bangla-sydney
bangla-sydney.com
News and views of Bangladeshi community in Sydney












এই লিংক থেকে SolaimanLipi ডাউনলোড করে নিন



“আমার মাকে আমি কোনদিন” ও
“উদ্ভট উটের পিঠে”

রিয়াজ হক

পরের অংশ




“Jewel da, pls let me know by tomorrow morning. 18th May is the flight from Sydney at 13:05, reaching Dhaka on d same day at 23:59. Departing Dhaka on 2nd May at 02:05, reaching Sydney on d same day at 19:30. Have to pay by tomorrow before 4 PM”. এই ছিল আমার খালাত বোন সোমা’র ৯ই এপ্রিলে পাঠানো টেক্সট। আমি সন্ধ্যার আগেই সোমাকে জানিয়ে দিলাম, “Buy my ticket please. Pay you later”.

গত বছর প্রায় একই সময়ে আম্মা’র অসুস্থতার খবর শুনে আমি ঢাকা গিয়েছিলাম। তাহলেও পুরো এক বছরও হয়নি এর মধ্যে আম্মা আবারও অসুস্থ হয়ে প্রায় শয্যাশায়ী। পাঁচ/ছ বছর ধরে আম্মার পারকিনসন্স তার সাথে উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস মিলে তাঁকে খানিকটা কাবু করে রেখেছে। তবে তাঁর শরীরের ব্যাপারে একটা বিষয় নিশ্চিত যে Liver, Heart, Kidney ও Brain এর মত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলি এখনও একজন পূর্ণ বয়স্ক মানুষ হিসেবে চলাফেরার জন্য মোটামুটি ভাবে সচল। এটা দেশে বিদেশে নানা পরীক্ষা নিরীক্ষায় বারবার প্রমাণিত হয়েছে।

এবারে যা খবর পেলাম, Parkinson’s (তথা সারা শরীরের অনিয়ন্ত্রিত কাঁপুনি) বেড়ে যাওয়ার কারণে গত ৩১ শে মার্চ আমার immediate ছোট ভাই, যে নিজেও একজন ডাক্তার, আম্মাকে Lab Aid এর ডাক্তার “এ” এর কাছে নিয়ে যান। গেলেই যা হয়, এক গাদা Investigation এর পর উনি মতামত দেন যে আম্মার এ সমস্যার মূল কারণ কিডনি। উনার ‘Electrolyte Imbalance’ এর কারণে কাঁপুনি বেড়েছে, Parkinson’s জন্য নয়। Parkinson’s জন্য ঔষধ যা দেওয়া আছে (Perkinol, Amantrel, Codopa) তা ঠিকই আছে।

ডাক্তার “এ” এর প্রথম পরামর্শ মত উনাকে নিয়ে যাওয়া হয় Square হাসপাতালের কিডনি’র বিশেষজ্ঞ ডাক্তার “ও” এর কাছে। উনি আবার ‘নিয়ম মাফিক’ “Urine Culture” ও কিডনি’র আনুষঙ্গিক কিছু পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে দেন। আম্মার ‘UTI infection’ এই প্রমাণের ভিত্তিতে উনি ‘Nitrofuration’ ট্যাবলেট Prescribe করেন।

ডাক্তার “এ” এর দ্বিতীয় পরামর্শাণূ্যায়ী BSMU এর Cardiologist ডাক্তার “এস” এর কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। উনি আম্মার শরীরে পটাশিয়াম বেশী থাকার কারণে, Electrolyte balance এর জন্য Spirocard নামের আগের ঔষধ বাদ দিয়ে Fusid নামের নতুন একটি ঔষধ Prescribe করেন। যে ঔষধটির পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হিসেবে Nausea/Vomiting এর কথা স্পষ্ট ভাবে বলা আছে।

এ দু’পর্ব শেষ হওয়ার পর আমার ডাক্তার ভাই পুনরায় ডাক্তার “এ” এর কাছে যান ও তাকে বিশেষ ভাবে জিজ্ঞাসা করেন যে “ডাক্তার “ও” ও ডাক্তার “এস” এর মতামতের ভিত্তিতে রোগীর ব্যাপারে আপনার আর কোন Suggestion আছে কি না”। উনি বলেন, “ঔষধ সব ঠিকই আছে, এ ভাবেই চলবে”। এটা ৮ই এপ্রিলের কথা। ১০ই এপ্রিল হঠাৎ করে আম্মার বমি শুরু হয়। এটা বাড়তে থাকলে আম্মাকে খুব দ্রুত এ্যাম্বুলেন্সে করে পান্থপথের একটি প্রাইভেট হাসপাতালে নেওয়া হয়।

যা হোক, ১১ ও ১২ই এপ্রিল তাঁকে কার্যকর চিকিৎসা না দিয়ে একরকম ফেলে রাখা হয়। ১০ই এপ্রিল সন্ধ্যায় ভর্তির চার/পাঁচ ঘণ্টা পর তাকে Stemetil Injection দিয়ে দু’দিন পর থেকে Salaine চালু করা হয়। ইতিমধ্যে বমি বন্ধ হয়ে গেলে আমার ডাক্তার ভাই মেডিসিনের স্বনাম খ্যাত প্রফেসর, আম্মাকে যিনি দেখছিলেন, তাকে বলেন, “স্যার, আম্মার তো বমি বন্ধ হয়ে গেছে, অন্য সমস্যাও দেখছি না, এখন বাসায় নিয়ে যাই”। উনি উত্তরে বলেন, “উনার পুরোপুরি Stable হতে আর কয়েকটা দিন থাকা দরকার”।

এমনি পরিস্থিতিতে ১৮ই এপ্রিল দিন শেষে রাত একটায় (হিসেব মতে ১৯শে এপ্রিল) আমি ঢাকা যেয়ে পৌঁছাই। সেই রাতেই কলাবাগানে বাসায় যাওয়ার পথেই আমি হসপিটালে যেয়ে আম্মাকে দেখি। উনি ঘুমহীন, কিছুটা অস্থির; দৃষ্টি অসংলগ্ন ও সুদূর অতীত-মুখী বলে আমার মনে হচ্ছিল। আম্মাকে দেখার পর উনার স্বাভাবিক আবেগ কিছুটা রুদ্ধ ও বিভ্রান্ত বলেও আমি অনুভব করি।

পরদিন ১৯শে এপ্রিল বৃহস্পতিবার আমি সকাল সকাল হসপিটালে যাই। আমি আম্মার কানের কাছে মুখ নিয়ে খুব সন্তর্পণে জিজ্ঞাসা করি, “আম্মা আপনি কি আমাকে চিনতে পেরেছেন, বলেন তো আমি কে”? আম্মা বলেন, “জুয়েল”। একটু থেমে আমার আসল নামের পুরোটাই বলেন। এমন কি আমার ছেলে মেয়েদের নাম ধরে ওরা কেমন আছে তাও জিজ্ঞাসা করেন। কিন্তু তারপরও তাঁর দু’চোখে আমি বিষাদ ও বিভ্রান্তির চিহ্ন লক্ষ্য করি। এই ছিল আম্মার সঙ্গে এ যাত্রায় আমার প্রথম ও শেষ কথা।

ইতিমধ্যে তাকে যে Antibiotic Injection টি দেওয়া হচ্ছিল তা হল ‘Ceftipime’। সে সম্পর্কে পরে বলছি।

১৯ তারিখ বিকেল থেকেই আম্মার সারা শরীর মাথা থেকে পা পর্যন্ত অস্বাভাবিক ভাবে কাঁপতে শুরু করে। ২০ ও ২১শে এপ্রিল তাঁর কাঁপুনি প্রচণ্ড রকম বেড়ে যায়; নিদ্রাহীন-অসংলগ্ন কথা-বার্তা বলতে থাকেন। এ অবস্থায় ২১শে এপ্রিল তাঁকে ‘Deprex’ নামের একটি ঔষধ দেওয়া হয়। যা মূলত Schizophrenia বা Mental illness এর কারণে দেওয়া হয়ে থাকে। এতে করে তিনি ঘুমিয়ে যান ঠিকই, কিন্তু তাঁর কাঁপুনি বন্ধ হয় না। পরদিন এটা পরিবর্তন করে ‘Halopid’ নামের আরেকটি ঔষধ দেওয়া হয়। যে ঔষধটি প্রধানত Psychotic Disorder বা Mania র কারণে ব্যবহৃত হয়। ‘Halopid’ এর প্রভাবে তিনি একরকম অচেতন অবস্থায় চলে যান। মুখে খাওয়া বন্ধ হয়ে যায়। কথা তো ‘Deprex’ এর পর থেকেই বন্ধ। তবে তাঁর শরীরের উপরের অংশের কাঁপুনি বন্ধ হলেও দু’পা তখনও অনবরতই কাঁপছিল। এ পরিস্থিতিতে আমরা চার ভাই ও নিকট স্বজনেরা যার পর নাই উদ্বিগ্ন ও চিন্তিত হয়ে পড়ি।

২২শে এপ্রিল রোববার, আমার ছোট ভাইয়ের শ্যালিকা, যে নিজেও একজন চিকিৎসক ও ঢাকার একটি নামী বেসরকারি হাসপাতালে কর্মরত সে আম্মাকে দেখতে এসে হতভম্ব হয়ে যায়। তার পরামর্শ অনুযায়ী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আম্মার নাক দিয়ে ‘Rice Tube’ প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে তাঁকে খাওয়ানোর ব্যবস্থা করে। প্রায় তিন দিন তিনি মুখ দিয়ে খাবার খেতে পারছিলেন না। এতে শারীরিক ভাবে তিনি দুর্বল হয়ে গাছের ঝড়ে পড়া পাতার মতই বিছানায় অসহায় পড়েছিলেন। এমন কি এ সময় একজন ডিউটি-রত নার্স আমার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী কে বলছিলেন, “আপনারা উনার (আম্মার) পাশে চেয়ার নিয়ে বসে দোয়া দরুদ-পড়ুন”।

এ হেন অবস্থায় ২৩শে এপ্রিল প্রফেসর সাহেব Round এ এলে আমরা কিছুটা ক্ষুব্ধ ও সোচ্চার হয়ে উঠি। আমি বলি, “উনার তো কোন Progress দেখছি না। Medical Board বসাতে হলে বসান”। আমার সব ছোট ভাই, যে প্রথম থেকেই ২৪ ঘণ্টা আম্মাকে ছেড়ে কোথাও যায়নি, সে বলে, “আর কারও কোন advise নিতে হলে নেন”। আমার ডাক্তার ভাইয়ের স্ত্রী যে নিজেও ডাক্তার, সে বলে, “স্যার, আমরা চাই ডক্টর দ্বীন মোহাম্মদ স্যার (নিউরো মেডিসিনের) উনাকে দেখুক”। তখন সেই প্রফেসর সাহেবের মুখ কিছুটা ম্লান হয়ে যায়। উনার সাথে থাকা একজন সিনিয়র ডাক্তার বলেন, “উনাকে তো এ মুহূর্তে পাওয়া যাবে না”। আমরা সমস্বরে বলি, “কালকে হলেও উনাকে ডাকুন”।
পরদিন ২৪শে এপ্রিল সকাল সাতটায় ডক্টর দ্বীন মোহাম্মদ আম্মাকে দেখতে আসেন। উনি এসে আম্মার পায়ের একটি আঙ্গুল ধরেই বলেন, “এটা তো Parkinson’s নয়, এটা Seizure”.

‘Ceftipime’ নামের যে Antibiotic টি আগে থেকে চলছিল, তার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার ব্যাপারে স্পষ্টভাবে বলা আছে, easy bleeding, uncontrollable movement, seizure, trouble speaking ইত্যাদি. তারপরও ডক্টর দ্বীন মোহাম্মদ আসার আগে পর্যন্ত পূর্ববর্তীরা কেন তা বুঝতে অক্ষম হলেন বোঝা দায়।ডক্টর মোহাম্মদ Prescribe করলেন Iracet Injection. এ Injection প্রয়োগের ১২ ঘণ্টার মধ্যে আম্মার সারা শরীরের কাঁপুনি পুরোপুরি থেমে গিয়ে একজন স্বাভাবিক রোগে ভোগা মানুষ হিসেবে পুনরায় ফিরে আসেন।

এরপরও আমার ডাক্তার ভাই বলে প্রবীণ প্রফেসর কে বুঝিয়ে আট দিনের মাথায় ‘Ceftipime’ বন্ধ করে দিতে সক্ষম হয়। প্রফেসর সাহেবের ইচ্ছে ছিল ওটা দশ দিন ধরে চালানোর।

২৬শে এপ্রিল ‘Rice Tube’ এ খাওয়ানোর পর পর কাশী হওয়ায় ও কাশীর সাথে বমি আকারে খাবার বের হওয়ার কারণে হাসপাতাল কর্তৃক খাবার বন্ধ করে দেয়া হয়। এ ভাবে চব্বিশ ঘণ্টা পার হওয়ার পর আমার ডাক্তার ভাইয়ের প্রচেষ্টায় আবার তা পঞ্চাশ এমএল করে (নির্ধারিত একশ এমএল এর পরিবর্তে) চালু করা হয়। কাশী আম্মার বহু পুরনো রোগ। এটা খাবারের আগে পরে মাঝে মাঝেই হচ্ছিল। এর সাথে বমির কোন সম্পর্ক নাই বলেই আমার ভাইয়ের বিশ্বাস। একে কেন্দ্র করে খাবার বন্ধ রেখে রোগীকে আবার দুর্বল করার ব্যাপারে তার প্রবল আপত্তি ছিল।



পরের অংশ





Share on Facebook                         Home Page



                            Published on: 15-May-2018