bangla-sydney
bangla-sydney.com
News and views of Bangladeshi community in Sydney












এই লিংক থেকে SolaimanLipi ডাউনলোড করে নিন



কাউসার খানের প্রতিবেদন
সাম্প্রতিক অস্ট্রেলিয়া (৫)



জেরুজালেমকে কেন স্বীকৃতি দিচ্ছে অস্ট্রেলিয়া

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রীত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো নির্বাচনি যোগ্যতার মুখোমুখি হতে চলেছে স্কট মরিসন। নির্বাচনি পরিস্থিতিতে সরকার ও রাজনৈতিক দলের একজন প্রধান হিসেবে কেমন ভূমিকা রাখবেন মরিসন এর নজির মিলতে চলেছে আগামী শনিবার। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ম্যালকম টার্নবুল ক্ষমতাচুত্য হওয়ার পর তাঁর ছেড়ে দেওয়া আসন নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যের সিডনির নিকটবর্তী ওয়েন্টওর্থ নির্বাচনি এলাকায় উপনির্বাচন হতে চলেছে। সেখানে ক্ষমতাসীন দল লিবারেল পার্টির পক্ষ থেকে নির্বাচন করবে ইসরায়েলে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার সাবেক রাষ্ট্রদূত ডেভ শর্মা। আর এ আসনটি ম্যালকম টার্নবুলের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ আসন হলেও তাঁর অবর্তমানে লিবারেল পার্টির জন্য এ আসনটিই এখন সবচেয়ে বিপদজনক হয়ে দাঁড়িয়েছে। লিবারেল পার্টি পক্ষ হয়ে এ আসনে ডেভ শর্মা যদি হেরে যান, তবে অস্ট্রেলিয়ার হাউজ অব রিপ্রেজেনটেটিভে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাবেন মরিসন। আর সে শংকা থেকেই মরিসন ইহুদি অধ্যুষিত এ এলাকায় ভোট পেতে অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে নানা নাটকীয়তা করছেন বলে সমালোচনা করছে দেশটির প্রধান বিরোধী দল লেবার পার্টি ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।

গতকাল সোমবার জেরুজালেম শহরকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পক্ষে কথা বলেন স্কট মরিসন। সেই উদ্দেশ্যে তেল আবিবে অবস্থিত অস্ট্রেলিয়ার দূতাবাস জেরুজালেমে সরিয়ে আনার কথা বলেন মরিসন। গত বছরের ডিসেম্বরে জেরুজালেম শহরকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর মরিসন যদি জেরুজালেমে দূতাবাস স্থানান্তর করে, তবে এর মধ্য দিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিন্দিত এই সিদ্ধান্তের অনুকরণ করবে মরিসন। এ প্রসঙ্গে, অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম সংবাদপত্র সিডনি মর্নিং হেরাল্ডের আন্তর্জাতিক ও রাজনৈতিক সম্পাদক পিটার হার্টচার এক প্রতিবেদনে বলেন, মাত্র কয়েকটা ভোটের জন্য জাতীয় স্বার্থের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করাটা দায়িত্বহীনতার পরিচয়। আর সেটা ভোটের জন্য না হলেও বোকামি, যেটা দায়িত্বহীনতার পরিচয় দেয়। পিটার আরও উল্লেখ করেন, ট্রাম্প নীতির সাথে একমত পোষণ করে মরিসন যদি ওয়েন্টওর্থের ইহুদি বাসিন্দাদের ভোট পাওয়ার আশা করেন তবে সেটা বোকামি ছাড়া আর কিছুই নয়। কেননা, ডেভ শর্মার সাথে ইতিমধ্যেই ইসরায়েলের যোগ সূত্র রয়েছে। অধিকাংশ ইহুদিরা তাঁকে এমনিতেই ভোট দেবে। মরিসনের এই সিদ্ধান্ত লিবারেল পার্টির জন্য তেমন উল্লেখযোগ্য কোনো ভোটারের যোগান দেবে না।

ওয়েন্টওর্থের মোট জনসংখ্যার মাত্র ১২ শতাংশ ইহুদি। এদের একটা বড় অংশই ইসরায়েলি বংশোদ্ভূত। আর মরিসনের এ সিদ্ধান্তে ওয়েন্টওর্থের ইহুদি বাসিন্দারা মোটেও সুখকর অনুভব করবে না বলে মনে করছেন পিটার। তিনি বলেন, তাঁদের মোটেও খুশি হওয়া উচিত না। বরং তাঁরা অপমানিতবোধ করবে। কেননা মরিসন শুধু মাত্র তাঁদের নিজ স্বার্থে ব্যবহার করছে।
অন্যদিকে, মরিসনের জেরুজালেম সমর্থন ইস্যু নিয়ে নাখোশ অন্যান্য ধর্মীয় কমিউনিটির ব্যক্তিরা। তাঁদের অনেকে বলেছেন, আজ যিনি সংখ্যালঘু ভোটারের সমর্থনের জন্য একটি জাতিগত ও ধর্মীয় জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করছেন, কাল তিনি অন্য জনগোষ্ঠীর পেছনে লাগবেন না এর কোনো নিশ্চয়তা নেই। মাত্র একটি আসনে নির্বাচনের জন্যই যেখানে মরিসন জাতিগত ও ধর্মীয় অনুভূতি ব্যবহার করতে চাইছেন, আগামী নির্বাচনে আধা-ডজনের বেশি আসনে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম ভোটারদের সমর্থনে কী করবেন তা নিয়েই এখন শঙ্কিত সিডনির মুসলিম-অধ্যুষিত এলাকার বাসিন্দারা।



অস্ট্রেলিয়ায় রাজকীয় সফরে হ্যারি ও মেগান দম্পতি

বিয়ের পর প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে পৌঁছেছেন যুক্তরাজ্যের প্রিন্স হ্যারি ও তাঁর স্ত্রী মেগান মার্কেল। গত মে মাসে বিয়ে সম্পন্ন হওয়ার পর এটাই এই রাজ দম্পতির প্রথম রাজকীয় সফর। ১৬ দিনের এই সফরে প্রথমেই অস্ট্রেলিয়ার সিডনি ভ্রমণ করছেন ডিউক এবং ডাচেস অব সাসেক্স। অবস্থান করছেন অস্ট্রেলিয়ার রানী এলিজাবেথের প্রতিনিধি এবং সিডনি হার্বার রেসিডেন্সের গভর্নর জেনারেল পিটার কসগ্রোভের সরকারি বাসভবন অ্যাডমিরালটি হাউসে। এই সফরের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার (১৬/১০/২০১৮) স্থানীয় সময় দুপুরে সিডনির বিখ্যাত অপেরা হাউজ পরিদর্শন করেছেন হ্যারি ও মেগান। এ সময় তাঁদের অভ্যর্থনা জানান নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্য প্রিমিয়ার গ্ল্যাডিস বেরেজিক্লিয়ান। অন্যদিকে রাজ পরিবারের এই সদস্যদের এক ঝলক দেখতে হাজারো মানুষের ঢল নামে অপেরা হাউজ প্রান্তরে। প্রায় ২৬ মিনিটের এই পরিদর্শনে সাধারণ মানুষের বেশে আসা হ্যারি ও মেগান জনগণের কাছে এসে তাঁদের সাক্ষাৎ দেন।

রাজ দম্পতি অপেরা হাউজের পৌঁছানোর প্রায় ৩ ঘণ্টা আগ থেকেই মানুষজন সিডনির বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এসে জমায়েত হতে শুরু করে। হ্যারি ও মেগান বেশ আনন্দের সাথেই সাড়া দেন তাঁদের। এদের মধ্যে ছোট ছোট তিন সন্তান নিয়ে আসা হেইডি কারফ্যাক্স নামের এক মহিলাকে তাঁরা পুলিশ বেষ্টনীর ভেতর নিয়ে এসে দেখা করেন। এ সময় মেগানকে নিয়ে হেইডির ছোট মেয়ের আঁকা এক চিত্রকর্ম দেখে মুগ্ধ হন হ্যারি ও মেগান। এ ছাড়া ডেফনি ডানে নামের ৯৮ বছর বয়সী এক বৃদ্ধার ইচ্ছায় তাঁর পরিবার তাঁকে হুইলচেয়ারে করে অপেরা হাউজে নিয়ে আসে। হ্যারি ও মেগান বৃদ্ধাকে দেখতে পেয়ে তাঁর কাছে যান এবং তাঁকে আলিঙ্গন করে বৃদ্ধার আশির্বাদ কামনা করেন। এর আগে ২০১৫ সালে হ্যারিকে দেখতে যুক্তরাজ্যে গিয়েছিলেন ডেফনি।

এ দিকে অস্ট্রেলিয়া সফরকালে খুশির খবর আসে ডিউক এবং ডাচেস অব সাসেক্স থেকে। কেনসিংটন প্যালেসের ঘোষণায় মেগানের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার কথা নিশ্চিত করা হয়। জন্মের পর হ্যারি ও মেগান দম্পতির শিশু রাজসিংহাসনের সপ্তম উত্তরাধিকারী হবে। অস্ট্রেলিয়া সফরকালে হ্যারি ও মেগান দম্পতি টরোঙ্গা চিড়িয়াখানা এবং বন্ডাই সমুদ্র সৈকতসহ আকর্ষণীয় স্থানগুলো ঘুরে দেখবেন। রাজ দম্পতিরদের বিয়ের পর অস্ট্রেলিয়া আসার রেওয়াজ রয়েছে। ১৯৮৩ সালে প্রিন্স চার্লস এবং প্রিন্সেস ডায়না বিয়ের পর অস্ট্রেলিয়া সফর করেন। এ ছাড়া ২০১৪ সালে প্রিন্স উইলিয়াম ও তার স্ত্রী কেট মিডলটনও বিয়ের পর রাষ্ট্রীয় সফরে অস্ট্রেলিয়া এসেছিলেন। অস্ট্রেলিয়ার সফর শেষে হ্যারি ও মেগান দম্পতি ফিজি ও টোংগায় কয়েকদিন কাটিয়ে চারদিনের সফরে নিউজিল্যান্ড যাবেন।



সিডনিতে বাংলা সংস্কৃতি উৎসব আগামী ১০ নভেম্বর

দিন ঠিক হয়ে গেছে, ঠিক হয়ে গেছে ক্ষণ/ বুকে হাত দিলে যদি বাংলায় গান গায় মন/ তবে স্মৃতির সাতরং নিয়ে তৈরী হোন। কবিতার এমন ছন্দেই সিডনির প্রবাসী বাংলাদেশিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বাংলা সংস্কৃতি উৎসব ২০১৮ তে। বাংলাদেশি সংগঠন কবিতা বিকেল এর দ্বাদশ বর্ষপূর্তি উপলক্ষে প্রবাসী বাঙালিদের প্রাত্যহিক ব্যস্ত জীবনে বাংলা সাহিত্যের ছোঁয়ায় রঞ্জিত করে তুলতে এ উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। আগামী ১০ নভেম্বর শনিবার সিডনির ওয়াইলি পার্কের অ্যাম্ফিথিয়েটারে স্থানীয় সময় দুপুর ২টায় আসর বসবে এ বাংলা সংস্কৃতি উৎসবের। অনুষ্ঠানে থাকছে বাংলা সংস্কৃতির একগুচ্ছ বাংলা কবিতার আবৃত্তি, পুঁথিপাঠ, নাটক, গান, নৃত্য, চলচ্চিত্র, সাহিত্য আলোচনা, কারুপণ্য, বই, পিঠাপুলি, দেশি খাবার থেকে শুরু করে চিত্র-প্রদর্শনী। সিডনির স্থানীয় নন্দিত প্রবাসী বাংলাদেশি শিল্পী-কলাকুশলীদের অংশগ্রহণে মুখরিত হয়ে উঠবে এই উৎসব। তিন বাঙালি অগ্রদূত লালন, জীবনানন্দ আর মুস্তাফা মনওয়ারের নামে তিন মঞ্চে পর্যায়ক্রমে চলবে দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠান। এ ছাড়া, শিশুদের জন্য বিশেষ আয়োজন হিসেবে থাকছে হরাইজন থিয়েটারের জনপ্রিয় পুতুলনাচের দুটি প্রদর্শনী। আসনসংখ্যা সীমিত হওয়ায় আগাম বুকিং এর জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। উৎসবে সিডনি, মেলবোর্ন ও ক্যানবেরারসহ বিভিন্ন অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন শহর থেকে বহু সাংস্কৃতিক সংগঠন, কবি, লেখক, শিক্ষাবিদ এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করবেন বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।



সিডনি মাতালেন চিরকুট এবং মাকসুদ

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে গানের তালে হৈ-হুল্লোরে আর জমজমাট আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল বাংলাদেশিদের জন্য আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বাংলাদেশ নাইট ২০১৮। আর এ অনুষ্ঠানে দর্শক মাতিয়ে গেলেন জনপ্রিয় দুই ব্যান্ড দল চিরকুট এবং মাকসুদ ও ঢাকা। গতকাল ১৩ অক্টোবর বিকালে সিডনির নিউ সাউথ ওয়েলস বিশ্ববিদ্যালয়ের সায়েন্স থিয়েটারে শুরু হয় এ অনুষ্ঠান। নির্দিষ্ট সময়ের আগেই থিয়েটারের ভেতর বাহির কলোরিত হতে শুরু করে জনসমাগমে। গতকাল সিডনির বৃষ্টিস্নাত আবহাওয়া উপেক্ষা করেই প্রিয় ব্যান্ডের গান শুনতে সিডনির বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসে প্রবাসী বাংলাদেশিরা। গতকাল ছিল অস্ট্রেলিয়ার সাপ্তাহিক ছুটির দিন। আগত দর্শকদের বেশিরভাগকেই সপরিবারে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়।

অনুষ্ঠানে দুই প্রজন্মের মেলবন্ধন নজরে পরে। মাকসুদ ও ঢাকা ব্যান্ডের গানে গলা মেলাতে দেখা যায় আশি ও নব্বই দশকের শ্রোতাদের। আর চিরকুটের সাথে গলা ছেড়ে গান ধরে এ যুগের ছেলেমেয়েরা। একই ছাঁদের নিচে দুই প্রজন্মের শ্রোতাদের একসাথে মেতে ওঠা ছিল এবারের আয়োজনের সবচেয়ে উপভোগ্য বিষয়। অনুষ্ঠানে সপরিবারে আগত সিডনির ইঙ্গেলবার্ণে বসবাসরত সেলিমা বেগম বলেন, আমি মাকসুদের খুবই ভক্ত একজন মানুষ। তাঁর সবগুলো ক্যাসেট একসময় আমার সংগ্রহে ছিল। আজ প্রবাসে জীবনের এতগুলো বছর পরেও মাকসুদের গানে গানে ফিরে গিয়েছিলাম সেই পুরোণো দিনে। সিডনির রেন্ডউইকের বাসিন্দা আফসার খান জানালেন তাঁর ভালো লাগার কথা। বললেন, আমার বেড়ে ওঠার সময়ে যে ব্যান্ড দলগুলোর গানে মেতে থাকতাম প্রতিটা বিকাল, তাঁর মধ্যে ফিডব্যাক ছিল অন্যতম। মাকসুদ ফিডব্যাক ছাড়লেন কিন্তু আমি ছাড়ি নি তাঁকে। সেই ভালোবাসার পুনঃপ্রচার দেখলাম আজ এখানে। এ দিকে সিডনিতে আসা নতুন যুবক সোহান ফয়সাল জানালেন তিনি চিরকুটের জীবন-মরণ ভক্ত। বললেন, দেশে যখন ছিলাম, বন্ধুদের আড্ডার মাঝে চিরকুটের গান গাইতাম একসাথে। সেই আড্ডার বিকালটা খুব মিস করি পরবাসে। সেই অভাবটা অনেকটাই পুষিয়ে গেল এ অনুষ্ঠানে। ভালোবাসি চিরকুটকে। অনুষ্ঠানটি বাংলাদেশিদের আনন্দ দিতে পেরেছে এতে পরিশ্রম সার্থক বলে মনে করছেন বাংলাদেশ নাইট এর আয়োজক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন লিসেন ফর এর অন্যতম সদস্য মাহমুদ হোসেন ইমন। বললেন, প্রবাসীদের দেশের প্রতি ভালোবাসাটা একটু তাজা করতে পারাটাই আমাদের মূল লক্ষ্য। আশা করছি ভবিষ্যতেও এমনই ভালো কিছু দিতে পারব।



কাউসার খান: অভিবাসন আইনজীবী, সিডনি, অস্ট্রেলিয়া। ইমেইল: immiconsultants@gmail.com




Share on Facebook                         Home Page



                            Published on: 17-Oct-2018