bangla-sydney
bangla-sydney.com
News and views of Bangladeshi community in Sydney












এই লিংক থেকে SolaimanLipi ডাউনলোড করে নিন



আবিলা, আচারজিৎ ও থমাস
(আমার হাঁটার সাথী)

রিয়াজ হক



২০০৩ সালে পাকাপাকিভাবে অস্ট্রেলিয়া চলে আসি। আসার ছ’বছর পর ২০০৯ সালে দেশে যাই। দেশ থেকে ফেরার পরপরই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ি। নানা পরীক্ষা নিরীক্ষার শেষে আমার সবচেয়ে নাজুক বলে বিবেচিত coronary artery র একটিতে Stent বসানোর পর পাঁচদিন হসপিটালে কাটিয়ে বাসায় ফিরি। এর পরবর্তী চার সপ্তাহ হসপিটালের Rehabilitation Centre এ প্রতিদিন সকালে এক ঘণ্টার জন্য যেতে হত। এটা স্বেচ্ছামূলক। এতে প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাস, ব্যায়াম, মন-মানসিকতায় positive attitude এর ব্যাপারে অতিথি বক্তৃতা ও বিভিন্ন কর্মশালায় হাতে-কলমে অংশ নিয়েছি। তারপর থেকে প্রতিদিন নিয়ম করে হাঁটার শুরু।

সিডনির ঋতুকে, আমার বিবেচনায় মোটা দাগে দু’ভাগে ভাগ করা যায়; শীত ও গ্রীষ্ম। এখানে শীতের শুরু এপ্রিল/মে তে; স্থায়ী হয় সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত। গ্রীষ্মের শুরু সেপ্টেম্বর/অক্টোবরে; স্থায়ী হয় মার্চ/এপ্রিল পর্যন্ত। শীতে দিন ছোট; এতই ছোট যে সন্ধ্যা হয় (বিকেল) পাঁচটায়। গ্রীষ্মে দিন বড়; এতই বড় যে সন্ধ্যা হয় (রাত্রি) আটটায়। এর অবশ্য বড় কারণ হল বছরে দু’বার নিউ সাউথ ওয়েলসের (সিডনি যার রাজধানী) ঘড়ির কাটা ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। এটাকে এরা বলে daylight savings। একবার এপ্রিলে মাসের প্রথম রোববার ঘড়ির কাটা একঘণ্টা পেছনে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। আবার অন্যবার অক্টোবরে ঐ মাসের প্রথম রোববার ঘড়ির কাটা এক ঘণ্টা সামনে এগিয়ে আনা হয়। একটি জাতির ভেতরে শৃঙ্খলা ও নিয়মানুবর্তিতা যে কতটা প্রখর তা বোঝা যায় কি নিঃশব্দেই না আট লক্ষ দশ হাজার বর্গ কিলোমিটারের প্রায় পচাত্তুর লক্ষ নিউ সাউথ ওয়েলস-বাসী যার যার দায়িত্বে বিনা শোরগোলে এই কাজটি করে থাকে।

এতগুলো কথা এজন্য বললাম যে শীতে আমার হাঁটার সময় সকালে, যেহেতু কাজ শেষে বাসায় ফিরতে ফিরতে সন্ধ্যা। গ্রীষ্মে বিকেলে, যেহেতু বিকেল অনেক বড়। আমি যে মাঠটিতে হাঁটতে যাই তার নাম ‘Doyle Ground’ (এরা বলে ডোয়েল গ্রাউন্ড। ‘ডোয়েল’ একজনের নাম। কিন্তু আমরা, এখানের বাঙালীরা বলি ‘দোয়েল গ্রাউন্ড’); আমার বাসা থেকে প্রায় পাঁচশ মিটার দূরে। ৭.৬ হেক্টরের বিরাট মাঠ ও এক কিলোমিটারের Concrete Walking/Running Path সহ Exercise Equipments ও শিশুদের খেলার পার্ক নিয়ে এই ‘Doyle Ground’। গত আট বছরে এখানে হাঁটতে হাঁটতে, একই মুখ বারবার দেখতে দেখতে অনেকের সঙ্গেই বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছে। আজ তাদেরই তিন জনকে নিয়ে আমার গল্প।



আবিলাঃ বয়স চল্লিশের ঊর্ধ্বে, মাথায় হিজাব, উপরে ঢিলে ঢালা ফুল স্লিভ টি শার্ট, জিনসের প্যান্ট, পায়ে Nyke র running shoe, বা হাতে কানে ধরা Iphone এ অনর্গল আরবিতে কথা বলছে; কখনও দৌড়াচ্ছে কখনও বা হাঁটছে এরকম যাকে আপনি এ মাঠে সকালে/বিকেলে প্রতিনিয়ত দেখতে পাবেন তার নাম আবিলা। আবিলা শব্দের অর্থ ‘সুন্দর ও স্বাস্থ্যবান’; এটা আবিলাই আমাকে বলেছে। আমি ভাবি কি করে জন্মের মুহূর্তেই তার বাব-মা এ অর্থের সুদূর প্রসারী সত্যতা টের পেয়ে গিয়েছিলেন! আবিলার জন্ম লেবাননে। ১৯৮০ সালে গৃহযুদ্ধে উত্তপ্ত লেবানন থেকে বাঁচার তাগিদে পরিবারের সাথে তার অস্ট্রেলিয়ায় আসা; তখন তার বয়স ছিল সাত। সে বলছিল, ১৯৭৫ সালে লেবাননের মেরোনাইট খ্রিস্টিয়ান নেতা পিয়েরে জামাইল কে হত্যার উদ্দেশ্যে অজ্ঞাত আততায়ীর আক্রমণের মাধ্যমে প্যালেস্টাইন মুসলিম ও খ্রিস্টিয়ানদের মধ্যে গৃহযুদ্ধের সূত্রপাত হয়। এ গৃহযুদ্ধ ১৯৯০ সাল পর্যন্ত স্থায়ী হয়। একসময় মেরোনাইট, দ্রুজ, প্যালেস্টাইন, শিয়া-সুন্নি মুসলিমদের শান্তিপূর্ণ সহবস্থানে শিক্ষায়, সংস্কৃতি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে লেবানন ছিল মধ্যপ্রাচ্যের এক আদর্শ স্থানীয় রাষ্ট্র। ধর্মীয় উন্মাদনা ও বিদ্বেষ, ইহুদি রাষ্ট্রের আগ্রাসী আচরণ ও সাম্রাজ্যবাদীদের চক্রান্তে লেবানন ঐ সময়টায় নরককুণ্ডে পরিণত হয়। প্রায় ১ লক্ষ ২০ হাজার লোক প্রত্যক্ষ–পরোক্ষ হত্যাকাণ্ডের স্বীকার হয়।

আবিলার পড়াশুনা এ দেশেই। বর্তমানে চাকুরী করছে একটি Multinational Company তে HR Consultant হিসেবে। দু’সন্তানের মা সে। বড় ছেলেটির বয়স প্রায় ১৪; নাম আতাজাজ, ছোটটি ১২; নাম আইবাক। এ দু’ছেলেকেও মাঝে মাঝে মায়ের সঙ্গে দৌড়াতে দেখি। একদিন জিজ্ঞেস করলাম, “তোমার husband কে কখনোই দেখিনা যে, সে কি তোমার মত স্বাস্থ্যের ব্যাপারে সচেতন না”? জবাবে সে বলল, “তোমার শরীর ও মন স্রষ্টার দেওয়া এক অবিশ্বাস্য নিয়ামত। এ শরীর ও মন তোমার সর্বোচ্চ পরিচর্যা চায়। কুখাদ্য-অখাদ্য ও অতি-খাদ্য খেয়ে আমারা যেমন আমাদের শরীরকে, তেমনি হিংসা বিদ্বেষ ও ঈর্ষার লালন ও চাষে মনকে অসুস্থ করে তুলেছি। এখন কথা হল, তুমি যদি ‘না চাইতে পাওয়া’ এ নিয়ামতকে না বুঝ, অস্বীকার বা অবহেলা কর তাহলে তাকে করুণা করা ছাড়া আর কি করা যায়! এ থেকেই তোমার প্রশ্নের উত্তর বুঝে নাও”।

একদিন আমি বললাম, “তোমাদের কমিউনিটির ভেতর মেয়েরা খুব কমই এরকম স্বাস্থ্য সচেতন, এর কারণ কি বলে তোমার মনে হয়”? সে বলল, “শুধু আমার কমিউনিটির নয়, যদি বল মধ্যপ্রাচ্য ও তোমাদের ভারতীয় উপমহাদেশের পুরো নারী জাতিই এই দলে। কারণ হল পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা, প্রকৃত শিক্ষার আলোয় মহিলাদের পিছিয়ে থাকা ও অর্থনৈতিক ভাবে তাদের দুর্বল অবস্থান। তুমি নিশ্চয়ই জান আমাদের নবীর প্রথম স্ত্রী বিবি খাদিজা সে সময়কার ধনাঢ্য ব্যবসায়ীদের একজন ছিলেন। বিবি আয়েশা (রাঃ) উটের পিঠে ও সুলতানা রাজিয়া ঘোড়ার পিঠে চড়ে যুদ্ধ করেছেন। আর আমরা এ যুগে দৌড়াতেও ভয় পাচ্ছি। কারণ আমরা ইতিহাস ও আমাদের মর্যাদার খবর রাখি না। আমাদের পবিত্র গ্রন্থ কোরআন তো আমার (মাতৃ) ভাষায় লেখা; আমি কয়েকবার পড়েছি। এতে নারী জাতিকে যে সম্মান দেওয়া হয়েছে, স্ত্রীপুরুষের পরস্পরের প্রতি যে হকের কথা বলা হয়েছে তা যদি আমরা সঠিক ভাবে মেনে চলি তাহলে আমাদের কোন সমস্যাই হওয়ার কথা নয়। হয় আমরা বুঝি কম অথবা ভাল করে কিছুই পড়ে দেখি নাই। তোমরা পুরুষেরা গোয়ারের মত কেবল অযাচিত অন্যায় চাপিয়ে দিয়ে তোমাদের পৌরুষত্ব জাহির করতে চাচ্ছ। যাক, অনেক কথা বলে ফেললাম, তুমি কিছু মনে করো না”। আমি বললাম, “তোমার কথায় দ্বিমত করার মত তো কিছু খুঁজে পাচ্ছি না”।

আবিলা বলল, তার ভুবন গড়া তার সংসার, তার চাকুরী, দু’ছেলে, বই, ক্লাসিক্যাল আরবি সঙ্গীত আর বাসার বাগান যেখানে ফুটে থাকে হরেক রঙ ও গন্ধের অসংখ্য গোলাপ।


আচারজিৎঃ ভারতীয় পাঞ্জাবী ও বাঙ্গালী মায়ের ছেলে আচারজিৎ। যেমন জানেন হিন্দি, উর্দু, পাঞ্জাবী ও বাংলা তেমনি জানেন ইংরেজি, ফ্রেঞ্চ ও স্প্যানিশ। বাবার চাকুরী সূত্রে ভারতের বড় বড় রাজ্য ও শহর যেমন ঘুরেছেন তেমনি নিজের পড়াশুনা ও চাকুরীর জন্য চষে বেড়িয়েছেন আমেরিকা ও ইউরোপের বহু দেশ। পেশায় ছিলেন chartered accountant। বয়স এখন প্রায় আশি ছুঁই ছুঁই। প্রতিদিন নিয়ম করে হাঁটেন, পরিমিত খান, হাসি-গল্প, গানে-কবিতায় বেঁধেছেন জীবনের ছন্দ। নিজেকে দাবী করেন ‘বিশ্ব নাগরিক” হিসেবে। তাঁর ধর্ম একটাই “মানবতা”; বন্ধুত্ব যার প্যাশন। দু’বছর ধরে তাকে দেখছি প্রায় প্রতিদিন। রোদ, ঝড়, বৃষ্টি কেউ “Doyle Ground” এ হাঁটতে না এলেও আচারজিৎ ঠিকই আসবেন। ক্লান্তিহীন, সদা হাসি মুখ, সুখী সুখী আচারজিৎ। অস্ট্রেলিয়ায় তার দু’মেয়ে থাকেন; পালা করে দু’জনের কাছেই থাকছেন। নাতিনাতনিরাও অনেক বড়; সব বিশ্ববিদ্যালয় শেষ করার পথে। তারপরও তাদের নিয়ে তাঁর হাসি-আনন্দ ও গল্পের শেষ নেই।

প্রথম দেখাতেই কিভাবে জানিনা, আমাকে বাংলাতেই সম্বোধন করে বলেছিলেন, “কেমন আছেন?” আমি চমকে উঠেছিলাম। একে তো বয়স্ক ব্যক্তি, তারপর পরিষ্কার বাংলায়! বললাম, “ভাল আছি, আপনি ভাল তো?” উনি হেসে বললেন, “আপনি বাংলাদেশের তাই না?” আমি অবাক হয়ে মাথা নাড়লাম। উনি বললেন, “নিজের সঙ্গে নিজেই বাজী ধরেছিলাম, তা হল আপনি বাংলাদেশের বাঙ্গালী, এটা যদি ঠিক না হয় তা হলে আমার এ আশি বছরের জীবনে মানুষ চেনাই ভুল। আর ভুল হলে শাস্তি হিসেবে বরাদ্দ ছিল দু’মাইল বেশী হাঁটা। আপনি তা থেকে আমাকে বাঁচিয়ে দিলেন”। বলে হাঁসতে লাগলেন। একদিন কথা প্রসঙ্গে বললেন, পাঞ্জাবের অমৃতসর ও দিল্লীতে পৈত্রিক সম্পত্তি হিসেবে পাওয়া দু’দুটো বাড়ি অচ্ছুত/দলিতদের সহ সমাজের অনগ্রসর মানুষের কল্যাণে কাজ করে এমন স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানের নামে উইল করে দিয়েছেন। ব্যাঙ্কে জমানো টাকা থেকে চলছে জীবনের বর্তমান দিনগুলো। মেয়েদের কাছে থাকলেও মাসে দু’দিন নিজের পয়সায় সবার জন্য বাজার করেন। নানা পর্ব ও অনুষ্ঠান উপলক্ষে মেয়ে-জামাই, নাতিনাতনিদের উপহার কিনে দিতে ভুলেন না। বললেন, “কারো গলগ্রহ না হয়ে নিজের শক্তিতে বলিয়ান হওয়াই জীবনের মুক্তি। সবসময় তাই নারী পুরুষ নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষের উচিৎ নিজের জন্য কিছু সঞ্চয় করে রাখা, এ তার বিপদের দিনের বা শেষ বয়সের সাথী”।


থমাস ও মেরীঃ প্রায় বছর খানেক ধরে দেখছি এ দেশীয় (ককেশিয়ান) এক যুবক (অনুমান করি বয়স পঁচিশ/ছাব্বিশের বেশী নয়) সমবয়সী এক তরুণী, যার বাঁ হাত ছেলেটির কাঁধ ও গলা জড়িয়ে ধরা আর ডান হাতের পুরো ভর ওয়াকিং সটীকের উপর; খুব সন্তর্পণে, হাঁটি-হাঁটি পা-পা করে ধীরে ধীরে সারা মাঠ ঘুরে আসছে।

চার বছর আগের কথা; দু’জনেও তখন নিউক্যাসেল ইউনিভার্সিটির দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। একটি Music Festival এ Voluntary Work করতে যেয়ে দু’জনের পরিচয়। প্রথম দেখাতেই ভালোলাগা ও সেই সাথে ভালোবাসার শুরু। থমাসের ভাষায় তখনকার প্রতিটি দিন ছিল মধুময়। বাতাসের শব্দে ছিল হাসির গুঞ্জন। গাছের পাতায় ছিল জীবনের সপ্ত-বর্না রঙ। পাখীর কাকলীতে ছিল মন উতাল করা সঙ্গীতের সৌরভ। এর ছ’মাসের মাথায় এক মর্মান্তিক গাড়ি দুর্ঘটনায় মেরী পঙ্গু ও পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়ে। তার কোমর থেকে পা পর্যন্ত প্রায় অসাড় হয়ে যায়। ডাক্তাররা আশা ছেড়ে দিয়েছিল। থমাসের ভাসায়, “আমার ভালোবাসার শক্তিতে আমি ওকে সারিয়ে তুলতে চাইছি”। মেরী ছ’মাস এক হসপিটালে ও তিন বছর এক Rehabilitation Centre এ থেকে নানা Physiotherapy Session এর মাধ্যমে আজকের এ অবস্থায় এসে পৌঁছেছে।

সবচেয়ে বড় কথা হল, মেরীকে পুরো সময় ধরে দেখা ও শুশ্রূষার জন্য থমাস দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে, পড়শুনা ত্যাগ করে একটি চাকুরী নিয়ে নেয়। আত্মীয়-স্বজন বন্ধু-বান্ধব সহ অনেকের অনেক জিজ্ঞাসা ও ভ্রূকুটি অগ্রাহ্য করে ছ’মাসের মাথায়ই হসপিটালে শয্যাশায়ী মেরীকে বিয়ে করে ফেলে। আমি বলি, “তোমার এরকম সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ কি শুধুই ভালোবাসা?” থমাস হাসতে হাসতে বলে, “আসলে অমরত্ব; আমি মেরীতে অমর হয়ে থাকতে চাই”। আমি বিস্ময়ে ওর দিকে তাকিয়ে থাকি। থমাস বলে, “তোমার সাথে মজা করছিলাম। তবে যদি সিরিয়াসলি বলতে বল তাহলে বলি, ধর এই পৃথিবীর জন্মলগ্ন থেকে তোমার আমার মত অগণিত মানুষ এসেছে আবার চলেও গেছে। একদিন, ধর পঞ্চাশ-ষাট বছর পর এই Doyle Ground এ তুমি, আমি কেউ থাকব না, থাকবে অন্য মানুষ। তাহলে প্রশ্ন হল, তুমি-আমি এই পৃথিবীকে কি দিয়ে গেলাম! আমার উত্তর হল, অন্তত মেরীর মত একজনের জন্য আমি আমার জীবন উৎসর্গ করে গেলাম। এটাই আমার এ পৃথিবীতে বেঁচে থাকার সার্থকতা। আমি একক স্রষ্টায় বিশ্বাসী। কোনদিন আমি বিধাতার দেখা পেলে হয়ত বলতে পারব, তোমার প্রিয় সৃষ্টি এক মানবীর জন্য আমি আমার জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সময়গুলো দিয়ে এসেছি। এখন বিচার তোমার হাতে”।

পুনশ্চঃ এদের তিনজনকে নিয়ে লেখার কারণ হল, সামারে দিন বড় হয়ার পর বিকেল করে হাঁটছি, তাও প্রায় তিন সপ্তাহ হল। কিন্তু অনেক পরিচিত মুখের ভিড়ে এখন পর্যন্তও এই তিনটি মুখ অনুপস্থিত। তাহলে, আবিলা কি লেবানন গেছে বেড়াতে যেমন সে যায় প্রতি দু’বছর অন্তর! আচারজিৎ বেঁচে আছেন তো! থমাস কি বাসা বদল করে চলে গেছে অন্য কোন suburb এ!



রিয়াজ হক, সিডনি




Share on Facebook                         Home Page



                            Published on: 16-Nov-2017