bangla-sydney
bangla-sydney.com
News and views of Bangladeshi community in Sydney













আমার দেখা অরোরা
মলি আহমেদ



কোন এক সময় “ফুরায় জীবনের সব লেনদেন”; “সব পাখি ঘরে ফেরে”। কিন্তু তবুও এক অনন্ত প্রতীক্ষা, সুপ্ত বাসনা বুকের ভিতর ডানা ঝাপটায়। কানে কানে বলে যায় তুমি যে সুদূরের প্রয়াসী। স্থির থাকতে দেয় না এক ঠাঁই। বলে চরৈবেতি, চরৈবেতি... বলে চলো চলো... জীবন যে চলিষ্ণু।

কিছু স্বপ্ন আছে যা পূর্ণ করার অভিপ্রায়ে হাজার বছর ধরে পথ হেঁটে যাওয়া যায়। সে হোক না বিদর্ভ নগর থেকে সিংহল সমুদ্র পর্যন্ত। পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত ঘুরেছি। আমেরিকা, ইয়োরোপ, এশিয়া,কানাডা, যেখানে যা কিছু আছে তা দুচোখ ভরে দেখেছি। সে এক বিশাল অমূল্য রতনে সমৃদ্ধ হয়েছে আমার ক্ষুদ্র জানার ভাণ্ডার। নায়াগ্রা ফলসের বিস্তীর্ণ জলরাশি দেখে উচ্ছ্বসিত হয়েছি। গ্রান্ডক্যনিয়ানের অতলান্ত প্রান্ত দেখে উদাস হয়েছি। ভ্যাটিক্যানে সিসটিন চ্যাপেলের ছাদে মাইকেল এঞ্জেলোর আঁকা ছবি দেখে নিজেকে সামলান দায় হয়েছে। ফ্লোরেন্সে মাইকেল এঞ্জেলোর ‘ডেভিড’দেখে মনে হয়েছে জীবনে আর কিছু যদি নাও পাই তা’হলেও কোন আফসোস নেই। ভিয়েতনামে হালং বে’তে গিয়ে তার শান্ত সমাহিত সৌন্দর্য দেখে যেমন স্নিগ্ধতার প্রশান্তিতে ভরে গেছে মন, ক্যাম্বোডিয়া’র খেমার রুজদের Killing Fields য়ে গিয়ে শিওরে উঠেছি। এত নৃশংসতা আর বর্বরতা মানুষের পক্ষে কি করে করা সম্ভব। সেই সাথে Angkor Wat দেখে ভেবেছি শুধু মানুষেরই পক্ষে সম্ভব এই অপূর্ব সৃষ্টি সাধন করা। এমনই কত জায়গা আর সৌন্দর্য দেখে জীবন মন ভরে উঠেছে। জাপানের দুই হাজার বছর ধরে চলে আসা Tea Ceremony দেখে মনে হয়েছে এরাই পারে নিজেদের ইতিহাস, ঐতিহ্য আর পরম্পরা সসম্মানে হাজার বছর ধরে বহন করে নিয়ে যেতে। তাজমহল দেখে যেমন তার নিপুণ কারুকার্যে মুগ্ধ হয়েছি, সপ্তম শতাব্দীতে অজন্তা ইলোরা গুহায় অসামান্য ভাস্কর্য আর আঁকা ছবি দেখে বিস্ময়ে জেগেছে আমার প্রাণ। নেপাল, কালিম্পং, সিকিম, দার্জিলিংয়ে হিমালয় দেখে অবনত চিত্তে আর কম্পিত হৃদয়ে বার বার নিজেকে ধন্য মনে করেছি। প্রণাম করেছি অজানার উদ্দেশ্যে। ভেবেছি আমার জীবনে যে আশীর্বাদ আছে সে মহামূল্যবান সম্পদ।

“আপনাকে জানা আমার ফুরাবে না, সেই জানারই সংগে সংগে তোমায় জানা...”। বিপুল এই ধরণীর কত কিছু আছে আমরা তার কতটুকুই বা জানি।

আমাকে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সব সময় বেশি টানে মানুষের তৈরি করা বস্তুর চাইতে। অনেক বছর ধরে জিয়া'র অসম্ভব ইচ্ছা অরোরা দেখার। অরোরা বোরালিস অথবা Northern Light নামটা প্রাচীন কাল থেকেই বিদ্যমান। রোমানদের সন্ধ্যা দেবী অরোরা সূর্যের আগমন বার্তা ঘোষণা করে পূর্ব থেকে পশ্চিমের দিকে যাত্রা করে প্রতি দিন। আর বোরালিস হচ্ছে উত্তর থেকে আসা ভোরের আলো। এই দুয়ে মিলে অরোরা বোরালিস। প্রাচীন গ্রীক পুরাণে গ্রীক কবিদের লেখায় প্রতীকী হিসাবে সন্ধ্যার বর্ণনায় পাওয়া যায় ঘন গভীর কালো রাত্রিতে সমস্ত আকাশে জুড়ে রংয়ের খেলার কথা।

ঢাকা’য় থাকাকালীন সময় অরোরা দেখার ইচ্ছাটা একটু অবাস্তব মনে হত। অসীম আকাশে যত গ্রহ, তারা, নক্ষত্র আছে, মহা বিশ্বে যত বিস্ময় আছে জিয়ার মন তাতে সর্বত্র আগ্রহ আর অনুসন্ধানের জন্য ব্যাকুল। তার উৎসুক মন খুঁজে ফেরে মহা শূন্যের অনন্ত রহস্য।’আমি তারেই খুঁজে বেড়াই যে রয় মনে আমার মনে’। Astronomy নিয়ে পড়াশুনা এটা জিয়া বহু কাল ধরেই করে। আমার জ্ঞান তো সপ্তর্ষিমণ্ডল আর কালপুরুষেই সীমাবদ্ধ। বেশ কিছুদিন ধরে জিয়া একটা astronomical societyরও মেম্বর। সব সময় তার মনের কোনে জেগে রয় “তব নাম লয়ে চন্দ্র তারা অসীম শূন্যে ধাইছে-- রবি হতে গ্রহে ঝরিছে প্রেম, গ্রহ হতে গ্রহে ছাইছে।”

ইচ্ছার জালটা তখনই বোনা শুরু হয়ে গিয়েছিল। নিজের অজান্তেই অবচেতন মনে অরোরা দেখার বাসনাটাকে সযত্নে লালন করা শুরু করেছিলাম।

আমরা বাংলাদেশে বড় হয়েছি। চিরদিন বন, জঙ্গল, জল, মাটি, বেতফল, শঙ্খচিল আর ডোলকলমির বেগুনী ফুলের মূর্ছনায় জীবন বয়ে যেত অশান্ত। তবুও সেই বিপুল সুদূর হাতছানি দিয়ে গেছে বার বার। ১৯৮৮ সনে পাড়ি দিলাম আমরা অস্ট্রেলিয়ায়। সেই সময় জীবনের চাইতে জীবিকার চাহিদা ছিল অমার্জনীয় আর স্বপ্নের বিলাসিতার তো কোন জায়গাই ছিল না। বাস্তব যে বড়ই কঠিন।

এর মাঝে কেটে গেল ২৭/২৮ বছর। জীবনের নানা মোড় ঘুরে, নানা সংঘাত, অনুকূল আর প্রতিকূলতার বাঁধা বিঘ্নতা পেরিয়ে পরিণত বয়সে এসে পৌঁছলাম। তবুও মনের কোনে জ্বলে ছিল অরোরা দেখার বাসনা। পৃথিবীর অনেকগুলি দেশ থেকে অরোরা দেখা যায়। Artic circle এর সীমানায় দেশ গুলি যেমন নরওয়ে, সুইডেন, ফিনল্যান্ড, রাশা, আমেরিকার আলাস্কা, north of কানাডা, ডেনমার্ক, গ্রিনল্যান্ড। চিন্তা করছিলাম কোথায় যাব অরোরা দেখতে। আমাদের কাজ হল সন্ধ্যার পর YouTube খুলে study করা, কোথা থেকে সব চাইতে ভাল দেখতে পারব অরোরা। সব সময় আমাদের পছন্দের তালিকায় কানাডা’র অগ্রাধিকার ছিল। অন্যান্য জায়গা থেকে কানাডার শুষ্ক আর দীর্ঘ রাত্রি, শীতের গভীর কালো পরিষ্কার আকাশ, দূরত্বের দিক থেকে সহনীয় আর সর্বোপরি অরোরা দেখার অবশ্যই সম্ভাবনীয় জায়গা - যেটা আমাদের জন্য একান্ত জরুরী বিষয়। আমাদের এই পরিণত বয়স, সময়, মানসিক অবস্থান, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এ সময় এসে যা কিছু সম্বল হাতে করে নিয়ে গিয়ে যদি না দেখতে পারি তবে সে হবে এক বিরাট ব্যর্থতা। দ্বিতীয় বার ঝুঁকি নিতে পারব না। আমারা একটা বিরাট challenge হিসাবে নিয়ে ছিলাম আমাদের অরোরা expeditionকে। কানাডা’র সব জায়গা থেকে অরোরা দেখা যায় না। Northwest Territory of Canada যা Artic circle এর একদম কাছাকাছি, সে রকম জায়গা অরোরা দেখার জন্য উপযুক্ত। গবেষণা করে বের করলাম Northern Canada’র একটা শহর Yellowknife যাকে নর্থ আমেরিকার অরোরা’র রাজধানী বলা হয়। একটা প্রত্যন্ত তুন্দ্রাঞ্চল যেখানে আধুনিক জীবন যাত্রা প্রকৃতির সাথে মিশে একটা অনন্য ও অনুপম পরিবেশ তৈরি করেছে।

YellowKnife নামটা শুনে কেন যেন মনে হচ্ছিল নামটা এমন অদ্ভুত কেন? কোথা থেকে এমন নামটা এলো। গুগল করে একটা মজার তথ্য পেলাম। কানাডায় ডেন দল (Dene Band) নামে একটা আদিবাসী গোষ্ঠী গ্রেট সেভেল লেকের পশ্চিম দ্বীপে বাস করত, তারা artic circleয়ের কোল ঘেঁসে উত্তরের দিকে সর্বদা ‘তামা’ ধাতুর অনুসন্ধানে যাতায়াত করতো। তামার পাত দিয়ে তৈরি করত নানা ধরনের ব্যবহার্য জিনিসপত্র। আর তৈরি করত তামার ছুরি। আর সে সব ছুরি তারা সব সময়ের জন্য বহন করত নিজের সঙ্গে। সেই থেকে YellowKnife নামটা এসেছে।

অনেক পড়াশুনা, গবেষণা, সুচিন্তিত আলোচনা আর প্রাধান্যের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা ছোট্ট শহর Yellowknifeকে বেছে নিলাম। Artic circleয়ের মাঝে, আলাস্কার কাছাকাছি। জন সংখ্যা ২০,০০০ হাজারের নীচে। অসম্ভব ঠাণ্ডা। অচেনা অজানা এক শহর। অনেক সাহসের পরিচয় দিলাম। আমরা আমাদের পুরা ভ্রমণটা সাজালাম... প্রথম যাব হাওয়াই, সেখান থেকে ভ্যাঙ্কুভার হয়ে ফোর্ট সেন্ট জনস্ ২ দিনের জন্য, সেখান থেকে Yellowknife, আমরা ওখানে থাকব ৬দিন (কি বলা যায় কখন দেখতে পাবো অরোরা!!!) সেখান থেকে আবার ফোর্ট সেন্ট জনস্ ফিরে ২ দিন থেকে যাব শিকাগো, নিউইয়র্ক, অসটিন, লস এ্যাঞ্জেলস হয়ে সিডনি ফেরা। পুরা ৬ সপ্তাহের একটা ঘুরাঘুরি।

আমরা আমাদের যাবার সব কিছু ফাইনাল করে জয়ন্ত, অরণি’কে জানালাম। অরণি তখন বললো ‘তাই তোমরা Yellowknife যাচ্ছ?’ ওখানে তো চী’র একজন কাজিন থাকে!!! কি বলিস!!! এত রিমোট একটা জায়গা যেখানে শীতের সময় তাপমাত্রা -৩৮ পর্যন্ত নেমে আসে। মাত্র ৪০০ কিলোমিটার arctic Circle থেকে দূরে। দিনের বেলা সূর্য ৩/৪ ঘণ্টার জন্য দেখা যায়। সেখানে Sevel লেকটা শীত কালে জমে বরফ হয়ে যায়। আর তার উপর দিয়ে গাড়ী /ট্রাক দিব্যি চলাচল করে। সেখানে সে করে কি? পৃথিবী সত্যি ছোট হয়ে এসেছে। অমন একটা জায়গায় কেউ পরিচিত আছে!!! বিস্ময়ের তখনো অনেক বাকি। ভালই হল, চি’র কাজিন টী’র সাথে কথা বলে দেখি কি কি জিনিসপত্র লাগবে আমাদের অরোরা দেখার জন্য। যেহেতু এত ঠাণ্ডা আমরা তো এমন আবহাওয়া সম্পর্কে কিছুই জানি না। YouTube ঘেঁটে বুঝেছি কাপড়ের স্তর পরতে হবে। যেমন প্রথমে থারমাল, ফুল স্লিভ টি’শার্ট, ভারী ফ্লেসি তার উপর জ্যাকেট, স্কার্ফ। ডাবল গ্লাভস, ডাবল টুপি। উলেন মোজা, স্নো বুট, বালাক্লাভা, নেক ওয়ারমার, ভারী জিন্সের উপর পরতে হবে স্নো-প্যান্ট। এত কিছু পরবার পরে এর উপরে চড়াতে হবে একটা এস্কিমো জ্যাকেট!!!! কাপড় পরবার জন্য প্রায় আধা ঘণ্টা সময় লাগতে পারে!!!!


টী’র সাথে কথা বলে বুঝলাম কানাডিয়ান ঠাণ্ডাকে মোকাবিলা করবার জন্য অস্ট্রেলিয়াতে তৈরি জামা কাপড় যথেষ্ট উপযুক্ত নয়!!! তবু প্রথম ধ্বাক্কাটাতো সামলাতে হবে। তাই যা পাওয়া যায় সে সব কিনে নিজেদের প্রস্তুত করলাম। আর একটা মজার কথা হল, টী আমাদেরকে ওর সাথে থাকার জন্য বলল। বিস্ময়ের আর কি বাকী থাকল। অনেক চিন্তা করে ভাবলাম ভালই হবে পৃথিবীর কোন এক প্রত্যন্ত অঞ্চলে যার কথা আগে কখনো শুনিনি, যাকে কখনো দেখিনি। যার সম্পর্কে কোন ধারণাই নাই। মহা বিশ্বের সে এক কোন প্রান্তে কেউ আমাদের আতিথ্য দিতে চায়!! বলে -'এসো, থাকো আমার 'ঘরে'!! কোথায় যেন পড়ে ছিলাম এই পৃথিবী আর ঐ মহাকাশ একই স্পন্দনে স্পন্দিত হয়। মনে হল এ একটা বিরল সৌভাগ্য!! এমন সুযোগ আর কখনো কি আসবে!!?? রাজী হয়ে গেলাম টী’র প্রস্তাবে।

২০১৯, ১৮ ফেব্রুয়ারি আমাদের যাত্রা শুরু। হাওয়াই এসে পৌঁছলাম। খুব সুন্দর বন্দর নগরী। ভাল রকমের গরম। হাওয়াই থাকলাম ৩/৪ দিন। আনিস ভাই কে টেক্সট করে আপডেট দিলাম আমরা হাওয়াই তে। আনিস ভাই জানালেন তারাও হাওয়াইতে! সন্ধ্যায় তাঁদের সাথে ডিনার করতে বললেন। অবাক হবার পালা। হাওয়াইতে চম্পা আর অরেলিয়ার রান্না মজা করে খেলাম।

আমরা এখান থেকে কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়া যাব। তখন সেখানে তুষার পাত হচ্ছে। হাওয়াই থেকে ভ্যাঙ্কুভার যখন পৌঁছলাম সেদিন তুষারের ঝড় হচ্ছিল। আমাদেরকে প্লেনে উঠবার জন্য টার্মিনাল থেকে বাইরে বের হয়ে হেঁটে গিয়ে প্লেনে উঠতে হবে। হঠাৎ দেখি আমাদের গায়ে গুড়ো গুড়ো বরফ ঝরে পড়ছে। বেশ একটু উত্তেজিত হলাম এমন অভিজ্ঞতা তো এই প্রথম।

আমরা ২৭ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় YellowKnife এসে পৌঁছলাম। চমৎকার একটা শহর। যেদিকেই তাকাই শুধু বরফ আর বরফ। বাড়ীর ছাদগুলো বরফে ঢাকা। কোনরকম রাস্তা দিয়ে গাড়ী যেতে পারে। রাস্তার দু’পাশে উঁচু হয়ে জমে আছে বরফের স্তূপ।


১৯৩৪ সালে এই শহরের গোড়াপত্তন হয় সোনার খনির আবিষ্কারের পর পর। আর ১৯৯০ সালে হীরকের সন্ধান পাবার পর YellowKnifeকে ফিরে তাকাতে হয়নি।বর্তমানে পর্যটন, যোগাযোগ ব্যবস্থা আর পরিবহন প্রকল্পে Yellowknife একটি সমৃদ্ধ উন্নতশীল শহর। আর সেই সাথে Northern Light দেখার জন্য দুর দূরান্ত থেকে ভিড় জমায় উৎসুক ভ্রমণ বিলাসী মানুষেরা। আমার সুন্দর লাগছিল পাইন গাছগুলি বরফে ছেয়ে আছে। এত বিশাল পাইনের ডালে ডালে বরফগুলি নীরবে নির্মিলিত চোখে নির্লিপ্ত সময়’কে বয়ে নিয়ে যাচ্ছে আগামী দিনের কাছে। চারদিকে একটা বিমল অনাবিল, বিশুদ্ধ, শুভ্র পবিত্রতা সমস্ত শহর জুড়ে বিরাজ করছে।


অরোরা দেখার জন্য একটা ট্যুর কোম্পানির সাথে বুক করলাম। বিকেল ৫টায় পিক আপ করবে আর রাত ২টায় ফিরিয়ে আনবে। নিয়ে যাবে শহর থেকে আরো ২০ কিলোমিটার দূরে একটা আলো শূন্য জায়গাতে। সে দিন নিকষ কালো অন্ধকার রাত্রি। তাপমাত্রা -৩৩ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড। পাশে দাঁড়ান মানুষটিকে দেখা যায় না। শুধু পা ফেলায় ভারী স্নো-বুটের শব্দ কানে আসে। পরিষ্কার আকাশ জুড়ে গ্রহ তারা নক্ষত্রের প্রচণ্ড প্রকাশ। কত বছর পরে এমন একটা আকাশ দেখছি বলতে পারব না। মানুষ জন নিঃশব্দে অপেক্ষায় আছে সে মহা লগনে জন্য। সত্যি কি এত সৌভাগ্য আমাদের, কাঙ্ক্ষিত প্রত্যাশা পূর্ণ হবে। দুরু দুরু মনে অপেক্ষা করছিলাম সেই ক্ষণটির জন্য।

জিয়া অনেকক্ষণ থেকে ক্যামেরাটা adjust করতে পারছে না। এদিকে আকাশে অরোরা আসা যাওয়া শুরু হয়েছে। আর ওদিকে জিয়া তার কেমেরা নিয়ে ব্যস্ত। মোটা গ্লাভস্ হাতে কেমেরা’র কোন ভুল বোতামে চাপ লেগে কেমেরা বিগড়ে গেছে। জিয়া গত ছ’মাস ধরে ইউটিউব খুলে শিখেছিল কিভাবে অরোরার ছবি তোলা যায়, আর এখন যখন ছবি তোলার সময় হল তখন জিয়া বলছে ক্যামেরা’র সেটিংসে কি হল বুঝতে পারছেনা। আমিতো হেসে ফেললাম। প্রচণ্ড ঠাণ্ডায় ৩০ সেকেন্ডের জন্যও হাতের গ্লাভস্ খোলা যাচ্ছেনা...


পরের অংশ






Share on Facebook               Home Page             Published on: 24-Jun-2020


Coming Events: