bangla-sydney
bangla-sydney.com
News and views of Bangladeshi community in Sydney













গল্প

ভাই ভাই রেস্টুরেন্ট
মাসুদ পারভেজ



আত্মীয়তা আর বন্ধুত্বের বন্ধনে সর্দার-রেশমী, মোতাহার-মনা, হামিদ-হামিদা, মায়া-শহীদ এবং শিউলি-মাসুক এই পাঁচ পরিবার সিডনির বিভিন্ন সাবার্বে থাকেন। শিউলি-মাসুক সবার বয়োকনিষ্ঠ হলেও দীর্ঘ দিনের ঘনিষ্ঠতায় পারস্পারিক সম্মান দেয়া-নেয়ার মাধ্যমে তাঁদের মধ্যে বন্ধুত্বের বন্ধন তৈরী হয়েছে। প্রায়ই দেখা-সাক্ষাৎ হয় সবার সাথে। ভূরি-ভোজ আর আড্ডায় মনের আন্তরিকতায় মধুর সম্পর্কে একে অপরের খুব কাছাকাছি। পাঁচ পরিবারের সবাই উচ্চ শিক্ষিত, মার্জিত এবং সফল পেশাজীবী।

হামিদ ভাই কাজের ব্যস্ততাকে নিজের ভেতরে লুকিয়ে রাখতে পছন্দ করলেও হামিদা ভাবি বিভিন্ন কাজে অত্যন্ত ব্যস্ত থাকায় সবসময়ে সরল মনে তার বর্ণনা দিয়ে নিজেকে বিজি-বিজি বলে সবাইকে হাসিয়ে তোলেন। মায়া আপার শুদ্ধ বাংলার বাঁধুনি দিয়ে দরদ মাখা হাসিতে-কথায় যেন মুক্তা ঝরে। আর শহীদ ভাইয়ের তরুণ বয়সের বজ্র-কণ্ঠের অবশিষ্টতা রয়েছে এখনো। এক অপূর্ব কম্বিনেশন মায়া আপা-শহীদ ভাই।

সর্দার ভাই সবসময়ে কথায় কিংবা কাজে সবার ওপরে থাকতে চান। আর আলোচনার যেকোন বিষয়ে তাঁর জ্ঞানের ভাণ্ডার অপরিসীম তার প্রমাণ দিয়ে থাকেন। এইতো সেদিন পারিবারিক এক দাওয়াতে হঠাৎ তিনি সবাইকে জিজ্ঞেস করেন - আচ্ছা বলেন তো - চায়না কিংবা রাশিয়ায় আজীবন রাষ্ট্রপ্রধানের নীতি চালু হলে ইন্টারন্যাশনাল পলিটিক্সে কি প্রভাব ফেলতে পারে? বর্তমানে এক অভিজাত বিপণী মার্কেটের স্বত্বাধিকারী শহীদ ভাই তাঁর ঝটপট ঝাঁজালো কণ্ঠে উত্তর দিলেন আরে ভাই, আমরা হলাম দিন আনি, দিন খাই, আমাদের এই আলোচনায় কোনো লাভ আছে বলে মনে হয় না, তার চেয়ে ক্রিকেটের কোনো খবর থাকলে বলেন।

এক সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোতাহার সাহেব বলেন - চায়না-রাশিয়া একসাথে জোট বাঁধলে পৃথিবীতে শক্তিধর দেশের মধ্যে একটা ব্যাল্যান্স হবে। মাসুক সাহেব কথা বলেন কম, শুনতে বেশি পছন্দ করেন। মোতাহার সাহেবের অভিমত পছন্দ হওয়ায়, সুর মিলিয়ে তিনি বলেন - আমার মনে হয় পৃথিবীর আরো অনেক দেশ চায়না-রাশিয়ার পদাঙ্ক অনুসরণ করবে। তরুণ বয়সে রাশিয়ায় বেশ কয়েক বছর লেখাপড়া করা সর্দার ভাই বলেন - আমি শিওর যে পৃথিবীর অনেক দেশের অপোজিশন লিডারদের কোণঠাসা করার জন্যে এই দুই দেশের জোরালো ভূমিকা থাকবে।

আলোচনার টপিকস বদলানোর জন্যে মাসুক সাহেব বলেন -স্মার্টফোন সম্পর্কে আপনাদের মতামত কি? সর্দার ভাইয়ের সরাসরি উত্তর - আপনারা যাকে স্মার্টফোন বলেন তা আমার কাছে স্মার্ট নয়। স্মার্টফোন সেদিন আমার কাছে স্মার্ট হবে, মনের ভুলে ফোন হারিয়ে আমি যখন ডাকবো - প্রিয় ফোন কোথায় তুমি? আর সাথে সাথে ইথারে ভেসে আসবে, আমি আপনার পকেটে - ঠিক যেমন সুন্দর করে কথা বলে - অভিনেত্রী অড্রে হেপবার্নের মতো দেখতে রোবর্ট সোফিয়া। মোতাহার সাহেবের জ্ঞানগর্ভ বক্তব্য - আমাদের সময় কেউ নিজে নিজে হাসলে সবাই বলতো - ওকে ভূতে ধরেছে। আর এখন স্মার্টফোন দেখে দেখে সবাই যখন তখন হাসে। আমার মনে হয় সেদিন আর বেশি দূরে নয় যখন টেলিভিশনে দেখা যাবে গ্যারান্টি সহকারে মাত্র ৭ দিনে স্মার্টফোনের আসক্তি ছাড়ানোর চিকিৎসা সেবার বিজ্ঞাপন। মাসুক শোনো - এই বলে শহীদ ভাই শুরু করেন - কয়েকদিন আগে আমার ছেলে মানে তোমার ভাতিজা তার আইফোন সারানোর জন্যে দোকানে দিয়ে বাসায় এসে চুপচাপ বসে ছিল ঘণ্টা দুয়েকের মতো। তাকে দেখে মনে হয়েছে প্রিয়জনের কেউ লাইফ সাপোর্টে আইসিইউতে আছে। শহীদ ভাইয়ের মন্তব্যের সাথে একমত হয়ে মাসুক সাহেব বলেন - স্মার্টফোনের ব্যবহার দেখে মনে হয় আমাদের ছেলে-মেয়েদের মূল্যবান ধন-সম্পদের খনি কিংবা রহস্য ঐ ছোট যন্ত্রের ভেতরে লুকিয়ে আছে।

দেশীয় খাবার তৈরিতে পারদর্শী মোতাহার সাহেব তাঁর বাসায় হেড বাবুর্চি। অন্যদিকে হামিদ ভাই মোঘল আমলের বিরিয়ানি, রোস্ট, পোলাও, কাবাব, ইত্যাদি রান্নায় দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন তাঁর বাসায় এবং কমিউনিটি প্রোগ্রামে। কিছুদিন আগে তিনশো জনের খাওয়ার জন্যে তিনি নিজ হাতে বিয়ের রান্না করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। সর্দার ভাইও কম কিসের? আমাদের দৃষ্টিতে বিদেশী এবং এক্সোটিক ডিশ তৈরীতে শিক্ষানবিশ হলেও তা মানতে রাজি নন তিনি। তবে মজার বিষয় হলো - তাঁর ক্রিয়েটিভিটি আর ডেকোরেশনের ক্ষমতা তুলনাহীন। কৌতুক করে তাই সর্দার ভাই প্রায়ই শহীদ ভাইকে বলেন - আপনি তো শুধু ব্যবসা করে মার্কেটের উন্নয়ন করায় ব্যস্ত, বাসায় মায়া আপাকে একটু সাপোর্ট দিলেও তো পারেন।

রান্না-বান্নায় মাসুক সাহেবের অক্ষমতার কথা কারো অজানা নেই। আর এই সুযোগ নিয়ে সর্দার ভাই মন্তব্য করেন - কি যে ছাই-পাশ অশ্বডিম্ব লিখে সময় কাটান। একটু মনোযোগী হোন রান্না-বান্নায়, দেশী না পারলে বিদেশী মেন্যু নিয়ে নাড়া-চাড়া করতে পারেন, একদিন দেখবেন এক্সপার্ট হয়ে যাবেন। আপনার তো আবার ফেসবুকের একাউন্ট নেই। তাড়াতাড়ি একটি ফেসবুক আইডি ওপেন করে, বিনা পয়সায় ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠিয়ে আমার ফেসবুকে দেয়া স্ট্যাটাস দেখেও অন্ততঃ জেনে নিতে পারেন কিভাবে বিদেশী রান্না করতে হয়। কিংবা সেটাতেও যদি আগ্রহ না থাকে তবে গতকালের দেয়া পোস্টিং পড়ে বুঝে নিন সনেট-কবিতা কিংবা গল্প-উপন্যাস কাকে বলে এবং কিভাবে লিখতে হয়। আমার মাথায় ধরে না - আপনার মতো সাইন্সের স্টুডেন্টের বাংলার প্রতি এতো আগ্রহ কেন? আমার মনে হয় বাংলায় লেখা-লেখি বাদ দিয়ে সায়েন্সে মনোযোগ দিলে আপনার কাছ থেকে মানুষ কিছু পেত। আপনাদের মতো আধুনিক মাথা-মোটা নবীন সাহিত্যিকদের সাথে আমি যদি গা ভাসিয়ে লিখতাম তবে প্রতি বই মেলাতে অন্ততঃ একটি করে বই বের হতো।

সর্দার ভাইয়ের বাসার দাওয়াতে সবসময়ই চমক থাকে। চল্লিশ-পঞ্চাশ জনকে দাওয়াত দিয়ে আট জন বসার ডাইনিং টেবিলে কোন কোন ধাপে কাকে কাকে বসতে হবে, কার পাশে কে বসবে, খাবারের মেন্যুতে থাকা কোন আইটেম তিনি রেঁধেছেন, কোন আইটেমে কোন ইনগ্রিডিয়েন্ট রয়েছে, কোন আইটেমের পর কোন আইটেম নিতে হবে, কোন আইটেমের ওপর কেন গোলাপ ফুল সাজিয়ে দেয়া হয়েছে, কি পোজ দিয়ে ছবি তুলতে হবে, কোন ছবি ফেসবুকে আর কোন ছবি আর্কাইভে যাবে, ইত্যাদির বর্ণনা সহ সব তদারকি তাঁর পরিচালনায় কিংবা নির্দেশে - অনেকটা হাফিয়ে ওঠার মতো হলেও নাটকীয় অনেক দৃশ্য দেখার সুযোগ রয়েছে।

প্রফেশনাল লেখাপড়া শেষে মাসুক সাহেব জীবিকার তাগিদে আগ্রহ ভরে ফাইন্যান্স, একাউন্টিং, প্রকিউরমেন্ট, প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট, আইটি, ইত্যাদি বিষয়ে উচ্চতর কোয়ালিফিকেশন নিয়ে এখন একজন উচ্চ পদস্থ সরকারি কর্মকর্তা। বিজনেস সল্যুশন তাঁর দক্ষতা। সিডনির আইকনিক স্পট - হারবার ব্রিজ ও অপেরা হাউসের পাশে ট্রেনে চড়ে সার্কুলার-কি স্টেশনে মাসুক সাহেব ইদানীং প্রায়ই আসেন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ক্লায়েন্ট মিটিং, পার্টনারশিপ প্রজেক্ট প্ল্যানিং কিংবা অফিসের কাজে। এই আসা-যাওয়ার মাঝে দেখা হয় বিভিন্ন দেশের টুরিস্টদের সাথে। একদিন হঠাৎ করে এক প্রজেক্টের বুদ্ধি আসে মাসুক সাহেবের মাথায়।

সবাইকে একদিন একসাথে পেয়ে মাসুক সাহেব জিজ্ঞেস করেন - রিটায়ারমেন্টের পরে আপনাদের পরিকল্পনা কি? ব্যবসায় এক্সসাইটমেন্ট আছে কিন্তু বিশ্রাম নেই - বলেন শহীদ ভাই। আর তাই বিশ্রামের পাশাপাশি সচল থাকার জন্যে হালকা কাজ করে রিটায়ারমেন্টের সময় কাটাতে চাই। মোতাহার সাহেব বলেন - নাতি, পুতি নিয়ে খেলা করে আর ঘন ঘন দেশে বেড়াতে যেতে চাই রিটায়ারমেন্টের পরে। হামিদ ভাইয়ের মতামত অনেকটা মোতাহার সাহেবের মতো হলেও বেশী বেশী ধর্ম-কর্ম করে সময় কাটাতে চান তিনি।

আগেই বলেছি - সর্দার ভাই সব সময়ে সবার ওপরে থাকতে চান। এবারেও তার ব্যতিক্রম হলো না। সর্দার ভাই বলেন - তরুণ বয়সে ক্রিয়েটিভ ইনিস্টিটিউট-এ পড়ার সময় থেকেই রিটায়ারমেন্টের পরে কি করবো তার কিছু প্ল্যান করে রেখেছি। আর এসোসিয়েশন অফ আইডিয়াস-এ পাঁচ বছর প্রেসিডেন্ট থাকার সময় ভেবেছি - তরুণ বয়সে নেয়া আমার প্ল্যান কিভাবে বাস্তবায়ন করবো। তবে আমারটা বলার আগে শুনতে চাই আপনি কি বলেন।

মাসুক সাহেব দেরি না করে তাঁর মাথায় আসা প্রজেক্টের কথা শেয়ার করেন: সার্কুলার-কি স্টেশনের কাছাকাছি আমরা যদি সবাই মিলে একটা রেস্টুরেন্ট দেই তাহলে মনে হয় ভালো চলবে। আমাদের এই মহতী প্রজেক্টের নাম হবে - ভাই ভাই রেস্টুরেন্ট - যার উদ্দেশ্য মুনাফা করা নয় বরং সাশ্রয়ী মূল্যে কমিউনিটিতে এবং টুরিস্টদের কাছে আন্তর্জাতিক মানের সেবা প্রদান করা। আর টুরিস্টদের সাথে আমাদের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও ডাইভারসিটির পরিচয় করানো - এই বলে মাসুক সাহেব তাঁর প্রজেক্ট প্ল্যানের মোড়ক উন্মোচন করেন। তারপরে তিনি - সর্দার ভাই, মোতাহার সাহেব এবং হামিদ ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে বলতে থাকেন - আপনারা তিন জন বিশিষ্ট রন্ধন বিশারদ হবেন চিফ শেফ। একেকদিন একেক মেন্যু হবে আপনাদের নিজস্ব রেসিপি এবং অভিজ্ঞ হাতের ছোঁয়াতে। যেমন ধরুন - শনিবার বিদেশী ডিশ (সর্দার ভাইয়ের পরিচালনায় - ইটালিয়ান, মেক্সিকান, স্প্যানিশ, ইত্যাদি), রোববার মোঘল ডিশ (হামিদ ভাইয়ের পরিচালনায় - বিরিয়ানি, রোস্ট, পোলাও, কাবাব, ইত্যাদি), সোমবার দেশীয় ডিশ (মোতাহার সাহেবের পরিচালনায় - ভর্তা, ভাজি, ডাল, সাদা ভাত, ইলিশ মাছ, ইত্যাদি), মঙ্গলবার এক্সোটিক-ক্রিয়েটিভ ডিশ (সর্দার ভাইয়ের পরিচালনায় - পান পাতা দিয়ে ছোট মাছ, লিচু দিয়ে গরুর মাংস, কচু দিয়ে ডাল, বাঁধাকপি দিয়ে ইলিশ মাছ, ইত্যাদি)। মেন ডিশের পাশাপাশি ডেজার্ট, চা, কফি, আইসক্রিম, জুস্ ইত্যাদিও থাকবে। বুধবার থেকে শুক্রবার এই তিনদিন - বিশ্রাম, ধর্ম-কর্ম, নাতি-পুতির সাথে খেলাধুলা, সমাজ-সেবা, ডাক্তারের এপয়েন্টমেন্ট, ইত্যাদির জন্যে সাপ্তাহিক বন্ধ থাকবে। রেশমী আপার তত্ত্বাবধানে মমতাময়ী দরদে, ফুলের সুবাসে - মায়া আপা, মনা আপা, হামিদা ভাবি আর শিউলি ভাবি খাওয়া পরিবেশন করবেন বিডি (বিজনেস ডেলিভারি) টিম থেকে। টাকা-পয়সা নাড়া-চাড়া এবং নিরাপদে, বিচক্ষণতার সাথে দীর্ঘ দিনের ব্যবসা করার অভিজ্ঞতা সম্পন্ন শহীদ ভাই থাকবেন ক্যাশ এবং সিসিটিভি ক্যামেরার দায়িত্বে। আর এই রেস্টুরেন্টের যখন যেখানে যে সাপোর্ট লাগবে তার জন্যে সার্বক্ষণিক তৈরী থাকবো আমি - এই বলে মাসুক সাহেব তাঁর প্রজেক্টের বিস্তারিত বর্ণনা দেন এক নিঃশ্বাসে। একই সাথে আরো বলেন - এই মহতী প্রজেক্টের আরেকটি উদ্দেশ্য হলো - আমাদের পাঁচ পরিবার বুড়ো বয়সে সবাই একই সাথে থেকে, একে অপরের দেখাশুনা করে, একই কাজের মধ্যে থাকলে একদিকে যেমন ছেলে-মেয়েদের ওপর নির্ভরশীল হতে হবে না, অন্যদিকে রিটায়ারমেন্ট ভিলেজে বাস করে দিন গুনতে হবে না। সবাইকে ধৈর্য ধরে শোনার জন্যে ধন্যবাদ এবং প্রস্তাবিত প্রজেক্টের ওপর তাঁদের মতামতের অনুরোধ জানিয়ে মাসুক সাহেব তাঁর কথা শেষ করেন।

কড়া হাততালি দিয়ে সর্দার ভাই বলেন - অ্যামেজিং, আই এম ইন, কাম-অন-অস্ট্রেলিয়া, মাসুক সাহেব - ইউ আর এ জিনিয়াস!!! বাকি সবাই তাঁদের সম্মতি দিয়ে আগামীকাল থেকেই প্রজেক্ট বাস্তবায়নের জন্যে আগ্রহ প্রকাশ করেন।

মাসুক শোনো - এই বলে শহীদ ভাই বলেন তবে একটা কথা আছে। তোমার নিশ্চয়ই মনে আছে - চা পাতার বদলে পেয়ারা পাতা ফুটিয়ে সালসা চা বানিয়ে সর্দার ভাই আমাদের দিয়েছিলেন এক দাওয়াতে। ওই রকম কিংবা হোগলা পাতার মেডিসিনাল চায়ের রেসিপি যেদিন থাকবে সেদিন আমি ক্যাশে থাকবো না, কাস্টমারের মার খাওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। ঐদিন তুমি অল্টারনেট ব্যবস্থা করো। মাসুক সাহেবের অনুরোধে হুদা ভাই আর জুলেখা আপা ভাই ভাই রেস্টুরেন্ট-এ যোগ দিয়েছেন। লজিস্টিক সাপোর্ট এবং হসপিটালিটি ইন্ডাস্ট্রিতে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন হুদা ভাই ফ্রেশ সবজি, মাছ, মাংস, চিফ শেফদের অর্ডার অনুযায়ী অন্যান্য ইনগ্রেডিয়েন্ট, ইত্যাদির সামগ্রিক কেনা-কাটা, বাজার করার দায়িত্ব নেন। আর জুলেখা আপা সহাস্যে যোগ দিয়েছেন বিডি টিমে।

ইতিমধ্যে ভাই ভাই রেস্টুরেন্ট-এর সুনাম চারিদিকে ছড়িয়ে পড়েছে, সিডনি-টেলিগ্রাফ পত্রিকার শিরোনামে এসেছে, সিডনি সিটি কাউন্সিল থেকে মডার্ন, ক্রিয়েটিভ এবং হেরিটেজ ফুড ক্যাটাগরিতে প্রিমিয়ার অ্যাওয়ার্ড পেয়েছে, বিডি টিম পেয়েছে এক্সসিলেন্স অ্যাওয়ার্ড তাঁদের টিম-ওয়ার্ক, প্যাশন আর ডেডিকেশনের জন্যে। চিফ শেফদের ডাক পড়েছে ফ্রানচাইস এগ্রিমেন্টের জন্যে। লোভনীয় অফারের মধ্যে রয়েছে চ্যানেল এভরি-ডে থেকে সপ্তাহের একদিন মাল্টিকালচারাল মাই কিচেন অনুষ্ঠান পরিচালনার। এবছরে মাসুক সাহেব আন্তর্জাতিক সংস্থা - ফ্রম-আইডিয়া-টু-ইমপ্লিমেন্টেশন থেকে স্মল-এন্ড-মিডিয়াম বিজনেস সল্যুশন ক্যাটাগরিতে সফল উদ্যোক্তা-র নোমিনেশন পেয়েছেন।

শিউলি-মাসুক দম্পতির ইচ্ছা আরো কয়েক বছর পরে তাঁদের বর্তমানের সরকারি চাকরি থেকে রিটায়ারমেন্ট নিয়ে ভাই ভাই রেস্টুরেন্ট-এ ফুল টাইম যোগ দেবেন। তাই তাঁরা ভাই ভাই রেস্টুরেন্ট-এর জনপ্রিয়তায়-সাফল্যের অংশীদার হতে পেরে গর্বিত। রিটায়ারমেন্টের পরে অনেকের জীবন আইসক্রিমের মতো ঠাণ্ডা হয়ে গেলেও ভাই ভাই রেস্টুরেন্ট নিয়ে এসেছে বন্ধুত্বের বন্ধনে গতিময় আরেক নতুন জীবন।

আচমকা শব্দে মাসুক সাহেব চোখ খুলে দেখেন - অনেক দিনের পরিচিত সিডনি এয়ারপোর্টের রানওয়েতে দ্রুত গতিতে ছুটে চলা এয়ারক্রাফট ল্যান্ড করে ক্রমশঃ গতিহীন হচ্ছে, ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছে গেটের দিকে, বাইরে সোনালী সকালের রোদের ঝিলিমিলি। পরিবারের সবাইকে নিয়ে চার সপ্তাহের পারিবারিক ভ্রমণ শেষে, ১২ ঘণ্টার রাতের ফ্লাইটে, ক্লান্ত দেহে সিডনিতে নিরাপদে ফিরে আসা নিঃসন্দেহে আনন্দের। মাসুক সাহেব ভাবছেন - তাহলে এতক্ষণ যা বলেছে, দেখেছে কিংবা শুনেছে তা কি শুধুই স্বপ্ন ছিলসত্যিই কি তাই?



মাসুদ পারভেজ, সিডনি / mmparvez@yahoo.com

প্রিয় পাঠক/পাঠিকা - আজকের গল্প নিতান্তই কাল্পনিক। বাস্তবের সাথে নামের, চরিত্রের কিংবা ঘটনার মিল নিছক কাকতালীয়।




Share on Facebook                         Home Page



                            Published on: 11-Apr-2018