bangla-sydney
bangla-sydney.com
News and views of Bangladeshi community in Sydney













নাজলী খুব ভাল লাগল কাদম্বরী দেবীকে নিয়ে তোমার রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বৌঠান লেখাটি পড়ে। খুবই সুন্দর লিখেছ। তুমি সবসময়ই ভাল লেখ। তবে খুব কম লেখ, এটাই অনুযোগ। এই কাদম্বরী দেবীর আত্মহত্যা সত্যিকার অর্থে ঠাকুর বাড়ীর ইতিহাসে একটি কালো অধ্যায়। যতটুকু জানা গেছে বিষ খাবার পরও দুইদিন মৃত্যুর সাথে তিনি যুদ্ধ করেছিলেন। সে আমলে ৪০০টাকা খরচ করে আনা হয়েছিল সাহেব ডাক্তার ভি.বি. স্মিথকে। তিন জন নামকরা বাঙ্গালী ডাক্তার ২৪ ঘণ্টা কাদম্বরী দেবীর তদারকি করেছেন। এদের সমবেত প্রচেষ্টাকে ব্যর্থ করে তিনি চলে গেলেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পিতা দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের কঠোর আদেশে লোপাট করা হলো আত্মহত্যার সকল প্রমাণ। ঘুষ দিয়ে বন্ধ করা হলো সংবাদপত্রের মুখ। কোন সংবাদপত্রে এই মৃত্যুর খবর ছাপা হয়নি। করোনার রিপোর্টও হারিয়ে গেছে। কি দুঃখ নিয়ে তিনি বিষ খেয়েছিলেন, তার অন্তরের ব্যথার কথা হয়তো আমরা কোনদিন জানতে পারবোনা। তাকে যখন শ্মশানে নিয়ে যাওয়া হয় সেখানে অনেকের সাথে উপস্থিত ছিলেন রবীন্দ্রনাথ, অথচ কাদম্বরী দেবীর স্বামী জোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর উপস্থিত ছিলেন না।
সমস্ত জীবন একটা প্রশ্ন রবীন্দ্রনাথকে কষ্ট দিয়েছে, নতুন বৌঠান তুমি আত্মহত্যা করলে কেন? বীথিকা কাব্যগ্রন্থ কাদম্বরী দেবীকে উৎসর্গ করেছিলেন কবি, সেই গ্রন্থের নিমন্ত্রণ কবিতাটির কয়েকটা লাইন তুলে দিলাম।

........
তাম্রথালায় গোড়ে মালাখানি গেঁথে
সিক্ত রুমালে যত্নে রেখেছো ঢাকি,
ছায়া হেলা ছাদে মাদুর দিয়েছ পেতে
কার কথা ভেবে বসে আছো জানি নাকি ?

আজ এই চিঠি লিখিছেতো সেই কবি
গোধূলির ছায়া ঘনায় বিজন ঘরে,
দেয়ালে ঝুলিছে সেদিনের ছায়াছবি
শব্দটি নেই, ঘড়ি টিক্ টিক্ করে।

ওই তো তোমার হিসাবের ছেড়া পাতা
দেরাজের কোণে পড়ে আছে আধুলিটি
কতদিন হল গিয়েছো, ভাবিবো না তা
শুধু রচি বসে নিমন্ত্রণের চিঠি।

এ চিঠির নেই জবাব দেবার দায়
আপাতত এটা দেরাজে দিলাম রেখে
পারো যদি এসো শব্দ-বিহীন পায়
চোখ টিপে ধরো হঠাৎ পেছন থেকে।
.................


আশীষ বাবলু
ashisbablu13@yahoo.com.au




Share on Facebook                         Home Page



                            Published on: 14-Nov-2013