bangla-sydney
bangla-sydney.com
News and views of Bangladeshi community in Australia













টিম ওয়ার্ক
মাসুদ পারভেজ


কয়েকদিন আগে বাংলা-সিডনি ডটকম-এ আমার লেখা “মিশন পসিবল” প্রকাশ হওয়ার পরে অস্ট্রেলিয়া এবং অস্ট্রেলিয়ার বাইরে থেকে অনেকেই তাঁদের মতামত, মন্তব্য, প্রশংসা ও অনুভূতি প্রকাশ করেছেন টেক্সট মেসেজ ও ইমেইলের মাধ্যমে। একজন টেক্সট মেসেজে জানিয়েছেন – “পুরোটা পড়লাম। সুন্দর বর্ণনা। আপনার চোখে আমরাও হজ করলাম। আল্লাহ পাক আপনাদের এবং আমাদের দোয়া কবুল করবেন”। আরেকজনের মন্তব্য - “অর্ধেক পড়ে মনে হল এ লিখা প্রিন্ট করে পড়তে হবে। আমরা যারা যাওয়ার ইচ্ছা রাখি তাদের কয়েকবার পড়তে হবে এখন এবং ৩-৪ রিভিশন দিতে হবে হজ্জে যাবার আগে (যদি আল্লাহ তৌফিক দেন)। ফেসবুকে শেয়ার করলে অনেকে উপকৃত হবে। এতো সুন্দর করে লিখার জন্য ধন্যবাদ”। ইমেইলে আরেকজনের অনুভূতি – “Thank you for sharing your experience. It is very informative, and I have learnt many things from your writing. I’m planning to perform Hajj this year inshallah. Please pray for us”.

আগের লেখাটা অনেক দীর্ঘ হওয়াতে বেশ কিছু তথ্য দেয়া সম্ভব হয়নি। ইতিমধ্যে অনেকের প্রশংসা, অনুপ্রেরণা পেয়ে এবং অনেকটা দায়িত্ববোধ থেকে আজকের এই লেখার প্রয়াস।

আগে লিখেছিলাম - ২০২৩ সালে সৌদি আরব সরকার হজের সামগ্রিক ব্যবস্থা পরিচালনার জন্য ভিশন-২০৩০ (www.vision2030.gov.sa/en/) উদ্যোগের আওতায় “নুসুক” (www.hajj.nusuk.sa) ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের নাম ঘোষণা দেয়। এর ফলে, ইউরোপ, দক্ষিণ ও উত্তর আমেরিকা এবং অস্ট্রেলিয়া থেকে পূর্ববর্তী বছরগুলিতে যেভাবে মোয়াল্লেম নির্ভর স্থানীয় ট্রাভেল এজেন্ট কিংবা হজ এজেন্সির মাধ্যমে হজে যাওয়া যেত তার সুযোগ আর নেই।

“নুসুক”-এর মাধ্যমে হজে যাওয়া এক নতুন প্রক্রিয়া। কারো তেমন কোনো ধারণা নেই এই নতুন প্রক্রিয়া সম্পর্কে। তাছাড়া সৌদি আরব সরকার থেকে সময়োপযোগী তেমন তথ্য পাওয়া যায়নি সমগ্র প্রক্রিয়ায়। আর তাই হজে গমনেচ্ছুক সবাই ইন্টারনেট কিংবা অন্যান্য সোর্স যেমন সৌদি আরবে বসবাসকারী আত্মীয়-স্বজন কিংবা পরিচিত জনের কাছ থেকে প্রাপ্ত সংবাদের ওপর নির্ভরশীল। অস্ট্রেলিয়াতে “হজ ২০২৩” নাম দিয়ে এক হোয়াটসএপ গ্ৰুপ তৈরি করেন নিঃস্বার্থ পরোপকারী এবং হজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন দুইজন - আকরাম ও আয়েশা। তাঁরা এই গ্ৰুপের এডমিনিস্ট্রেটর। হজ সংক্রান্ত সংবাদ ও তথ্য আদান প্রদানের জন্যে অস্ট্রেলিয়াতে বসবাসরত বিভিন্ন দেশের নাগরিকরা এই গ্ৰুপে সংযোজিত হয়েছেন। বেসরকারি এই হোয়াটসএপ গ্ৰুপের আস্থা ও জনপ্রিয়তা এতই বৃদ্ধি পায় যে এক পর্যায়ে একটি গ্ৰুপের সর্বোচ্চ ধারণক্ষম ১০২৪ জনের সংকুলানের পরে আরেকটি গ্ৰুপ-২ তৈরি করার প্রয়োজন হয়। প্রতিদিনের অফিসের কাজের মাঝে কিংবা অফিস শেষে নিয়মিতভাবে চোখ রাখি গ্ৰুপে পোস্ট করা তথ্যের, সংবাদের কিংবা বিভিন্ন প্রশ্নের/উত্তরের ওপর। যতই দিন যায় ততই পোস্টের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি অনেক আশ্চর্যজনক/ অপ্রাসঙ্গিক তথ্য/প্রশ্ন, ইত্যাদি আসতে থাকে।

ক্যানবেরা’র মুকুট-জাহিদা আর সিডনি’র আহাদ-রিমু, আয়াত-মিতা, ব্রাইট-তিন্নী, এবং আমার সহধর্মিণী ও আমি বন্ধুত্বের সম্পর্কে আবদ্ধ পাঁচ পরিবার। অস্ট্রেলিয়াতে প্রায় দুই দশক আগে আমাদের সাথে আহাদ-রিমু এবং আয়াত-মিতা পরিবারের পরিচয় ও বন্ধুত্ব হলেও তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে মুকুট-জাহিদা ও ব্রাইট-তিন্নী পরিবার বাংলাদেশ থেকে আমাদের পারিবারিক বন্ধু।

মুকুট, আহাদ, আয়াত, ব্রাইট আর আমি “হজ ২০২৩” হোয়াটসএপ গ্ৰুপের সদস্য। মুকুট আমাদের মাঝে একজন একটিভ পার্সন, তার সাথে যোগাযোগ অনেকের। আহাদ ভাই আমার প্রাক্তন সহকর্মী এবং বয়সে অপেক্ষাকৃত তরুণ। চুলচেরা-নিখুঁত বিশ্লেষণের ক্ষমতা আছে আহাদ ভাইয়ের। গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে আমার সাথে আলোচনা করেন। সবসময় আমাকে বড় ভাইয়ের সম্মান ও মর্যাদা দেন। আয়াত ভাই অত্যন্ত বিনয়ী এবং সদালাপী মানুষ, আমাদের প্রতিবেশী। কাজের চাপের কারণে তিনি হোয়াটসএপ গ্ৰুপে খুব বেশি মনোযোগী নন। গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ ও তথ্য আয়াত ভাইকে জানানো আমার দায়িত্ব। আয়াত ভাই ও ব্রাইট অনেক বিষয়ে নিজের সময় অযথা খরচ না করে আমাকে অনুসরণ করায় বিশ্বাসী। আর তাই আমার দায়িত্বও একটু বেশি। সবকিছু মিলিয়ে আমরা এই পাঁচ পরিবার “হজ ২০২৩” প্রজেক্টে একসাথে রয়েছি।

“নুসুক” পোর্টাল ওপেন হওয়ার অনেক আগেই, বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে আহাদ ভাই জানান - যেহেতু সৌদি আরব থেকে অস্ট্রেলিয়া অনেক দূরে এবং সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট অস্ট্রেলিয়া থেকে নেই সেহেতু ২০২৩ সালের হজে যেতে হলে হজের প্যাকেজের বাহিরে নিজেদেরকে টিকেট কাটতে হতে পারে যা’ আগের বছরে হয়েছে। তাই হজের অন্ততঃ ৯-১০মাস আগে সিডনি-কুয়ালালামপুর-জেদ্দা রিটার্ন টিকেট (সামান্য মাশুলের বিনিময়ে ফেরত যোগ্য) সাশ্রয়ী মূল্যে অগ্রিম কিনে রাখতে পারলে ভালো হয়। যেই কথা সেই কাজ। মুকুট-জাহিদা পরিবার ছাড়া আমরা বাকি চার পরিবার অক্টোবর ২০২২’র মধ্যে হজে যাওয়ার জন্যে প্লেনের টিকেট কিনে ফেলি! যদিও এখনো রিলিজ হয়নি তবুও অনুমানের ভিত্তিতে সম্ভাব্য হজ প্যাকেজের বিশ্লেষণ করে আমাদের কেনা প্লেনের টিকেট ব্যবহার করলে হয়তো আমরা হজ প্যাকেজ শুরু ও শেষ কিংবা মধ্যবর্তী সময়ে নিজেদের তত্ত্বাবধানে মক্কা ও মদিনাতে কয়েকদিনের আবাসনের প্রয়োজন হতে পারে। আর সেজন্যে দেরি না করে বুকিং ডটকম, আগোডা ডটকম পোর্টাল থেকে মক্কায় পবিত্র কাবা শরীফ এবং মদিনাতে মসজিদুন নববী’র কাছাকাছি “প্রয়োজন হতেও পারে”-এই আশায় “বুক-নাও-পে-লেটার” কন্ডিশনে ক্রেডিট কার্ড দিয়ে বিভিন্ন হোটেলে চার পরিবারের জন্য চারটা রুম বুকিং করে রাখি। মক্কা-মদিনায় হোটেল বুকিংয়ের বর্ণনা যেমন - বুকিং কনফার্মেশন আইডি, হোটেলের নাম, দূরত্ব, কোন তারিখ থেকে কোন তারিখ পর্যন্ত মোট কয় রাত বুকিং, কোন তারিখ পর্যন্ত বিনা মাশুলে বুকিং ক্যান্সেল করা যাবে, ইত্যাদি তথ্য সম্বলিত এক্সেল-স্প্রেডশিট দ্রুত তৈরি করে আপডেট করে ফেলি সবাই।

জানুয়ারি ২০২৩’এ “নুসুক” পোর্টালে ছবি, পাসপোর্টের কপি, ই-মেইল এড্রেস, ইত্যাদি তথ্য দিয়ে একাউন্ট খুলে আমরা সবাই অপেক্ষা করতে থাকি হজ প্যাকেজ রিলিজ হওয়ার জন্য। সৌদি আরব সরকার থেকে সময়োপযোগী তেমন কোনো তথ্য না পাওয়ায় যতই দিন যাচ্ছে ততই “হজ ২০২৩” হোয়াটসএপ গ্ৰুপে অনুমান-ভিত্তিক অসংখ্য তথ্য আসার পাশাপাশি বাড়তে থাকে নানা রকম সম্ভাবনা, যাচাই-বাছাই, সম্ভাব্যতার বিশ্লেষণ, ইত্যাদি। এসব নিয়ে আলোচনা- পর্যালোচনার জন্যে আমাদের পাঁচ পরিবারের মাঝে নিয়মিত ফোনে যোগাযোগের মাত্রাও বাড়তে থাকে। হজে যেতে পারার চেষ্টায় আশাবাদী হয়েও কিছুটা অনিশ্চয়তার অনুভূতি আমাদের সবার মাঝে। এক পর্যায়ে মুকুট প্রস্তাব দেয় - “নুসুক”-এর জটিলতার মধ্যে থাকার চেয়ে সহজেই বাংলাদেশ থেকে মোয়াল্লেম নির্ভর স্থানীয় ট্রাভেল এজেন্ট কিংবা হজ এজেন্সির মাধ্যমে হজে গেলে কেমন হয়? আমাদের কারোই কোনো আগ্রহ নেই মুকুটের এই প্রস্তাবে।

মার্চ ২০২৩-এ হঠাৎ হোয়াটসএপ গ্ৰুপে খবর এলো - এবারের হজে সাশ্রয়ী মূল্যের “ল্যান্ড-প্যাকেজ” অর্থাৎ শুধুমাত্র হজের অত্যাবশ্যকীয় ৬দিনের জন্যে প্যাকেজ আসতে পারে। এই খবরে আমরা চার পরিবার আশাবাদী হয়ে একটু নড়ে-চড়ে বসি এই ভেবে যে - অক্টোবর ২০২২’এ সাশ্রয়ী মূল্যে কেনা প্লেনের টিকেট ও পরবর্তীতে মক্কা-মদিনায় হোটেল বুকিং আমাদের হয়তো কাজে লাগতেও পারে। কিন্তু ক্যানবেরা-র মুকুট-জাহিদা পরিবারের প্লেনের টিকেট ও হোটেল বুকিং না থাকায় একটু চিন্তিত হই আমরা সবাই।

কয়েকদিন পরে, এপ্রিল ২০২৩-এ হোয়াটসএপ গ্ৰুপে “সুন্নাহ ফাউন্ডেশন” এবং “দারুস সালাম” নামের অস্ট্রেলিয়া ভিত্তিক প্রতিনিধিরা নিজেদেরকে সৌদি আরবের আল-বাইত ও এমসিডিসি হজ প্রোভাইডারের অস্ট্রেলিয়ার “সাব-এজেন্ট” হিসাবে আত্মপ্রকাশ করে। জ্যুমের মাধ্যমে অনলাইনে মিটিং-এর আয়োজন করে অস্ট্রেলিয়া থেকে হজে গমনেচ্ছুক সবাইকে সংযুক্ত হওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়ে তাঁদের নিয়ম-কানুন এবং পদ্ধতির বর্ণনা দেয়। এক পর্যায়ে তাঁরা জানায় - ২০২৩সালে হজে যাওয়ার জন্যে সৌদি আরব সরকারের নেয়া দেশ প্রতি ১০০০জন মুসলিমের জন্যে ১জন এই কোটার প্রচলন, বিগত বছরের তুলনায় অপ্রত্যাশিত অতিরিক্ত খরচের আগাম আভাস, এবং তাঁদের কাছে “এক্সপ্রেশন অফ ইন্টারেস্ট (ইওআই)” ফর্ম দাখিল করলে অস্ট্রেলিয়ার সর্বমোট হজ কোটা ৬৭১ জনের মধ্যে অগ্রাধিকার পেয়ে তাঁদের প্যাকেজ পাওয়ার নিশ্চিত সম্ভাবনা, ইত্যাদি। একদিকে “নুসুক-এর অনিশ্চয়াতাজনক জটিলতা আর অন্যদিকে সাব-এজেন্টদের ইওআই’র নিশ্চিত সম্ভাবনার লোভনীয় আমন্ত্রণ - অনেকটা গোলক ধাঁধার মতো অবস্থা। আলোচনার ভিত্তিতে, অনেকের মতোই মুকুট-জাহিদা, ব্রাইট-তিন্নী এবং আহাদ-রিমু - এই তিন পরিবার তাদের ইওআই দাখিল করলো সাব-এজেন্টদের কাছে। আমার সহধর্মিণী আর আমার মতামত হলো - আমরা দেখতে চাই সৌদি আরব সরকারের অফিসিয়াল পোর্টাল “নুসুক”এ বিভিন্ন কি কি প্যাকেজ আসে তা’ দেখে আমাদের পছন্দনীয় প্যাকেজ কেনা। একই মতামত আয়াত-মিতা পরিবারের। আর তাই আমরা এই দুই পরিবার ইওআই দাখিল না করে “নুসুক”এ অফিসিয়াল প্যাকেজ ঘোষণার অপেক্ষায় থাকি।

অবশেষে ২৩শে মে ২০২৩ সন্ধ্যায় হঠাৎ কোনো রকম পূর্ব বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই “নুসুক” পোর্টালে খোলা আমাদের একাউন্টে অস্ট্রেলিয়ার জন্যে সৌদি রিয়েল-এ প্রদর্শিত বিভিন্ন মূল্যমানের হজ প্যাকেজ এক এক করে আসতে শুরু করে। সকল জল্পনা-কল্পনার অবসানে “ল্যান্ড প্যাকেজ” কিংবা “সাব-এজেন্টদের ইওআই’র নিশ্চিত সম্ভাবনার আমন্ত্রণ” কোনাটাই আসেনি “নুসুক” পোর্টালে। আমার সহধর্মিণী-আমার একাউন্টে বিভিন্ন হজ প্যাকেজ দেখে, আমাদের পছন্দনীয় ১৮দিনের ডাবল অকুপেন্সির হজ প্যাকেজ কিনতে সফল হই মাত্র ১৪ মিনিটে। আমরা ছাড়া বাকি চার পরিবার অনেকবার চেষ্টা করেও “নুসুক” পোর্টাল থেকে হজ প্যাকেজ কিনতে ব্যর্থ হওয়াতে আমাদের সবারই মনের অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। অনেকটা হতাশ হয়ে বাকি চার পরিবারের সাথে ফোনে কয়েকবার কনফারেন্স কলে সংযুক্ত হয়ে সবার সাথে কথা বলে পরবর্তীতে কি করা যায় তা’ নিয়ে কিছু আলোচনা করেও কোনো সিদ্ধান্তে আসতে পারলাম না। রাত বারোটার দিকে আমার সহধর্মিণী আমাকে বলে - চলো আমরা চার পরিবারের জন্যে আজকের রাত জেগে দেখি “নুসুক” পোর্টালে আরও কোনো হজ প্যাকেজ রিলিজ হয় কিনা? মনে হলো আইডিয়াটি মন্দ নয় - চেষ্টা করে দেখতে তো দোষ নেই। রাত বারোটার পরে আমার সহধর্মিণী সবাইকে ফোন করে ঘুম থেকে উঠিয়ে কম্পিউটারে লগ-ইন করে নতুন কোনো প্যাকেজ রিলিজ হয় কিনা তা’ দেখার জন্যে “নুসুক” পোর্টালে যার-যার একাউন্টে থাকতে অনুরোধ করে। হতাশার সুরে সবাই আমার সহধর্মিণীর অনুরোধকে সম্মান দেখায়। সত্যি-সত্যি “নুসুক” পোর্টালে পর্যায়ক্রমে আরও কিছু প্যাকেজ রিলিজ হওয়াতে রাত দেড়টায় ব্রাইট-তিন্নী ও রাত তিনটায় মুকুট-জাহিদা পরিবার হজ প্যাকেজ কিনতে সক্ষম হয়। বাকি থাকলো আহাদ-রিমু ও আয়াত-মিতা পরিবার। আমাদের তিন পরিবার ভিন্ন-ভিন্ন হজ প্যাকেজ কিনতে পেরে স্বস্তি পেলেও সবসময় মনটা খারাপ থাকে বাকি দুই পরিবারের জন্যে। আমার সহধর্মিণী মিতা ভাবীর সাথে আর আমি আহাদ ভাইয়ের সাথে নিয়মিত ফোনে যোগাযোগ রেখে অনুপ্রেরণা দিয়ে যাই আরেকটু ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করার জন্যে। আশ্চর্যজনকভাবে কয়েকদিন পরে আবার কিছু প্যাকেজ রিলিজ হওয়াতে প্যাকেজ কিনতে সফল হয় বাকি দুই পরিবার! পাঁচ পরিবারের কেনা প্যাকেজ পাঁচ রকম। যেমন প্যাকেজের ব্যাপ্তিকাল, আবাসন ব্যবস্থা (প্রতি রুমে দুইজন কিংবা চারজন শেয়ারিং), সংশ্লিষ্ট হোটেলের দূরত্ব, সৌদি আরবে অভ্যন্তরীণ যাতায়াতের মাধ্যম (বাস কিংবা ট্রেন), জামারাত থেকে মিনা ক্যাম্পের দূরত্ব এবং ক্যাম্পের সুযোগ-সুবিধা, ইত্যাদি।

ইউরেকা - আমাদের সবার আনন্দ আর ধরে না! পূর্ণ উদ্যমে আমরা পাঁচ পরিবার আবার ব্যস্ত হয়ে যাই আমাদের পরবর্তী প্রস্তুতির জন্যে। সবার সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে আমরা সবাই - জিপি-র কাছ থেকে মেনিনজাইটিস ভ্যাকসিন নিই, myGov একাউন্ট থেকে সকল ভ্যাকসিন নেয়ার তথ্য সম্বলিত “আন্তর্জাতিক ভ্যাকসিন সার্টিফিকেট” ডাউনলোড করি, রাত আটটায় নিয়মিত অনলাইনে হজ ক্লাসে অংশগ্রহণ করে হজের

বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞান আহরণ করি, ইন-পারসন হজ সেমিনারে যোগদান করি, প্রয়োজনীয় শপিং করি (হিজাব, জিলবাব, ইহরাম, ইহরামের বেল্ট, মিসওয়াক; Skechers, Anaconda, Decathlon থেকে আরামদায়ক হাঁটার জুতা ও দুই ফিতার স্যান্ডেল, মরুভূমির দেশে গরম আবহাওয়ার উপযোগী কাপড়-চোপড়, ইত্যাদি), জিপি-কে হজের বিষয়ে বর্ণনা দিয়ে এবং অনুরোধ করে প্রেসক্রিপশন ও সার্টিফিকেট নিয়ে সম্ভাব্য বিভিন্ন ধরণের অসুখের জন্যে “জাস্ট-ইন-কেস কাজে লাগতেও পারে” এমন প্রয়োজনীয় ঔষধ কিনি, ইত্যাদি।

হজের জন্যে কেনা কিছু প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র






অবশেষে জুন ২০২৩’এ যার-যার প্যাকেজের ফ্লাইট অনুযায়ী আমরা সবাই “লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা, ওয়ান নি’মাতা লাকা ওয়াল মুলক, লা শারিকা লাক” ধ্বনিতে সিডনি থেকে রওনা হই সৌদি আরবের উদ্দেশে।

প্যাকেজ ভিন্নতার কারণে আমাদের থাকার ব্যবস্থা ভিন্ন হোটেলে হলেও মক্কা-মদিনাতে আমরা সুযোগ পেয়েছি একসাথে - নামাজ পড়ার, পবিত্র কাবা শরীফ তাওয়াফ করার, জমজমের পানি পান করার। সর্বোপরি পবিত্র হজের দিনে আরাফা ময়দানে সারা বিশ্বের ১.৮৪৫মিলিয়ন ধর্মপ্রাণ মুসলিমদের সাথে আমরা পাঁচ পরিবার মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে নিজেদের উপস্থিতি জানিয়ে পাপ মুক্তির আকুল বাসনায় ইবাদতে শরিক হতে পেরেছি। আলহামদুল্লিলাহ - ২০২৩সালে “নুসুক” পোর্টালে হজের জটিল প্রক্রিয়া ও প্রতিযোগিতামূলক অনিশ্চিত সামগ্রিক অবস্থায় মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে অস্ট্রেলিয়া থেকে প্রায় ৭০০জনের হজের কাফেলায় সুস্থভাবে পবিত্র হজ পালন করে জুলাই ২০২৩’র প্রথম সপ্তাহে আমরা সবাই সিডনিতে নিরাপদে পৌঁছিয়েছি।

জুন ২০২৩’এ হজে যাওয়ার আগে দীর্ঘ ৮ মাসের (অক্টোবর ২০২২- মে ২০২৩) প্রস্তুতির বিভিন্ন পদক্ষেপে, আমাদের পাঁচ পরিবারের মাঝে সামান্য কিছু মতপার্থক্য (অগ্রিম প্লেনের টিকেট কেনা, সহজেই বাংলাদেশ হয়ে হজে যাওয়ার প্রস্তাব, সাব-এজেন্টদের কাছে ইওআই দাখিল করা) হলেও কখনই মতানৈক্য হয়নি। সুস্থ ও যুক্তিপূর্ণ আলোচনায় একে অপরের প্রতি পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের মাধ্যমে পবিত্র হজ করার এক ও অভিন্ন লক্ষ্য নিয়ে - টিম ওয়ার্ক দিয়ে আমাদের সবার “মিশন পসিবল” হয়েছে।

শুনেছি মহান আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য হজের একমাত্র পুরস্কার জান্নাত। তাই আশাকরি আমাদের পরবর্তী জীবনে আমরা এই পাঁচ পরিবার আরও অনেকের সাথে জান্নাতে যেতে পারবো - ইনশাল্লাহ।

(প্রিয় পাঠক / পাঠিকা - ব্যক্তিগত গোপনীয়তার কারণে সবার ছদ্মনাম ব্যবহার করেছি। আরো বলে রাখি, ইতিমধ্যে প্লেনের টিকেটের মূল্য অল্প কিছু মাশুল দিয়ে ফেরত পেয়েছি)

০২/০১/২০২৪



মাসুদ পারভেজ, সিডনি - mmparvez@yahoo.com





Share on Facebook               Home Page             Published on: 4-Jan-2024

Coming Events: