লাগল।

বাথরুম থেকে এসে দেখল ফয়সাল উল্টো দিকে মুখ দিয়ে শুয়ে। সুর সুর করে নাক ডাকছে, তবে ঘুমিয়ে কিনা তা বোঝা গেল না। জয়াও ফয়সালের উল্টো দিকে মুখ করে শুয়ে পড়ল। ঘুমহীন চোখে সাত-পাঁচ ভাবতে লাগল।

এই জগতের নারীরা রহস্য তৈরি করতে ভালবাসে, কিন্তু নিজেরা রহস্যে জড়িয়ে গেল আর সহ্য করতে পারে না।

ফয়সাল মেসেজে লিখল, আপনি কি জেগে?

মেসেজটা পাঠানো মাত্রই জয়ার মোবাইলে টিং করে শব্দ করল।





মীর সাদেক হোসেন, সিডনি, অস্ট্রেলিয়া





Share on Facebook               Home Page             Published on: 11-Apr-2021

Coming Events: