bangla-sydney
bangla-sydney.com
News and views of Bangladeshi community in Sydney













চাঁদ দেখা নিয়ে বিতর্কের যেন শেষ নেই!

কাতারের সুখ দুঃখ - ২৫
ড. আব্দুল্লাহ আল-মামুন



আগের পর্ব পরের পর্ব


চাঁদ দেখা নিয়ে মুসলিম সমাজের মধ্যে বিতর্কের যেন শেষ নেই। প্রবাসে যেসব দেশে মুসলিম সম্প্রদায় সংখ্যালঘু, বিশেষ করে পশ্চিমা দেশগুলোতে রমাযানের চাঁদ দেখা না-দেখার বিষয়টি মুসলিমদের মধ্যে যে বিভাজন এনে দেয়, তা সত্যিই দুঃখজনক।

মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম অধ্যুষিত দেশে এটা কোনো সমস্যা নয়। কারণ রমজানের শুরু সরকারই নির্ধারণ করে দেয়। ফলে বিতর্কের সুযোগ থাকেনা। কাতারের কথাই ধরা যাক। কাতারে, সৌদি আরবে চাঁদ দেখার খবর পাওয়া গেলেই রমজান শুরু করার ঘোষণা দেয়া হয়। ইংল্যান্ড, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া সহ ইউরোপে সরকারী পর্যায়ে কোনো নিদর্শনা না থাকায় কমিউনিটির ইমাম এবং স্থানীয় মসজিদ কমিটির সিদ্ধান্তের দিকে সবাই তাকিয়ে থাকেন। সারাবছর নিরবচ্ছিন্ন দিন কাটালেও, ইমাম/মুফতিদের ভিন্নমত এবং আত্মকেন্দ্রিক মনোভাবের কারণে ওইসব দেশে বসবাসরত বিশাল মুসলিম সম্প্রদায় রমজান ও ঈদের চাঁদ দেখা নিয়ে অযাচিত বিতর্কে জড়িয়ে পড়ে।

দীর্ঘদিন অস্ট্রেলিয়ায় থাকার সুবাদে খুব কাছ থেকে এই বিভক্তি দেখার সুযোগ হয়েছে, যা কখনো মন থেকে মেনে নিতে পারিনি। সারা বছর ধর্ম নিয়ে কোনো রকম উদ্বেগ না থাকলেও রমজান আসলে ঈদের চাঁদ দেখা নিয়ে আড্ডায়, ইফতার মাহফিলে উঠে তর্কের ফোয়ারা। রমজান ও ঈদ আসে বৃহত্তর মুসলিম সমাজকে একীভূত করার জন্য। কিন্তু যখনই দেখি বিভেদ ও মতদ্বৈতের জালে জড়িয়ে পড়ছে সবাই, তখন এই বিভক্তির গ্লানি আমাকেও গ্রাস করে।

অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি চাঁদ দেখা নিয়ে মুসলিমরা তিন ধরনের মতবাদ নিয়ে দ্বিধা-বিভক্ত। যেমন: (১) কেবল চর্মচক্ষু দিয়ে চাঁদ দেখা; (২) জ্যোতির্বিদ্যা ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে গণনার মাধ্যমে চাঁদের অবস্থান ও কখন চাঁদ দেখা যেতে পারে ইত্যাদি নির্ধারণ করা; (৩) বিশে^র সমগ্র মুসলিম সম্প্রদায়কে একটি বৃহত্তর মুসলিম উম্মাহ মনে করে যেকোনো মুসলিম দেশে প্রথম চাঁদ দেখে গেলে সেটাকে গ্রহণ করা, যা গ্লোবাল সাইটিং নামে পরিচিত।

এই তিনটি মতামতের উপর ভিত্তিতে করেই মুসলিমরা রমজান শুরু করে। অস্ট্রেলিয়ায় পিএইচডি ধারী বহু উচ্চ শিক্ষিত ইমাম রয়েছেন। তাঁরা চাঁদ দেখা ও গণনার বিষয় নিয়ে জ্ঞানগর্ভ প্রবন্ধ লিখেছেন এবং তাদের যুক্তির স্বপক্ষে কোরআন-হাদিসের দলিল রয়েছে বলে দাবী করেছেন। প্রত্যেকেই নিজের পদ্ধতির ব্যাপারে নিশ্চিত। যদিও তারা অন্য ইমামের উল্লেখিত পদ্ধতি ভুল কি শুদ্ধ সেকথা কৌশলে এড়িয়ে চলেন, কিন্তু বিভক্তি থেকেই যায়। এমন পরিস্থিতিকে সামাল দেয়ার জন্য যতদূর মনে পড়ে, একবার অস্ট্রেলিয়ার প্রধান ইমামদের নিয়ে সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। কিন্তু তাতেও কোনো সফলতা আসেনি। কারণ, কেউ কাউকে ছাড় দিতে রাজী নন।
এ ছাড়া বিভিন্ন দেশের বংশোদ্ভূত মুসলিমদের একটি অংশ নিজ নিজ কমিউনিটির মসজিদের ইমামদের নির্দেশনা মেনেই রমযান শুরু করে থাকেন। যেমন পাকিস্তান, ভারত ও বাংলাদেশি মুসলিমরা দেশে কখন রমযান শুরু হচ্ছে সেটার খোঁজ নেন। অন্যদিকে আরব মুসলিমরা মধ্যপ্রাচ্যের খবর নিতে উদগ্রীব থাকেন। উপরের কোন ধারনাটা সঠিক তা নিয়ে আমি বিতর্কে যেতে চাইনা। তবে একজন সাধারণ মুসলিম হিসাবে বিভিন্ন মুসলিমদের সাথে আলাপচারিতায় যা জেনেছি তা এখন তুলে ধরছি।

চর্মচক্ষু দিয়ে চাঁদ দেখার কথা যারা বলেন, তাদের মনে রাখা দরকার আধুনিক যন্ত্রপাতি দিয়ে চাঁদ দেখার সময়ও চর্মচক্ষু ব্যবহার করা হয়। তাহলে কেবল চর্মচক্ষু দিয়ে চাঁদ দেখার সাথে এর পার্থক্য কোথায়? বিশে^র কিছু এলাকা আছে, যেখানে আবহাওয়া জনিত কারণে এক নাগাড়ে বেশ কিছুদিন চক্ষু দিয়ে চাঁদ দেখা সম্ভব নাও হতে পারে। আবার অন্য দিকে ধরুন আপনি একটি দ্বীপে আছেন, যেখানে কোনো আধুনিক প্রযুক্তি কিংবা মুঠোফোনও নেই। তখন কেবল চর্মচক্ষু দিয়েই চাঁদ দেখতে হবে।

আরেকটি উদাহরণ অনেকেই দিয়ে থাকেন তা হল, ইসলামের শুরু থেকে ঘড়ি আবিষ্কারের আগ পর্যন্ত সূর্যের অবস্থান দেখে প্রাত্যহিক নামাজের সময় নির্ধারণ করা হত। কিন্তু এখন আধুনিক জোতির্বিদ্যা, ঘড়ি ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে নামাজের সময়সূচী নির্ধারণ করা হচ্ছে এবং ঘড়ির কাঁটা ধরে মসজিদে আযান দেয়া হচ্ছে। নামাযের ক্ষেত্রে লাঠির ছায়ার দৈর্ঘ্য মাপার কিংবা আকাশের লালিমার প্রতি লক্ষ্য রাখা হয় না। তেমনি চাঁদ দেখার ক্ষেত্রে প্রযুক্তির সাহায্য নিতে অসুবিধা কোথায়?

বর্তমান প্রযুক্তির সাহায্যে নতুন চাঁদের জন্মের সময় নিখুঁতভাবে নির্ণয় করা যায়। তবে পৃথিবী থেকে চাঁদ দেখা মূলতঃ সূর্য-পৃথিবী-চাঁদের মধ্যবর্তী কোণ (elongation angle) কতটুকু তার উপর নির্ভর করে। এই কোণের মান যখন শূন্য ডিগ্রী তখন চাঁদের জন্ম হয়। চাঁদের এই অবস্থানকে বলা হয় Conjunction of moon or birth of new moon. ধীরে ধীরে কৌণিক দূরত্ব যখন বাড়তে থাকে তখন চাঁদ বিভিন্ন পর্যায় অতিক্রম করে। সরু কাস্তের মত আকার থেকে এই কোনের মাত্রা যখন ১৮০ ডিগ্রী হয় তখন গোল পূর্ণিমার চাঁদ আমরা দেখতে পাই।



চাঁদ দেখা, অন্য আরো বেশ কয়েকটি বিষয়ের উপর নির্ভর করে। যেমন একজন পর্যবেক্ষকের দৃষ্টির দিগন্তে চাঁদের অবস্থান (elevation angle), সূর্যাস্তের সময়, চাঁদের প্রস্থ, চন্দ্র পৃষ্ঠের উজ্জ্বলতা, তাপমাত্রা, বায়ুমণ্ডলের চাপ, আর্দ্রতা, মেঘ, বায়ুমণ্ডলের দূষণ মাত্রা, বাড়ি-ঘর, গাড়ী ও রাস্তা থেকে বিচ্ছুরিত আলো, মানুষের দৃষ্টিশক্তির তারতম্য ইত্যাদি। নতুন চাঁদের জন্ম হবার পর একটি নির্দিষ্ট সময় অবিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত তা দেখা যায়না। জন্মের পর পরিণত বা পরিপক্ক হওয়ার জন্য কমপক্ষে ১৫ ঘণ্টার সময়ের (lag time) দরকার। তার মানে কেউ যদি চাঁদ জন্ম হবার পর কমপক্ষে ১৫ ঘণ্টা অতিবাহিত হবার আগে চাঁদ দেখেছে বলে দাবী করে তাহলে বুঝতে হবে কোথাও কোনো সমস্যা আছে।

ধরুন ঢাকায় ঈদের চাঁদ দেখো গেছে বলে দাবী করা হল। ঢাকা থেকে আরো পশ্চিমে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে ঢাকার চেয়ে পাঁচ ঘণ্টা পর সূর্য ডোবে। তার মানে ঢাকার চেয়ে ইস্তাম্বুলে চাঁদ দেখা যাবার সম্ভাবনা বেশী কারণ সূর্যাস্তের সময় ইস্তাম্বুলে চাঁদের বয়স ঢাকার চেয়ে বেশী ছিল। তেমনি ঢাকা থেকে যতই পশ্চিমে যাওয়া যাবে ততই চাঁদ দেখার সম্ভাবনা বাড়তে থাকবে। আকাশ পরিষ্কার থাকার পরও ঢাকা থেকে আরো পশ্চিমের কোনো দেশে বা জায়গায় চাঁদ দেখার সংবাদ পাওয়া না গেলে সেটা সন্দেহজনক বলে ধরতে হবে। তাই বিজ্ঞানের সাহায্য নিয়ে চাঁদ দেখা নিশ্চিত করতে হলেও অনেক কাঠ-খড় পোড়াতে হয় বৈকি।

যারা ঈদের চাঁদ দেখা নিয়ে বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তি ব্যবহারের বিপক্ষে তারা বলছেন, নামাজ আর রমযান/ঈদের চাঁদ দেখাকে এক করে ফেলা ঠিক নয়। নামাযের সময় নির্ধারণ করার ব্যাপারে গণনা করার ইঙ্গিত আছে। এক্ষেত্রে স্বচক্ষে দেখতে হবে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। নামাজের সময় যেকোনোভাবে মাপা যাবে কারণ এখানে entrance of time এর কথা বলা হয়েছে। সূর্যের অবস্থানের উপর শর্তসাপেক্ষে নামায হয় কিন্তু রমযান কিংবা ঈদ শুরু করার ব্যাপারে চর্মচক্ষু দিয়ে দেখাকে মানদণ্ড হিসাবে নিতে হবে। কারণ রোজার মাস শুরুর শর্ত হিসাবে বাঁকা চাঁদ (crescent moon) দেখার কথা বলা হয়েছে astronomical new moon নয়। চাঁদ দেখাটা মুসলিমদের উপর খোদার বাধ্যবাধকতা হিসাবে আরোপ করা হয়েছে, রাসুলের সময়কার মানুষ গণনা জানতোনা বলে নয়। তাই মানুষ যদি গণনা করতেও শেখে তবুও চোখে দেখার বিষয়টি রদ হবেনা। ফলে কেউ যদি গণনার আশ্রয় নেয়, সেটা হবে বিদা (modern innovation).

অন্যদিকে গণনার পক্ষে যারা তাঁরা বলছেন, সুন্নাহ আক্ষরিক অর্থে পালন করলেই হবে না বরং প্রেক্ষাপট, স্থান-কাল-পাত্র বুঝে বাস্তবতার নিরিখে এর প্রয়োগ করতে হবে। খালি চোখে চাঁদ দেখা যে একমাত্র মাধ্যম তা ধর্মে নির্ধারণ করে দেয়া হয়নি। তাদের যুক্তি হল, টেলিস্কোপের মত যন্ত্র আমজনতার কাছে থাকার নয়, তাই খালি চোখে চাঁদ দেখা সাধারণ মানুষের উপর টেলিস্কোপ জোগাড় করার জন্য অনাবশ্যক চাপ সৃষ্টি করেনা। এছাড়া ওই সময় মুসলিম উম্মাহর মধ্যে যোগ্যতা সম্পন্ন জ্যোতির্বিজ্ঞানী কিংবা প্রযুক্তি ছিলনা যা দিয়ে চন্দ্রমাসের শুরু নির্ধারণ করা যেতো। খালি চোখে দেখাটাই মানুষের একমাত্র অবলম্বন ছিল বলেই হাদিসে সে কথা বলা হয়েছে। এছাড়া জ্যোতির্বিদ্যার সাথে জ্যোতিষশাস্ত্রকে গুলিয়ে ফেলার কারণে অনেক ইসলামিক পণ্ডিত গণনাকে নিষিদ্ধ করেছেন বলে মনে করা হয়। দুই পক্ষেরই স্বপক্ষের যুক্তি আঁকড়ে থাকার বিষয়টি এখানে লক্ষণীয় ।

বাংলাদেশে চাঁদ দেখা কমিটিই সাধারণত চাঁদ দেখার ঘোষণা দিয়ে থাকে। ইদানীং দেখছি চাঁদপুর সহ দেশের কিছু মানুষ এটা না মেনে সৌদি আরবকে অনুসরণ করে রমযান ও ঈদ পালন করছে। এদের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে বলেই মনে হচ্ছে। সরকারী নির্দেশনা উপেক্ষা করে একই দেশের মুসলিম সমাজের মধ্যে এই বিভক্তি গ্রহণযোগ্য নয়। দেশের সব মুসলিমকে একতাবদ্ধ করার জন্য কর্তৃপক্ষকে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া উচিত। না হলে আগামীতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।

মুনসাইটিং ডট কমের তথ্যানুযায়ী, বিশ্বের ১১২টি দেশের মধ্যে ৪৪টি দেশের মুসলিমরা রোজা ও ঈদ করার ক্ষেত্রে সৌদি আরবকে অনুসরণ করে, ৩৫টি দেশের মুসলিমরা স্থানীয়ভাবে চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে, ১৮টি দেশের মুসলিমরা নিজস্ব পদ্ধতি অনুসরণ করে, ১৫টি দেশ তুরস্কের গণনভিত্তিক পদ্ধতি অনুসরণ করে। দেখা যাচ্ছে, প্রায় ৪০ শতাংশ দেশ সৌদি আরবকে অনুসরণ করছে যার মধ্যে রয়েছে ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকার, মধ্য এশিয়ার বেশ কিছু দেশ। অন্যদিকে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া সহ পাক ভারত উপমহাদেশের দেশগুলো স্থানীয়ভাবে চাঁদ দেখাকে অনুসরণ করে।

সৌদি আরবের চাঁদ দেখার ঘোষণা মুসলিম বিশ^কে প্রভাবিত করে। এ নিয়ে সৌদি আরবের খামখেয়ালিপনা মুসলিম বিশে^ অনশ্চিয়তার সৃষ্টি করছে। অনেক সময় সৌদি আরবে যখন চাঁদ দেখার দাবী করা হয় তখন বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা অনুযায়ী খালি চোখে দেখা সম্ভব নয়। যেসব দেশে সৌদি আরব থেকে ১৮/১০ ঘণ্টা পর সূর্যাস্ত হচ্ছে সেখান থেকে চাঁদ দেখার খবর না আসাতে তখন সন্দেহ আরো ঘনীভূত হয়। সৌদি আরবে রয়েছে মুফতি ও জ্যোতির্বিদদের সমন্বয়ে গঠিত ছয়টি সরকারী চাঁদ দেখা কমিটি। কিন্তু অনেক সময় সৌদি জাস্টিস ডিপার্টমেন্ট, এই সব কমিটির মতামতকে অগ্রাহ্য করে কোনো একজন মুসলিমের সাক্ষ্য গ্রহণ করে চাঁদ দেখা গিয়েছে বলে ঘোষণা দিয়ে দেয়।

শুধু মুসলিম নয় হিন্দু, ইহুদি, চাইনিজরাও চন্দ্র ক্যালেন্ডার ব্যবহার করে থাকে। সৌদি আরবে সরকারীভাবে চন্দ্রমাস ভিত্তিক আরবি ক্যালেন্ডার ব্যবহার করা হয়। জ্যোতির্বিদদের মতে খালি চোখে চাঁদ দেখে মাসের হিসাব কষলে চাঁদের ঘূর্ণনের গতিবেগ, পৃথিবী ও সূর্যরে সাথে চাঁদের আপেক্ষিক দূরত্বের কারণে কোনো মাস ২৮ দিনেও শেষ হতে পারে। অথচ চন্দ্র মাস কখনো ২৮ কিংবা ৩১ দিনে শেষ হতে পারেনা। মক্কাকে মেরিডিয়ান হিসাবে ধরে মুসলিম বিশে^র জন্য একটি ক্যালেন্ডার তৈরি করার প্রস্তাব আসলেও সৌদি সরকারের সহযোগিতার অভাবে তা সম্ভবপর হয়নি।

কাতারে এসে রমজানের শুরু এবং ঈদ পালন করে বেশ স্বস্তি পাচ্ছি যা অস্ট্রেলিয়ায় কখনো পাইনি। অনেক সময় অস্ট্রেলিয়ায়, রমজান একসাথে শুরু করলেও ঈদ নিয়ে মতের ভিন্নতা থেকেই যায়। ফলে মাত্র হাতে গোনা কয়েকবার সব মতাবলম্বীদের একই দিনে ঈদ পালন করতে দেখেছি। অনেক সময় ঈদের দিন বন্ধুর বাসার বেড়াতে গিয়ে দেখেছি তারা সেদিন রোজা রেখেছে, ঈদ করবে পরের দিন। এমনও হয়েছে, একজন রোজা শুরু করেছিলেন চাঁদ দেখা দলের সাথে। সেই হিসাবে তার ত্রিশ রোজা হবার কথা। কিন্তু শেষ মুহূর্তে অন্য দলের সাথে যোগ দিয়ে ঈদ করে ফেললেন।

ভিন্ন ভিন্ন দিনে রমযান শুরু এবং ঈদ উদযাপনের জন্য মুসলিম সংখ্যালঘু দেশের মুসলিম সমাজ বহু রকমের সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। ঈদের ছুটি নিতে গেলেই বাধে গোল। দেখা গেলো আমি যেদিন ছুটির নিতে চাইলাম আমার সাথে কর্মরত অন্য একজন মুসলিম ছুটি চাইছেন পরের দিন। এভাবে মুসলিম এবং ইসলামের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। ধরা যাক, পশ্চিমা কোনো দেশ সিদ্ধান্ত নিলো মুসলিমদের জন্য ঈদ উপলক্ষে একদিন সরকারী ছুটি দেয়া হবে। মুসলিম ইমামদের সাথে আলোচনা করে কোনদিন ছুটি দেয়া যেতে পারে সেই সিদ্ধান্ত কি কর্তৃপক্ষ কখনো নিতে পারবে?

আমরা যতই লেখালেখি করি না কেন এই বিষয়ে আলেম-ওলামারা ঐক্যমত্যে না আসলে কোনো সুরাহা হবেনা। চাঁদ দেখা না-দেখা, গণনা, প্রযুক্তির ব্যবহার ও সৌদিকে অনুসরণ করা ইত্যাদি সেটা যা-ই হোকনা কেন, তা নিয়ে আমার কোনো মাথাব্যথা নেই। কারণ, ওলামারাই সিদ্ধান্ত নেবেন কোনটা গ্রহণ করা উচিত। মুসলিম সম্প্রদায় ইমামদের দিকনির্দেশনা নিয়েই চলে। তাই সমাধান তাঁদের কাছ থেকেই আসতে হবে।

বিশে^র প্রবাসীদের মুসলিমদের একটি বিরাট অংশ প্রতিবছর চাঁদ দেখা না-দেখা নিয়ে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। একজন সাধারণ মুসলিম হিসাবে আমার চাওয়া হল, যে দেশেরই বংশোদ্ভূত মুসলিম হোক না কেন, কমিউনিটির সবাই মিলে ও একাত্ম হয়ে পবিত্র রমযান ও ঈদ পালন করুক। আমাদের ছেলেমেয়েরা তাদের বন্ধুবান্ধবদের নিয়ে একই দিন, একই সাথে ঈদের আনন্দ উপভোগ করুক। (চলবে)



আগের পর্ব পরের পর্ব




ড. আব্দুল্লাহ আল-মামুন, কাতার থেকে


Share on Facebook               Home Page             Published on: 29-Apr-2020


Coming Events: