bangla-sydney
bangla-sydney.com
News and views of Bangladeshi community in Sydney












শোহান এবং নিম্মির গল্প
আহমেদ সাবের



-১-

সন্ধ্যা সাতটা। যায়গাটা ফার্ম গেট। তেজগাঁ কলেজের সামনে।

আড্ডা জমে উঠেছে কয়েকজন যুবকের। বিষয় - সাকিবের তিন ম্যাচ ব্যান। ফলাফল, এশিয়া কাপ থেকে বাংলাদেশের বিদায়।

সাকিব ওই বস্তু দেখানোর আর সময় পাইলো না।

ও একা কি করবো? আর দশ জন কি মাঠে নাইমা আঙ্গুল চুষছে? হালাগোর পাছায় আইচ্ছা কইরা লাত্থি দেওন দরকার।

ওদের দোষ কি? তামিম নাই, আশরাফুল নাই ......।

আর কিছু না। সব ষড়যন্ত্র। বাংলাদেশ রে ক্রিকেট থেইকা বাদ দিবার লাইগা তিন কৌটিল্যের ষড়যন্ত্র।

তর্ক জমে উঠে।

এই ছেলেরা। পুব রাজাবাজার কোন পথে যাব বলতে পার?

ওদের আড্ডায় বাধা পড়াতে সবাই বিরক্ত হয়। তার উপর আবার ছেলে!

শালা, আমাগো তো বাপ আছে, শ্বশুর নাই। জামাই কইতে পারস না? ফিস ফিস করে বলে একজন। সোনার চান আবার স্যুট-কোট ফুটাইতে আসছে।

শোহান বলে, তোরা চালাইয়া যা। আমি এই সাহেবরে রাস্তাটা দেখাইয়া আসি। সবাই মাথা নিচু করে নীরবে হাসে। কারণ ওরা জানে, লোক জনকে ভুল রাস্তা দেখিয়ে দেওয়াতে ওর জুড়ি নেই। ওটা একটা বিরাট মজার খেলা।

কই যাইবেন স্যার?

পূর্ব রাজা বাজার। এই ঠিকানায়। লোকটা একটা কাগজ বের করে।

ঠিকানা দেখানো লাগবো না স্যার। একটা স্কুটার ধইরা দিতাসি। ওইখানে যাইয়া যে কাউরে ঠিকানা দেখাইলে এক্কেবারে বাসায় পৌঁছাইয়া দিবো। এই স্কুটার, চাচারে মোহাম্মদপুর টাউনহলে লইয়া যাও। কইয়া দিলাম, ভাড়া বেশী নিবানা কিন্তু।

ফিরে এলে সবাই এক বাক্যে বলে উঠে, কোথায় পাঠাইলি?

মোহাম্মদপুর টাউন হল।

আরেক দফা হাসির ঢেউ উঠে। এবার শব্দ করেই।


-২-

সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা। নিম্মির ফোন।

কোথায় তুমি? কি কর?

মেস নামক হাবিয়া দোজখ ছাড়া আর কোথায়? কি আর করুম। ভেরেণ্ডা ভাজি। ডিস্টার্ব কর ক্যান। কাইলকা মহীব স্যারের এসাইনমেন্ট জমা দেওন লাগবো। স্যার কইছে, নো হ্যাঙ্কি প্যাঙ্কি । এখন ছাড়ি।

না না, ছাড়বানা কইলাম।

বন্ধুরা ইঙ্গিতে ডাকে। এশিয়া কাপের সব খেলায় হারার জন্য সিদ্দিকের বাসায় কান্না পার্টি। ওর বাবা মা বেড়াতে ব্যাঙ্কক গেছে। এই সুযোগে সেখানে হাবিজাবি খাওয়া হবে; পাপন মিয়ার কুশ-পুত্তলিকা দাহ করা হবে। খরচ সিদ্দিকের। সেদিকে তাকিয়ে শোহান বলে।

তুমি কি আমারে ফেল করাইবা? তুমিই তো কইছো, নো পাশ, নো নিম্মি।

আইজকার লাইগা কথাটা উইড্র করলাম।

না না, সময় নাই। ছাড়লাম।

এক মিনিট পর আবার নিম্মির ফোন।

শুন নাই, দেশে জরুরী ব্যবস্থা জারী করা হয়। তোমার উপর আইজকা থেইকা অনির্দিষ্ট কালের জন্য জরুরী ব্যবস্থা জারী করা হইলো। গোল্লায় যাক মহীব স্যারের এসাইনমেন্ট। কথা শুন লক্ষ্মীটি । বেশ জরুরী কথা।

তাড়াতাড়ি কও। ব্যাপার কি?

তোমারে না গতকাল কইছিলাম, মামা আইছে।

(সর্বনাশ, কইছিলো তো। এক্কেবারে ভুইলা গেছি - শোহানের স্বগোতুক্তি) । আসছে, ভালো হইছে। তাতে আমার কি?

তোমার লগে দেখা করতে আসবো। তোমারে না কইছিলাম, আইজকে বাসায় থাকনের লাইগা।

(হায় হায়, কইছিলো তো। শালার ক্রিকেট, তোর খেতা পুড়ি। - শোহানের স্বগোতুক্তি)। থুক্কু, ভুইলা গেছি জানু। আমি তো বাসাতেই। তবে দারুণ ব্যস্ত। এসাইনমেন্টটা আজকে শেষ করনই লাগবো। মামারে একটু কাইলকা আসতে বইলা দাওনা, প্লিজ। আচ্ছা না হয় ওনারে আমার সাথে ফোনে কথা কইতে কও। আমার ফোন নাম্বার দিয়া দেও।

না না। উনি সামনা সামনি কথা কইতে চায়। আর তুমি তো বাসায়ই আছ। মামা তোমার বাসার দিকে রওয়ানা হইছে। শুন, ওনার হ্যাঁ-না 'র উপর আমাদের ভবিষ্যৎ।

আমি যামুনা রে। নিম্মির মামা আসবো আমার লগে দেখা করতে।

আইলে আইবো। আইজকা দেখা না হইলে কাইলকা আইবো। না হইলে পরশু আইবো। পরশু না হইলে পরেরদিন আইবো। পার্টিতো আর বইসা থাকবো না।

আমারে নিম্মি লবণ-মরিচ না দিয়া এক্কেবারে কাঁচা খাইয়া ফালাইবো রে।

হায়রে গরু। তোরে গরু ভাবতাম। থুক্কু, উইথড্র করলাম। আইজ থেইকা তুই ভেড়া। ভেঁ ভেঁ ভেঁ। সবাই সমস্বরে ডেকে উঠে।


-৩-

রাত আটটা। সিদ্দিকের বাসায় সবাই জড়ো হয়েছে। মেস থেকে বন্ধু হায়দারের ফোন।

তুই কই। এক ভদ্রলোক তোর সাথে দেখা করতে আসছে।

আমিতো আটকা পইড়া গেছি রে। ভদ্রলোকরে কাইলকা আইতে ক।

তোর লগে নাকি জরুরী কথা আছে। শিগগির আয়।

কি মুশকিল! আইচ্ছা, আইতাছি দোস্ত। ভদ্রলোকরে একটু চা-বিস্কুট দে।

(ধুর, পার্টি বড় না নিম্মি বড়। এইসব হাবিজাবি ফালাইয়া যাই কি কইরা? নিম্মিরে কাইলকা একটা বুজ দিলেই চলবো। - শোহানের স্বগোতুক্তি)।

সিদ্দিক বোতল থেকে তরল বস্তু গ্লাসে ঢেলেছে মাত্র। সবাই গ্লাস হাতে চিয়ার্স বলার অপেক্ষায়। নিম্মির ফোন।

তুমি কই?

বাসায়, আর কই।

তয় মামা যে কইলো তুমি বাসায় নাই।

থুক্কু, একটু বাইরে আইছি। পড়তে পড়তে মাথা ধরলো। দোকানে যাইতাছিলাম টেবলেট আনতে। এক গাড্ডু পায়ের উপর দিয়া ট্রাক চালাইয়া দিছে।

হায় আল্লা! কও কি? ট্রাক? তোমাগো ওই চিপা গলিতে?

ঠিক ট্রাক না। তবে কম কি। টেম্পুর পুরা চাকা পায়ের উপর দিয়া চইলা গেছে। এখন ডিসপেনসারিতে বইসা আছি ডাক্তার সাবের কিউতে।

আমি আসুম?

না না তোমার আসা লাগবো না।

কিন্তু মামা যে তোমার মেসে বইসা আছে। যেভাবে পার, ওনার লগে একটু দেখা করন লাগবো। কাইল দুপুরে ওনার ফ্লাইট। মা ওনারে পাঠাইছে নিউইয়র্ক যাওনের আগে তোমার লগে দেখা কইরা আমাগো ব্যাপারে ওনার ফাইন্যাল মতামত দিতে। ওনার কথাতেই আসামীর মুক্তি অথবা যাবজ্জীবন। (দুইটাই তো যাবজ্জীবন। - শোহানের স্বগোতুক্তি)। লক্ষ্মীটি, খোঁড়াইয়া যাইয়া হইলেও একটু দেখা কর। বেশী দুর তো না। (পাগল! কোথায় পুব রাজাবাজারে আমার মেস আর কোথায় শ্যামলীতে সিদ্দিকের বাসা? - শোহানের স্বগোতুক্তি)। ডাক্তারের কাছে না হয় পরে আবার গেলা। সবে তো সন্ধ্যা।

তোমার মামারে একটু বসতে কও। আমি পা টা এক্সরে করাইয়া বাসায় যাইতাছি। এক্সরে করান দরকার। কথায় কয়না - সাবধানের মাইর নাই।

বেবী ট্যাক্সি করে বাসার সামনে এসে জানালা দিয়ে ভদ্রলোকের চেহারা দেখেই বিরাশী সিক্কা ওজনের ধাক্কা খায় শোহান। খাইছে আমারে! যাকে মোহাম্মদপুর পাঠিয়েছিলো, উনিই মূর্তিমান শোহানের বিছানায় বসে। ঘরে আর ঢুকা হয়না। কয়েকটা বাসা পরে ইমনদের বাসা। সেখানে গিয়ে ইমনকে পাকড়াও করে। ওকে সব বুঝিয়ে বলে। ওকে সাথে নিয়ে এসে বাসার সামনের জালালের চা দোকান থেকে হায়দারকে ফোন করে।

কিরে তুই কই।

চুপ! চুপ! একটু জালালের দোকানে আয়। জলদি!

হায়দার আসে।

দোস্ত, তোরে পরে বুঝাইয়া কমুনে। আপাততঃ ইমনকে লইয়া যা। ও আমার রোলে একটু প্লে করুক।


-৪-

পরদিন সকাল ন'টা। নিম্মির ফোন।

কি ক্লাসে যাইবানা?

এইতো রেডী হইতাছি। দশটায় ক্লাস।

পায়ের খবর কি?

কোন পা? ও হ্যাঁ। ও ও ... হ্যাঁ, মোটামুটি ভালো। ডাক্তার ব্যান্ডেজ কইরা দিছে। এক্সরের রিপোর্ট আইজ দিবো।

আমি এখন আসুম?

না না। আমি তো ক্লাসে যাইতাছি। মহীব স্যারের এসাইনমেন্ট জমা দেওন লাগবো।

এসাইনমেন্ট করছো?

করলাম সারা রাইত জাইগা। ক্লাসের পর দেখা কইরো।

আমি এখনি আসি। তোমার পায়ের এই অবস্থা। একলা কি কইরা যাবা? আমি সাথে থাকলে হেল্প হইবো।

না না। তোমার বাসাবো থেইকা কষ্ট কইরা এতদূর আওন লাগবো না।

আমি তো আইসাই গেছি। তোমার বাসার সামনে। এখন বেবী ট্যাক্সি থেইকা নামতাছি।

............ ব্যান্ডেজ কই।

ঘুম থেইকা উইঠা দেখি ব্যথা নাই। তাই খুইলা ফালাইছি।

ব্যথা আছে?

মনে হয় নাই।

তা হইলে চিন্তা নাই। মামার সাথে কী আলাপ হইছে?

মামার সাথে? ও হ্যাঁ, মামার সাথে। অনেক কিছু নিয়াই তো হইলো। তোমারে ক্লাসের পর কমু। চল যাই।

তোমার ক্লাস আজকে বাতিল। মনে নাই, জরুরী অবস্থা চলতাছে।

আমার মহীব স্যারের এসাইনমেন্ট।

কই আমারে দেখাও তো এসাইনমেন্টটা।

দেখামু কি কইরা? সিদ্দিক সহ একসাথে সারারাত জাইগা এসাইনমেন্ট করলাম। হে লইয়া গেছে কপি করনের লাইগা। শালার চোতা মারার অভ্যাস আর গেলোনা।

তা হলে তো ভালোই হইলো। ওরে ফোনে কইয়া দাও জমা দিয়া দিতে। এখন তাড়াতাড়ি রেডী হও।

রেডী? ক্যান?

আমার লগে এয়ারপোর্ট যাওন লাগবো।

এয়ারপোর্ট!

হ এয়ারপোর্ট। মনে নাই আইজ দুপুরে মামা চইলা যাইবো। মামারে সী-অফ করতে যামু।

(খাইছে আমারে! কি গ্যাঞ্জামে যে পড়লাম। এবার বাঁচি ক্যামনে? - শোহানের স্বগোতুক্তি )। পায়ের ব্যথাটা মনে হয় আবার ফিরা আসতাছে।

ব্যাস হইছে। আর কোন কথা না। বলছি না, জরুরী অবস্থা চলতাছে?

একটু টয়লেটে যাওন দরকার।

এয়ারপোর্টে টয়লেট আছে। তাড়াতাড়ি রেডী হও। না হইলে মামাকে ধরন যাইবো না। তোমারে না কইছি, ওনার রিপোর্টের উপর আমাগো ভবিষ্যৎ। পাঁচ মিনিট সময় দিলাম। ইঊর টাইম ষ্টার্টস নাউ।

(হায়রে হায়! কি জাঁদরেল মহিলা। বিয়ের পর আমার জীবনডা ছ্যারা ভ্যারা কইরা দিবো। - শোহানের স্বগোতুক্তি )। ও কে ম্যাম। ডাবল ও কে ম্যাম।


-৫-

বেবিট্যাক্সি। এয়ারপোর্টের পথে।

জান, মামা ছোটকালে দারুণ ডানপিটে আছিলো।

(আল্লাহ, গাড়ীটার ইঞ্জিন বিকল কইরা দেও। - শোহানের স্বগোতুক্তি)। হু।

মামার বিয়ের ঘটনাটা বলি। মামার এম বি বি এস পরীক্ষার পর বেড়াইতে গেছে বোনের বাসায়, মানে আমার রেবু খালার বাসায়। পাড়ার পোলাপাইনগো লগে ক্রিকেট খেলতে যাইয়া বলে এমুন মাইরই মারলো, বল আর যাওয়ার যায়গা পাইলোনা; পড়লো গিয়া পাশের বাসার অন্দর মহলের বারান্দায় বসা থাকা হবু মামীর মাথায়। মাথা ফাইটা রক্তারক্তি কান্ড। ডাক্তার-হাসপাতালে দৌড়াদৌড়ি।

এর পর মামা কি করলো, জান?

(করলো আমার মুন্ডু। - শোহানের স্বগোতুক্তি)। হু।

পরদিন সকালে মামা হাজির পাশের বাসায়। হাতে একটা চৌষুট্টি পৃষ্টার নতুন খাতা। খাতাটা হবু মামীর পায়ের কাছে রাইখা সেই যে সেখান থেইকা পলাইলো, ফেরত গেলো এক্কেবারে বরের পোষাক পইরা। খাতা খুইলা দেখা গেলো, প্রতি পাতায় এক'শ বার কইরা লেখা, আই এম সরি। সর্বমোট ছ হাজার চার 'শ বার; এক রাত্রে লেখা।

(আল্লাহ, রাস্তায় হেভি যানজট লাগাইয়া দেও - শোহানের স্বগোতুক্তি)। হু।

আমাগো বাবা মারা যাওনের পর মামার কাছে আমরা মানুষ। মামা বিদেশ চইলা গেলেও আমাগো সংসারের সব দায়িত্ব মামার। মা পারলে অনেক আগেই আমাগো দুই বইনেরে বিদায় করেন। ( করলে তো ভালোই হইতো। তা হইলে তোমার খপ্পরে পড়নের হাত থেইকা বাঁইচা যাইতাম। - শোহানের স্বগোতুক্তি)। মামা জোর কইরা আমাগোরে পড়াইতাছেন। বলছেন, এম এ পাশ না করার আগে নো বিবাহ। মামা ডাক্তার; প্রতিবছর দেশে আসেন অনেক ওষুধ আর যন্ত্রপাতি লইয়া। গ্রামে একটা ফ্রি ক্লিনিক চালান নিজের খরচে।

(সুখে থাকলে ভুতে কিলায়। কী দরকার আছিলো কষ্ট কইরা দেশে আসার? দেশে না আসলে তো আমার এমন বিপদে পড়তে হইতো না - শোহানের স্বগোতুক্তি)। হু।

কি হু হু করতেছ? কাইল মামার সাথে কি আলাপ হইলো বললানা তো।

(আমি কি কইরা জানি? ইমন হারামজাদারে জিজ্ঞাস করলাম। হালায় কয় ভুইলা গেছে - শোহানের স্বগোতুক্তি)। বেশী কিছুনা। রাইত হইয়া গেছিলো তো। আর আমি কইলাম, আমার এসাইনমেন্ট করন লাগবো। শুইনা মামা তাড়াতাড়ি চইলা গেলেন।

এমন প্যাঁচার মত মুখ কইরা কথা কইতাছ ক্যান?

মহাখালী ফ্লাই-ওভারের উপর দারুণ যানজট। দেখে স্বস্তি পায় শোহান।

দারুণ মজার মানুষ তোমার মামা। বিদেশের বহুত গল্প করলো। আমার পড়াশুনার কথা জিজ্ঞাস করলো। জেকশন হাইটের বাংলাদেশীগো গল্প শুইনা হাসতে হাসতে আমার পেট ব্যথা হইয়া গেলো।

মামা তোমার গোঁফের খুব প্রশংসা করলো। আমি কই, কি কন মামা। ওর তো গোঁফই নাই। বুঝলাম না, মামা গোঁফ দেখলো ক্যামনে? হি হি হি।

(সর্বনাশ! হারামজাদা ইমন্যা। তোরে গোঁফ রাখতে বলছে কেডা? তোর গোঁফে আমি যদি আগুন না দেই, আমার নাম শোহান না। - শোহানের স্বগোতুক্তি)। হা হা হা। মামা বোধ হয় মজা করছে।

হো হো হো। গিট্টু লাইগা গেছে। মামারে বোধ হয় আর ধরা গেলোনা।

এতে খুশীর কি হইলো?

(তুমি বুঝবা কি কইরা, আমার ক্যান এত খুশী লাগতাছে? - শোহানের স্বগোতুক্তি)। খুশী হইলাম কই?

হ্যালো, কিরে নিম্মি, তোরা কোথায়?

মামা, আমরা জ্যামে আটকাইয়া ছিলাম। ফ্লাইওভারে একটা এক্সিডেন্ট হইছে। এক্ষুনি জ্যাম পার হইলাম। আর বেশীক্ষণ লাগবো না।

আমি আর থাকতে পারতেছিনারে। আর দেরী করলে ফ্লাইট মিস হবে। কি আর করা। আমি ইমিগ্রেশানে যাচ্ছি। এয়ারপোর্টে এসে কল দিস। শোহানের সাথে তখন ফোনে কথা হবে।


-৬-

এয়ারপোর্ট লোকে লোকারণ্য। ওরা ক্যাফেটেরিয়ায় উঠে আসে। ভাগ্য ভালো কোনার দিকে একটা নিরিবিলি টেবিল পেয়ে যায়।

মামা, আপনি কই?

আমাদের প্লেনের বোর্ডিং হচ্ছে। আমি লাইনে আছি। শোহানকে দে।

দিলাম মামা। ধরেন।

আস্লামালাইকুম মামা।

ওয়ালাইকুম সালাম। এটা মোচওয়ালা না মোচহীন শোহান?

(ধরা পইড়া গেলাম। যা থাকে কপালে। এখন আর পিছানোর উপায় নাই। - শোহানের স্বগোতুক্তি)। মামা, আমি মোচহীন আসল শোহান। ( আবার গোঁফ, ব্যাপার খানা কী? নিম্মির স্বগোতুক্তি)।

সেটা তোমার মেসের টেবিলে তোমার ছবি দেখেই বুঝেছিলাম, ডালমে কুচ কালা হ্যায়। বুঝতে পারছিনা, আমাকে ফার্মগেটের কোনে একটা ছেলে রাস্তা দেখিয়ে দিয়েছিলো; তার সাথে তোমার ছবিটার কেমন যেনো একটা মিল আছে।

সরি মামা। ফার্মগেটের কোনে যে ছেলেটা আপনাকে ভুল রাস্তা দেখিয়ে দিয়েছিলো, সেটা আমিই। আই এম রিয়েলি সরি মামা। (ফার্ম গেটে ভুল রাস্তা - ঘটনাটা কি? নিম্মির স্বগোতুক্তি)।

হো হো হো। সরির কিছু নাই। আর, আমি কিন্তু মোহাম্মদপুর যাইনি। আরেকটা লোককে জিজ্ঞেস করবার পরেই সে ঠিক রাস্তা দেখিয়ে দিলো। তোমার ডামি ইমন কিন্তু প্রথমেই ধরা খেয়ে গেলো। বললো, সে আসল শোহান না। হো হো হো। ছোট কালে আমিও তোমার চাইতে কম দুষ্ট ছিলাম না। পরে শুনো সে সব গল্প। সময় তো হাতে বেশী নেই। কি রিপোর্ট দিলাম শুনবেনা?

মামা, আপনার সাথে যে ব্যাবহার করেছি, এর পর ভালো তো কিছু আশা করতে পারিনা। তবু যদি দয়া করে বলেন...।

হ্যাঁরে বোকা ছেলে। এক আধটু দুষ্টামি না করলে জীবনটা তো পানসে হয়ে যায়। আর রিপোর্টের কথা - পরম করুণাময় যেখানে রিপোর্ট লিখে রেখেছেন, আমার সাহস কি সেখানে আঁচড় কাটি? ..... শুন, লাইন কেটে যাচ্ছে। ...... নিম্মির দিকে খেয়াল রেখো। ..... আমার বড় আদরের ভাগ্নি। তাকে ছোটকাল .......লাইন কেটে যায়।

সিডনী, মার্চ ১৩-১৬, ২০১৪



Share on Facebook                         Home Page



                            Published on: 17-Apr-2014