bangla-sydney
bangla-sydney.com
News and views of Bangladeshi community in Sydney












এই লিংক থেকে SolaimanLipi ডাউনলোড করে নিন



কাউসার খানের প্রতিবেদন
সাম্প্রতিক অস্ট্রেলিয়া (১১)



সন্দেহজনক তহবিল সংগ্রহকারী থেকে সাবধান!

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে সড়ক দুর্ঘটনায় এক যাত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় বাংলাদেশি উবার চালক নজরুল ইসলাম দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। তাঁর সঙ্গে সুবিচার করা হয়নি বলে নানা প্রতিক্রিয়া কাজ করছে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে। তাই নজরুলের সহযোগিতায় কিছু বাংলাদেশির পক্ষ থেকে আর্থিক তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। এ উদ্যোগ একটি নয়, বেশ কয়েকটি। এতে বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটি।
নজরুল ইসলামের সহায়তায় তহবিল সংগ্রহের একাধিক যে উদ্যোগগুলো গ্রহণ করা হয় তার প্রায় সবগুলোরই তহবিল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ছিল পাঁচ থেকে ১০ হাজার অস্ট্রেলীয় ডলার। এর মধ্যে তহবিল সংগ্রহের ওয়েবসাইট গোফান্ডমিডটকমে ১০ হাজার ডলারের জন্য আবেদন জানানো হয়। একদিনের মধ্যেই সেখানে ২৮৮ জনের মাধ্যমে ৯ হাজার ৬৮৪ ডলার সংগ্রহ করা হয়। এরপরও নজরুলের জন্য আরও কয়েকটি তহবিল সংগ্রহ অব্যাহত থাকলে এ নিয়ে বেশ কয়েকজন প্রবাসী বাংলাদেশিদের মনে প্রশ্ন ওঠে। তাঁরা নজরুলের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে জানতে পারেন, শুধুমাত্র গোফান্ডমি তহবিল সংগ্রহের কথা তিনি জানেন। এ ছাড়া, আর কেউ তার সঙ্গে কথা বলেনি। এ বিষয়ে গতকাল বুধবার সারা দিন অস্ট্রেলিয়ার বাংলাদেশি কমিউনিটির অনেক মানুষ সরব ছিলেন।
অস্ট্রেলিয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের এমন তহবিল সংগ্রহ নতুন নয়। বাংলাদেশি কমিউনিটি কিংবা বাংলাদেশের যেকোনো দুঃসময়ে বাংলাদেশিরা তহবিল সংগ্রহ করে থাকেন। অস্ট্রেলিয়ায় মৃত্যু-দুর্ঘটনা ও রোগ-শোক এবং বাংলাদেশের খরা-বন্যা, রোহিঙ্গাসহ নানা ইস্যুতে তহবিল সংগ্রহ করে সাহায্য করেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। এ ছাড়া, অস্ট্রেলিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় রাজ্যে গত মার্চ মাসে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় মারকাসের পর দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সাহায্যার্থে এগিয়ে আসেন বাংলাদেশি ছাত্ররা।
দেশটিতে সৎ উদ্দেশ্যে তহবিল সংগ্রহকারী যেমন রয়েছেন, তেমনই সন্দেহজনক তহবিল সংগ্রহকারীদেরও ছড়াছড়ি রয়েছে। বিভিন্ন ইস্যুতে তাদের তহবিল সংগ্রহ করতে দেখা যায়। বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেও তহবিল সংগ্রহ করা হয়। তবে এই তহবিলের অর্থ আদৌ কোথাও অনুদান দেওয়া হচ্ছে কিনা, এ বিষয়ে তহবিল দাতাকে কোনো তথ্য দেওয়া হয় না বলে অভিযোগ অনেকের। এদের বেশির ভাগেরই কাজের জবাবদিহি থাকে না।
এ অবস্থায়, নিজের কষ্টার্জিত অর্থ দান করার আগে নিজেদের সচেতন হতে উৎসাহিত করেছেন প্রবাসী সচেতন বাংলাদেশিরা। যেকোনো তহবিলে অনুদান দেওয়ার আগে যাচাই-বাছাই করে নেওয়ার পরামর্শও দিলেন কেউ কেউ। পূর্ণ জবাবদিহিতা ছাড়া অর্থ অনুদান করা থেকে বিরত থাকার কথাও বললেন অনেকে। কারো কারো সন্দহজনক কর্মকাণ্ডের ফলে সত্যিকারের তহবিল সংগ্রহ জটিল হয়ে ওঠে অনেক সময়।
অস্ট্রেলিয়ার আইনেও তহবিল সংগ্রহের জন্য বিভিন্ন নিয়ম নীতির উল্লেখ রয়েছে। একজন তহবিল সংগ্রহকারী সেই নীতি অনুসরণ করছে কিনা এই বিষয়ে সচেষ্ট থাকতে হবে অনুদান প্রদানকারীকে। অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যে তহবিল সংগ্রহের আইনে বলা রয়েছে, একজন তহবিল সংগ্রহকারীকে রাজ্যের জনগণের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করতে হলে অবশ্যই অস্ট্রেলিয়ার সরকারের অস্ট্রেলিয়ান চ্যারিটি অ্যান্ড নট ফর প্রফিটস কমিশন (এসিএনসি) কর্তৃক নিবন্ধিত হতে হবে। এসিএনসির অনুমতি ছাড়া তহবিল সংগ্রহ বেআইনি। তবে এক অর্থ বছরে কেউ যদি ১৫ হাজার ডলারের কম তহবিল সংগ্রহ করেন তার জন্য লাইসেন্সের দরকার নেই। তবে আইন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, এই তহবিল সংগ্রহের বিষয়টি স্থানীয় কাউন্সিলের লিখিত কিংবা মৌখিক অবগতিতে থাকতে হবে। এ ছাড়া, বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিল সংগ্রহে কারও অনুমতির প্রয়োজন নেই।
উল্লেখ্য, আদালতের শুনানিতে দোষী প্রমাণিত হয়েছেন বাংলাদেশি উবার চালক নজরুল ইসলাম। গত বছরের ১৭ জুন তিনি উবারে করে তিনজন যাত্রী নিয়ে গন্তব্যে যাওয়ার সময় সিডনির এলিজাবেথ স্ট্রিটে এই দুর্ঘটনা ঘটে। একজন চালককে যে সতর্কতা মেনে গাড়ি চালাতে হয়, নজরুল সেটি অনুসরণ করেননি বলে তাঁকে দোষারোপ করে আদালত।



ঝড়-বৃষ্টিতে বিধ্বস্ত সিডনি, নিহত ২

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে গতকাল বুধবার সারা দিনের তুমুল ঝড় ও বৃষ্টিতে বন্যা দেখা দিয়েছে। ঝড়ের কবলে পড়ে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত আরও দুজন কর্তব্যরত পুলিশ কর্মকর্তা গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ছাড়া সিডনির গণ-পরিবহনগুলোও সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে কিছু আন্তর্জাতিক ফ্লাইট। ১৯৮৪ সালের পর এটিই সিডনির সবচেয়ে ভারী বৃষ্টির দিন বলে দাবি করছে সিডনিবাসী। বুধবার সকাল থেকেই সিডনি ও এর আশপাশের শহরে মুষলধারে বৃষ্টি নামতে শুরু করে। অতিবৃষ্টির ফলে মুহূর্তেই জলাবদ্ধ হয়ে পড়ে গোটা সিডনি। মাত্র দুই ঘণ্টায় সিডনির অবজারভেটরি হিল স্টেশনে বৃষ্টির পরিমাণ রেকর্ড করা হয় ১০০ মিলিমিটার। সিডনির প্রাণকেন্দ্র সিবিডিতে ২৩ মিলিমিটারের পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি বৃষ্টির পরিমাণ রেকর্ড করা হয় মোসম্যানে, ১৪০ মিলিমিটার। সাধারণত সিডনিতে নভেম্বর মাসে বৃষ্টির গড় অনুপাত থাকে ৮৩.৮ মিলিমিটার।
এদিকে ঝড়ের কবলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ঘটা দুর্ঘটনায় সিডনির ওয়েস্টলেঘে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোর নিহত হয়েছে। তাকে উদ্ধার করতে এসে একজন পুলিশ কর্মকর্তা গুরুতর আহত হন। অন্যদিকে ওলংগংয়ে উদ্ধারকাজে নিয়োজিত একজন স্বেচ্ছাসেবী হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মারা যান।
সিডনির পিটওয়াটার রোডে আরেক পুলিশ কর্মকর্তা উদ্ধারকাজ পরিচালনার সময় আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। সিডনিজুড়ে সারা দিনে প্রায় ৫০টি সড়ক দুর্ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। তবে তাতে কারও আহত হওয়ার কথা জানা যায়নি। রাজ্যের জরুরি সেবা বিভাগ এ পর্যন্ত আট শতাধিক সহায়তা ও উদ্ধার কাজের জন্য ১২টি ফোনকল পেয়েছে।
দুর্ঘটনা এড়াতে সাময়িক সিডনির সব হালকা ট্রেন ও গণ-পরিবহনের চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। সিডনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বেশ কিছু আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল ও পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। আজকের ঝড়-বৃষ্টিতে প্রায় ৭ হাজার ঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বিদ্যুৎ-বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।



সিডনিতে আসছে ওয়ারফেজ ও সোলস

বাংলাদেশের মহান বিজয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে আয়োজন করা হয়েছে বিজয় দিবস কনসার্ট। আগামী ২২ ডিসেম্বর শনিবার সিডনির বেলমোর বুলডগস স্টেডিয়ামে দুপুর ২টায় শুরু হয়ে এই অনুষ্ঠান চলবে রাত ১১টা পর্যন্ত। আর বিজয়ের উৎসবে সিডনি মাতাতে বাংলাদেশ থেকে আসছে জনপ্রিয় ব্যান্ড ওয়ারফেজ ও সোলস। আরও আসছেন সংগীতশিল্পী ঐশী। অনুষ্ঠানে আগতদের মুক্ত বিনোদনের জন্য থাকছেন বাংলাদেশের জনপ্রিয় কৌতুক অভিনেতা আবু হেনা রনি ও জামিল হোসেন। যন্ত্রসংগীতে থাকবেন অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী বাংলাদেশি ডিজে রাফসান।
বিজয় দিবস কনসার্টে আরও থাকছে বাংলার ঐতিহ্যবাহী খাবার ও হস্ত-শিল্পজাত দ্রব্যের বিভিন্ন স্টল। কনসার্টে ১২ বছর পর্যন্ত বয়সীদের কোনো প্রবেশ মূল্য নেই। বিজয় দিবস উদযাপন আয়োজনে প্রবাসী সবাইকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে কনসার্টের আয়োজক সিডনির সাংস্কৃতিক সংগঠন গ্রিনফিল্ড এন্টারটেইনমেন্ট। দীর্ঘদিন পর সিডনিতে বিজয় দিবসকে ঘিরে কোনো বড় উৎসবের আয়োজনের কথা জানিয়ে আয়োজকদের অন্যতম এনামুল হক বলেন, বাংলাদেশের বিজয় বাতাসের কিছুটা আমেজ সিডনিতে উপভোগের আয়োজন করা হয়েছে। আশা করি সবার ভালো লাগবে।



ভিক্টোরিয়া রাজ্য নির্বাচনে লেবার পার্টির জয়

অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া রাজ্যে শুরু হয়েছে নির্বাচন। গত ২৪ নভেম্বর শুরু হওয়া এই নির্বাচনের পূর্ণ ফলাফল ঘোষণা হওয়ার আগেই জয় নিশ্চিত করেছে দেশটির বিরোধী দল লেবার পার্টির।
ভিক্টোরিয়া রাজ্য সরকার গঠন করতে মোট ৮৮ টি আসনের মধ্যে কোনো দলের ৪৫টি আসনে জয় প্রয়োজন। নির্বাচনে এখন পর্যন্ত ৫২ টি আসনে জয়লাভ করেছে লেবার পার্টি। ভিক্টোরিয়া রাজ্যে দেশটির বর্তমান জোট সরকারের লিবারেল ও ন্যাশনাল পার্টির একত্রে জয় এসেছে ২৪টি আসনে। আরও দুটি আসনে জয় রয়েছে অন্যান্য দলের। আরও ১০টি আসনের ভোট গণনা চলছে। রাজ্যের বর্তমান প্রিমিয়ার (মুখ্যমন্ত্রী) লেবার নেতা ড্যানিয়েল অ্যান্ড্রুস ইতিমধ্যেই জয় উদযাপন করছেন।
অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে বড় দুটি রাজ্যের একটি ভিক্টোরিয়া। কোন দল আসবে ক্ষমতায় এই রাজ্যের নির্বাচনে এমনটা অনুমান করা সব সময়ই বেশ মুশকিল। ১৯২৪ থেকে ১৯৫৫ সালের মধ্যে কোনো দল পরপর দুবার নির্বাচনে জেতেনি। এরপর কখনো লিবারেল আবার কখনো লেবার দল অপ্রত্যাশিত জয়ে ক্ষমতায় এসেছে।
ভিক্টোরিয়া রাজ্যে ড্যানিয়েল অ্যান্ড্রুস ২০১৪ সালের নির্বাচনে জয়ের পর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত হয়। এবারও তিনিই মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন। অস্ট্রেলিয়ার আরেকটি রাজ্য নিউ সাউথ ওয়েলস এ নির্বাচন হবে আগামী বছরের মার্চে। দেশটির জাতীয় নির্বাচন আগামী বছরের মে মাসে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।




কাউসার খান: অভিবাসন আইনজীবী, সিডনি, অস্ট্রেলিয়া। ইমেইল: immiconsultants@gmail.com




Share on Facebook                         Home Page



                            Published on: 29-Nov-2018