bangla-sydney
bangla-sydney.com
News and views of Bangladeshi community in Sydney












সুন্দর ফন্টের জন্য SolaimanLipi ডাউনলোড করে নিন...

বিচ্ছেদের অনলে
ডঃ রতন কুন্ডু


নীলাচলে কিশোরীর লাল ফিতার মত ম্রিয়মাণ অস্তগামী সূর্যের শেষ আভা বিছানা পেতেছে ইন্দ্রনীল বাগানের মাধবী উঠোনে। মঞ্জরীরা সেই স্বর্ণাভ আলোয় দুলছে স্বপ্নিল আবেশে। স্বপ্নের কিনার ঘেঁষে কাশফুলের ঝাড় সমুদ্রের বালু-বেলায় লুকোচুরি খেলছে অবাধ্য কিশোরীর মতো। ক্ষণে ক্ষণে দুলে দুলে ছুঁয়ে দিচ্ছে জল। নির্লজ্জ হাওয়ারা জাপটে ধরছে বালু-বেলায় খেলা-মগ্ন কাশফুলের নগ্ন শরীর। শম্ভুগঞ্জ সেতুর উপর দিয়ে ধীর বিক্ষেপে তিতাস এক্সপ্রেস হানা দেয় স্বপ্নিল ভৈরবে। শিহরণে দুলে দুলে উঠে সেতুর ঋজু দেহখানি। বুকে গভীর চাপ অনুভব করে। নিঃশ্বাস ঘন হয়। যান্ত্রিক ঘর্ষণে হৃদয়ে উত্তাপ ছড়ায়। ঘুমন্ত আগ্নেয়গিরি জেগে উঠে। মনের জ্বালামুখে ইচ্ছারা গলে গলে অনুভবে আচ্ছন্ন করে মোহীনি মায়ায়। ইচ্ছে করে অক্টোপাসের মত জড়িয়ে ধরে রাখতে। কিন্তু সেতুর তো কোন বাহু নেই। আলোকে ইন্দ্রিয় দিয়ে অনুভব করা যায়, দেখা যায়, উত্তপ্ত শিহরন লাগে কিন্তু ছোঁয়া যায় না, বাঁধা যায় না, একান্তে পাওয়া হয় না। তুমি চলে যাবে অন্তহীন সময়ের রেললাইন ধরে -ভৈরব, কিশোরগঞ্জ, দূর্গাপুর কিংবা এগার সিন্দুর। আমার বুকে ঝড় তুলে, দুমড়ে মুচড়ে অবসাদে সিক্ত হয়ে। আর আমি অপেক্ষা করব অনন্তকাল তোমার আবাহনীতে। তুমি রথতলা পার হয়ে ময়মনসিংহ ষ্টেশন পেরোতেই অথবা শম্ভুগঞ্জ শালবন ছাড়তেই আমি টের পেয়ে যাই তুমি আসছো। অজানা শিহরণে আমি কাঁপতে থাকি মাধবী লতার মতো। কুয়াশার মশারী জড়িয়ে, জ্যোৎস্নার চাদরের মাঝে তোমার আগমনীতে আমি খোলা বুকে প্রতীক্ষার প্রহর গুনি। আর সেই তুমি আস। প্রতিদিনই আস। আসা- যাওয়ার অবসরে, চিরায়ত -অনন্তকাল প্রতীক্ষারতা আমার বুক তছনছ করে দিয়ে চলে যাও প্রতিনিয়ত।
-কি ভাবছো সেতু?
না কিছুনা। ভাবছি ঐ যে দূরে ব্রহ্মপুত্রের উপরে লোহার সেতু, তার আর আমার জীবনের কি অদ্ভুত মিল। সেতুর তো বাহু নেই, সে তো তিতাসকে ধরে রাখতে পারে না। আমার তো বাহু থেকেও নেই। আমি কি তোমাকে ধরে রাখতে পারবো তিতাস?
- আজ তোমার মনটা খুব অগোছালো মনে হচ্ছে সেতু। কি হয়েছে সত্যি করে বলতো!
- দেখো, মাধবী লতাগুলো কি সুন্দরভাবে কিশোর ইউক্যালিপটাসকে জড়িয়ে রেখেছে।
- কারণ মাধবী তার অলংকার, মাধবী তার অহংকার।
- সত্যি বলছো তিতাস। আমারতো মনে হয় মাধবী একটি পরগাছার মতো। ইউক্যালিপটাস তার অবলম্বন। যখন সে বড় হবে মাধবী তখন মুখ থুবড়ে পড়বে মাটিতে। আমার ভয়টা সেকারণেই।
- তুমি ভয় পেওনা সেতু। সাক্ষী রইল এই মাধবী লতা, ইউক্যালিপটাস, এই বোটানিক্যাল গার্ডেনের সব ফুল-পাখি, অস্তগামী সুরুজ আর ব্রহ্মপুত্র নদ। তিতাস তোমার জন্য। শুধুই তোমারই।

তিতাস সেতুকে জড়িয়ে ধরে টেনে আনে হৃদয়ের কাছাকাছি। চিবুক তুলে ঠোটে অনুভব ছুঁয়ে দেয়। সেতু আজ বাধা দেয় না। তিতাস আরও নিবিড়ভাবে আঁকড়ে ধরে সেতুকে। সূর্য অস্তাচলে হারিয়ে যায়। জ্যোৎস্নার চাদরে ছেয়ে যায় প্রকৃতি। পাখির কল কাকলি থেমে যায় ঘুমন্ত শিশুর মত। জেলেদের পাল তোলা নৌকা ছুটে চলে নিজের ঠিকানায়। বাগানের পরতে পরতে স্নিগ্ধ হাওয়ারা বেলী ফুলের গন্ধ ছড়ায়। সুলতানা রাজিয়া হলে রাতের সাইরেন বেজে ওঠে - মেয়েরা ঘরে ফিরে এসো।
- সেতুর স্বপ্ন ভেঙ্গে যায়। তিতাস আজ যাই! গেট বন্ধ হয়ে যাবে। ইদানীং ওয়ার্ডেন ম্যাডাম গেটে বসে মেয়েদের পাহারা দেয়। যাই সোনা?
- যাওয়ার আগে তোমার-আমার নাম প্রকৃতির বুকে চিরদিনের জন্য লিখে যেতে চাই।
- বুঝলাম না।
- চলো ঐ ইউক্যালিপটাস এর গায়ে আমরা তিতাস+সেতু খোদাই করে দিই।
- না আমার লজ্জা করছে। সবাই তো ক্যাকটাস এর পাতায় লিখছে। আমরা ইউক্যালিপটাস এ লিখব কেন?
- কারণ ক্যাকটাসে কাঁটা আছে। আর ইউক্যালিপটাস সুগন্ধ ছড়ায়, বাঁচে অনেকদিন। আমাদের ভালোবাসা চিরকালীন। মৃত্যু ছাড়া কেউ যেন আমাদের একে অপরকে আলাদা করতে না পারে।
দূরে কেউ আবৃত্তি করছে-
আমরা দুজনা স্বর্গ খেলনা গড়িব না ধরণীতে-মুগ্ধ ললিত গীতে....
তিতাস একটি নদীর নাম, তিতাস একটি গ্রামের নাম, তিতাস একটি ট্রেনের নাম, তিতাস একটি প্রেমের নাম। আর সেতু একটি বন্ধনের নাম, সেতু একটি অনুভবের নাম, সেতু একটি ভালোবাসার নাম, সেতু একটি কষ্টের নাম।

ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা গ্রামের এক বর্ধিষ্ণু পরিবারের ছেলে শাহরিয়ার ইমতিয়াজ ; বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের একজন ডাকসাইটে কর্মকর্তা, বিয়ে করেন চামেলীবাগের বিশিষ্ট সমাজসেবক-ব্যবসায়ী হাজী রহমত উল্লাহর বড় মেয়ে মোসাম্মৎ আকতারুন্নাহার বেগমকে। চাকুরীর প্রয়োজনে বাংলাদেশের একপ্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত ঘুরে বেড়িয়েছেন। জীবনের কর্মব্যস্ততার মধ্যখানে তাদের ঘর আলো করে জন্ম নেয় জ্যোৎস্নার মত ফুটফুটে এক মেয়ে। আত্মীয়-স্বজন, অফিস কলিগ, শুভানুধ্যায়ীদের জোয়ারে কিশোরগঞ্জের সিভিল অফিসার এর সরকারী বাংলো জনারণ্যে পরিচিত হয়। দোয়া- অনুদান আর আশীর্বাদে সিক্ত হয় নবজাতিকা। অনেক নামের ভিড়ে মামীর দেয়া নাম মেসাম্মত জেসমিন আক্তার নামে পরিচিত হয় নবজাতিকা। বাবা-মা আদর করে ডাকেন সেতু। সেতু হল শাহরিয়ার ও নাহার এর জীবনের সেতুবন্ধন। তাদের তিল তিল ভালোবাসার রস সিঞ্চনে একদিনের সেতু, দুলে দুলে বালিকা থেকে কিশোরী এবং আরও পরে সাবালিকা হয়ে ওঠে। জীবনে তার একটাই দুঃখ তার কোন ভাই নেই, কোন বোন নেই। একমাত্র আদরের সন্তান হলেও বখে যায়নি সেতু। প্রাথমিক ও জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুলে উত্তীর্ণ হয়ে প্রমাণ করল ভোরের সূর্য সারাদিনের বর্ণিল আকাশ। বাবা ডি.সি. হিসেবে পদোন্নতি পাওয়াতে পারিবারিক মর্যাদার পাশাপাশি সামাজিক উত্তরণ সেতুকে পারিপার্শ্বিক নোংরামি থেকে বাঁচিয়ে এক সভ্য পরিমণ্ডলের সদস্য হিসেবে বরণ করে নেয়। লেখাপড়ায় মেধাবী হওয়ার সুবাদে এস.এস.সি, এইচ.এস.সি তে প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হয়ে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় অবতীর্ণ হয়। সেখানেও সে মেধা তালিকায় স্থান করে নেয়। সেতুর জীবন কাহিনীতে এযাবৎ কোন সংঘাত নেই। আছে নির্ভেজাল উত্তরোত্তর উন্নতি আর সাফল্য। সেতুকে দেখা যায় আড্ডায়, লাইব্রেরীর একান্তে, লাশ কাটা ঘরে, বাকসুর অনুষ্ঠান উপস্থাপনায়, জাতীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতায়, পিলসুজ এর নাটকে আর ভালোবাসার মানুষকে সাথে নিয়ে স্বপ্নের সিঁড়ি বেয়ে বেয়ে মাধবী লতার উঠোনে। কোন এক একুশের প্রভাতফেরীতে তিতাস এর সাথে পরিচয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র-জুনিয়র ডজন খানেক ছাত্র, সদ্য শিক্ষক, ক্যাম্পাসের রোমিওদের ভিড়ে তিতাসকে সবার মধ্যে একটু আলাদা মনে হয়েছে। মনে হয়েছে তার উপর নির্ভরযোগ্যতা ছেলেমানুষি হবে না। তার চোখ বিশ্বাসঘাতক নয়। তার আন্তরিকতা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে না। তার ভালোবাসা কুমারী। তার অনুভূতি বিক্ষিপ্ত নয়। অনুভবে সংবেদনশীল।
আর তিতাস! জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ি থানার এক রাজনৈতিক পরিবারে তার জন্ম। দাদা শারাফত আলী- মুসলিম লীগ করতেন। পূর্ব পাকিস্তান এসেম্বলিতে ছিলেন। যুক্তফ্রন্টের সাথে ঝগড়ার জের হিসেবে এসেম্বলি হলে চেয়ার দিয়ে মারামারি করে বিখ্যাত হয়েছিলেন। বাবা পাকিস্তানি শাসকের হাতকে শক্তিশালী করার জন্য এলাকার শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। আর দেশ স্বাধীন হওয়ার পরে রাতারাতি ভোল পাল্টে পয়সার জোড়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ জেলা শাখার সহ-সভাপতির আসন অলংকৃত করেন। তিতাস তার জ্ঞান হওয়ার পর থেকেই দেখে আসছে বাড়িতে হাট-বাজার লেগে আছে। আজ খাসি জবাই হচ্ছে তো কাল গরু জবাই হচ্ছে। জেয়াফত লেগেই আছে। এই ডামাডোলের মধ্যেও তিতাস তার চিন্তার অধ্যবসায় এর গুণে একে একে সব বাঁধা অতিক্রম করে সাফল্যের শীর্ষ শিখরে আরোহণ করতে সক্ষম হয়। নিজস্ব মেধা-প্রজ্ঞা দিয়ে নয়, বুদ্ধি দিয়ে রাজনৈতিক সাহায্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ করে নেয়। তার প্রতিজ্ঞা উন্নতির শীর্ষ শিখরে আরোহণ। তার বিশ্বাস একমাত্র সাহসীরাই সুন্দরকে উপভোগ করতে পারে, তার ধারণা পৃথিবীতে যোগ্য লোকেরাই টিকে থাকবে। সেই তিতাস তার মোহিনী মায়ায় যাদুবলে সেতুকে বন্দী করে ফেলে। সেতুর হৃদয়ে শুধুই তিতাস।

আজ ২৫ শে ফাল্গুন তিতাস ও সেতুর ২০ তম বিবাহ বার্ষিকী। বিশ বছরে পৃথিবী অনেক বুড়িয়ে গেছে। ব্রহ্মপুত্র মরে গেছে। চারিদিকে শুধু বালু আর বালু। শভগঞ্জ সেতুটি ভেঙ্গে গেছে। অনেকটা উত্তরে গিয়ে কালীবাড়ির কিনার ঘেঁষে সরকার নতুন ব্রিজ তৈরি করেছে। শুধুমাত্র বোটানিক্যাল গার্ডেন বেঁচে আছে। আজও সেখানে মহুয়া-মাধবীরা ইউক্যালিপটাসকে জড়িয়ে রেখেছে। হয়ত আজও কোন কপোত-কপোতী কাশবন- চাঁদ আর জ্যোৎস্না নিয়ে কাব্য করে। কিন্তু সেতু আজ একা বড় একা। দুই আদরের মেয়ে তমা আর সমাকে নিয়ে নিউজিল্যান্ড এর ওয়েলিংটন এর পোড়োবাড়িতে মৃত্যুর প্রহর গুনছে। তিতাস প্রতিবেশী এক ভাবীর প্রেমে স্নান করতে গিয়ে ডুবে মরেছে। বিগত স্বামীর দুই সন্তান আর তিতাসকে নিয়ে সে অকল্যান্ড চলে গেছে আজ দুবছর। আসুন আমরা তিতাসকে লেখা সেতুর খোলা চিঠির অংশবিশেষ শুনি।

তিতাস,
দীর্ঘ বিশ বছর ধরে তোমাকে হৃদয়ে লালন করে আসছি। কোন এক একুশের প্রভাতফেরীতে তোমার সাথে পরিচয়। আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙ্গানো একুশে ফেব্রুয়ারি আমি কি ভুলিতে পারি। তোমার সুললিত কণ্ঠ আমার কানে চির ভাস্বর। আমার হৃদয়ে ঝড় তোলে। তাইতো তোমার আবাহন আমি ফিরিয়ে দিতে পারিনি। তুমি তো জানো সৌন্দর্যে আমি ছিলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মক্ষীরানি। কয়েক ডজন প্রেমিককে প্রত্যাখ্যান করেছি শুধুই তোমার জন্য। যার মধ্যে সিনিয়র-জুনিয়র ছাত্র, সদ্য শিক্ষক, বিগত শিক্ষকদের সন্তানেরা নিবেদন করেছে ভালোবাসার অর্ঘ্য। শুধু তোমার জন্য আমি সবাইকে ফিরিয়ে দিয়েছি। তোমার জন্য নয়নকে অপমান করেছি। রাগে- দুঃখে নয়ন ঘুমের ট্যাবলেট খেয়ে আত্মহত্যা করতে চেয়েছিল। তোমার জন্য আন্দালিব- রোটনকে পিটিয়ে জখম করেছে। প্রেমে ব্যর্থ হয়ে তরুণ শিক্ষক হাসান ভাইভা বোর্ডে আমাকে হেনস্থা করেছে, আমাকে জিরো দিয়ে মনের ঝাল মিটিয়েছে। তুমি বলো এটা কার জন্য! আমি ক্ষমা চেয়েছিলাম ক্লাসের সবচেয়ে মেধাবী ছাত্র সজীব এর কাছে। পরদিন থেকে সজীবকে আর ক্যাম্পাসে দেখা যায়নি। তোমার মোহনীয় সংলাপ আমাকে স্বপ্নের আকাশে ভাসিয়ে নিয়ে যেত। আমি তোমার মাঝে জীবনানন্দ দেখি, দেখি দারুচিনি দ্বীপ। তুমি আর আমি মুখোমুখি। শিশিরের শব্দের মত সন্ধ্যা আসে। দূরে কাঁসর ঘণ্টা বাজে। দেবীকে ভক্ত যেমন আবাহন করে- তুমিও তেমনি আমাকে আবাহন করতে। তোমার চোখে রবীন্দ্রনাথ। হে সম্রাট কবি, এই তব হৃদয়ের ছবি, এই তব নব মেঘদূত, অপূর্ব অদ্ভুত। অথবা শীর্ষেন্দুর উপন্যাসের নায়িকার আদলে ভেসে যাওয়া প্রদীপ। তুমি বলতে আমি সোনার বরণী মেয়ে। আলতো করে ছুঁয়ে দিতে আমার চিবুক, গাল, চোখ। আমি শিহরিত হতাম। তোমার হাতে হাত রেখে স্বপ্নের সিঁড়ি বেয়ে চলে যেতাম বিদর্ভ নগরে। বাবা-মায়ের নির্বাচিত ম্যাজিস্ট্রেট পাত্রকে প্রত্যাখ্যান করে তাদের হৃদয় টুকরা টুকরা করতে আমার একটুও বাঁধেনি। সে কার জন্য ? তোমার সম্পর্কে কেউ খারাপ কিছু বললে আমার ভীষণ কষ্ট হত। মনে হত তোমার আমার সম্পর্কে ভাঙ্গন ধরানোর জন্য এটা তাদের অপকৌশল। পাঠাগারে পাট গুদামের শারমীনের পাশে পড়াশোনাও আমাকে বিচলিত করেনি। সবুজ বলেছিল ঈশাখাঁ হল এর কিনার ঘেঁষে যে রাস্তা সরু মেঠো-পথ হয়ে ঝাউ বন এর মধ্য দিয়ে ব্রহ্মপুত্র পর্যন্ত নেমে গেছে তার পাশেই ফকির জমির শাহ'র ডেরা। তুমিসহ অনেকেই নাকি সেখানে যেত। কল্কিতে নাকি অনেক তৃপ্তি। আর শুধু নাকি কল্কিই নয় গ্রামের আনকোরা মেয়েরা নাকি সস্তায় বিক্রি হত সেখানে। সবুজ কসম কেটে বলেছিল সে তোমাকে একাধিকবার দেখেছে। আমি বিশ্বাস করিনি। আমার রুচিতে বেঁধেছে তোমাকে তা জিজ্ঞেস করতে। শুনেছি হলে নীল ছবির আড্ডা হলে তুমি ছিলে প্রথম দর্শক। বিশ্বাস করিনি। বিশ্বাস করিনি ময়মনসিংহের নিষিদ্ধ পল্লীতে তোমার যাতায়াত। বিশ্বাস করিনি পাট গুদামের শারমীনের বাসায় তোমার দাওয়াত। প্রতিশ্রুতি মোতাবেক সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরপরই তোমাকে জীবন-সাথী করে নিলাম। ঘর আলো করে আসল তমা। তোমার পিতৃত্ব আমাকে সব ভুলিয়ে দিল। সব সন্দেহ তাসের ঘরের মত পুড়ে ছাই হয়ে গেল। কিন্তু প্রতিদিন তুমি দেরী করে বাসায় আসা শুরু করলে। জিজ্ঞেস করলে বলতে . . . .

বাকি আংশ পড়ার জন্য এখানে ক্লিক করুন >>


Share on Facebook                         Home Page



                            Published on: 31-Aug-2014