bangla-sydney
bangla-sydney.com
News and views of Bangladeshi community in Sydney












এই লিংক থেকে SolaimanLipi ডাউনলোড করে নিন



কাউসার খানের প্রতিবেদন
সাম্প্রতিক অস্ট্রেলিয়া (৩)



বরখাস্তের জের ধরে এবিসির চেয়ারম্যানের পদত্যাগ

অস্ট্রেলিয়ান ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশনের (এবিসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিশেল গুথ্রিকে বরখাস্তের জের ধরে আজ প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান জাস্টিন মিলনে পদত্যাগ করেছেন । এ নিয়ে অস্ট্রেলিয়া সরকারের মালিকানাধীন এ সম্প্রচার প্রতিষ্ঠানটির মধ্যে দিনভর তোলপাড় হয়েছে। গতকাল গণমাধ্যমটির প্রধান ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিশেল গুথ্রিকে বরখাস্ত করার ঘটনার পর আজ স্থানীয় সময় সকালে পদত্যাগের ঘোষণা দেন তিনি। দেশটির সরকারের চাপের মুখে তিনি মিশেল গুথ্রিকে বরখাস্ত করেন, এমন অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। তবে জাস্টিন এর পেছনে কোনো রাজনৈতিক কারণ নেই বলে দাবি করেছেন। আর গণমাধ্যমের ওপর সরকার ক্ষমতা প্রয়োগ করে এ কথাও অস্বীকার করেছেন দেশটির সরকার প্রধান স্কট মরিসন।
অস্ট্রেলিয়ান ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশন দেশটির জনগণের করের টাকায় পরিচালিত একটি গণমাধ্যম। গণমাধ্যমটির যেকোনো বিষয়ে বলার স্বাধীনতা রয়েছে। তবে আইন অনুযায়ী এবিসি কখনোই কোনো রাজনৈতিক দল কর্তৃক প্রভাবিত হতে ও পক্ষপাতিত্বও করতে পারে না। এবিসির চেয়ারম্যান জাস্টিন মিলনের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে, তিনি মিশেলকে সরকারের পক্ষ থেকে অভিযোগ আসা এমন দুজন সাংবাদিককে বরখাস্ত করতে বলেছিলেন যারা সাম্প্রতিক সময়ে সরকারের বিভিন্ন নেতিবাচক বিষয়ে প্রতিবেদন লিখেছেন। জাস্টিন মিলনে যিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ম্যালকম টার্নবুলের একজন ব্যবসায়িক অংশীদার ছিলেন, তাঁর কথার অমান্য করায় তিনি চাকরীচ্যুত করেন মিশেলকে। তবে জাস্টিন অভিযোগটি ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন। সরকারও এ অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে।

অন্যদিকে, দেশটির প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন এক টুইট বার্তায় বলেন, এবিসি বোর্ড ও চেয়ারম্যান সঠিক কাজ করেছেন। এবিসি স্বাধীন ও পক্ষপাতহীন ভাবে স্বাভাবিক সম্প্রচার পুনরায় শুরু করবে। এ জন্য অস্ট্রেলিয়ার করদাতারা এ প্রতিষ্ঠানের খরচ বহন করে।



সিডনিতে বাংলাদেশি সাংবাদিককে লাঞ্ছনার অভিযোগ

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে সরকারি অনুদানে পরিচালিত এসবিএস রেডিওর বাংলা বিভাগের প্রধান আবু রেজা আরেফিনকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে। গত শনিবার (২২ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব নিউ সাউথ ওয়েলসের (BANSW) বার্ষিক অনুষ্ঠানে (কালচারাল নাইট) এ ঘটনা ঘটে। অনুষ্ঠানের দিন বাগবিতণ্ডার জের ধরে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক জামিল হোসেন আরেফিনকে অনুষ্ঠান থেকে চলে যেতে বাধ্য করেন। এ সময় আরেফিনের সঙ্গে তাঁর স্ত্রী উপস্থিত ছিলেন।

এ ঘটনা প্রসঙ্গে BANSW–এর পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘জনসম্মুখে অগ্রহণযোগ্য আচরণ করার দরুন বিষয়টি নিরাপত্তা কর্মীদের জানানো হলে তাঁরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনতে আবু রেজা আরেফিনকে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করার অনুরোধ করেন এবং তিনি চলে যান।’

এ দিকে একজন প্রবীণ সাংবাদিককে সস্ত্রীক একটি কমিউনিটির অনুষ্ঠান থেকে বের হতে বাধ্য করায় সিডনিতে বসবাসরত বাংলাদেশি সাংবাদিকেরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ঘটনার প্রতিবাদে গত রোববার (২৩ সেপ্টেম্বর) সিডনির অস্ট্রেলিয়া–বাংলাদেশ প্রেস ও মিডিয়া ক্লাব একটি জরুরি প্রতিবাদ সভার আয়োজন করে। সভায় তাঁকে হেনস্তা করার ঘটনাটি উল্লেখ করে আরেফিন জানান, BANSW কর্তৃপক্ষ কর্তৃক আমন্ত্রণ পেয়ে এবং টিকিট কিনেই তিনি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানস্থলে অবস্থানকালে বিজ্ঞাপন প্রচারের প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে জামিল হোসেনের সম্মুখীন হন তিনি। কথার বলার একপর্যায়ে জামিল হোসেন অকথ্য ভাষা ব্যবহার করেন বলেও অভিযোগ করেন আরেফিন। এরপর জামিল হোসেন তাঁকে বের হয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে নিরাপত্তা কর্মীদের ডাকতে ভেতরে চলে যান। কিছুক্ষণের মধ্যেই নিরাপত্তা কর্মীরা এসে তাঁকে অনুষ্ঠান থেকে চলে যাওয়ার কথা জানায়।

অনাকাঙ্ক্ষিত এ ঘটনা প্রসঙ্গে BANSW–এর সাধারণ সম্পাদক জামিল হোসেন বলেন, ‘আবু রেজা আরেফিন একজন অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। তিনি সংরক্ষিত আসনে বসে অপ্রাসঙ্গিক কথা বলতে শুরু করেন। এ ধরনের আচরণ থেকে তাঁকে বিরত থাকার অনুরোধ করা হলে তিনি উঁচু স্বরে কথা বলতে শুরু করেন, যা অনুষ্ঠানের ভাবমূর্তি ও পরিবেশের জন্য প্রতিকূল পরিস্থিতির সৃষ্টি করছিল। উপায়ন্তর না পেয়ে নিরাপত্তা কর্মীদের পরিস্থিতি সামাল দিতে বলা হলে তারা তাঁকে অনুষ্ঠান ত্যাগের অনুরোধ করেন।’ BANSW এ ঘটনা নিয়ে শিগগিরই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করবে বলে জানান তিনি।

এ দিকে ঘটনার প্রেক্ষিতে নানা মতামত প্রকাশ করছেন সিডনি প্রবাসী বাংলাদেশিরা। কমিউনিটির বয়োজ্যেষ্ঠ একজন বলেন, ‘বাংলাদেশি কমিউনিটির অনুষ্ঠানে একজন বাংলাদেশিকে সস্ত্রীক নিরাপত্তা কর্মীদের দিয়ে বের করে দেওয়া মেনে নেওয়া যায় না।’

অন্যদিকে, প্রেস ও মিডিয়া ক্লাব ইতিমধ্যে BANSW কে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা ও ওই কর্মকর্তার ব্যাপারে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।



১৩ অক্টোবর সিডনি মাতাতে আসছে চিরকুট ও মাকসুদ

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে আবারও আয়োজিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বাংলাদেশ নাইট ২০১৮। আগামী ১৩ অক্টোবর শনিবার সিডনির নিউ সাউথ ওয়েলস বিশ্ববিদ্যালয়ের সায়েন্স থিয়েটারে এ অনুষ্ঠান শুরু হবে স্থানীয় সময় ৫টা ৩০ মিনিটে। অনুষ্ঠানে দর্শক-শ্রোতাদের মাতাতে প্রথমবারের মতো আমন্ত্রিত হয়ে সিডনি আসছে বাংলাদেশের জনপ্রিয় ব্যান্ড দল চিরকুট। আরও যোগ দেবে ব্যান্ড দল 'মাকসুদ ও ঢাকা’।

অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের কথা আয়োজকদের পাশাপাশি নিশ্চিত করেছেন চিরকুট। গত ৯ সেপ্টেম্বর প্রথম আলোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে চিরকুটের সদস্য ও লিড ভোকালিস্ট সুমী বলেন, ‘আগামী ১৩ অক্টোবর সিডনিতে বাংলাদেশ নাইট নামের একটি অনুষ্ঠানে অংশ নেব’। প্রথমবার অস্ট্রেলিয়া আসার কথা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘এটা আমাদের প্রথম অস্ট্রেলিয়া সফর। তাই স্বাভাবিকভাবে আমাদের সবারই একটা আগ্রহ আছে। আমরা অস্ট্রেলিয়ার প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে সময় কাটাতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।’ ১২ দিনের সফরে মেলবোর্নের আরেকটি অনুষ্ঠানেও যোগ দেবে চিরকুট। প্রবাসী বাংলাদেশিদের একটি চমৎকার অনুষ্ঠান উপহার দিতে নিজেদের সেরা গানগুলো নিয়ে পূর্ণ প্রস্তুতি নিচ্ছে দলটি।

এ দিকে একই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ২০১৩ সালের পর এবারই প্রথম অস্ট্রেলিয়ায় আসছে জনপ্রিয় ব্যান্ড দল মাকসুদ ও ঢাকা। তিনটি অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার উদ্দেশে আগামী ৩ অক্টোবর অস্ট্রেলিয়া পৌঁছাবে দলটি। অস্ট্রেলিয়ার প্রবাসী বাংলাদেশিরা তাদের গান আগেও পছন্দ করেছেন বলে জানিয়েছেন দলের লিড ভোকালিস্ট মাকসুদুল হক। দর্শকদের অনুরোধের গানের পাশাপাশি জনপ্রিয় কয়েকটি বাউল গান পরিবেশনের প্রস্তুতি নিয়েছে দলটি।

অনুষ্ঠানটি প্রতিবারের মতোই এবারও দর্শক রঞ্জিত ও চমকপ্রদ হবে আশাবাদী বাংলাদেশ নাইট এর আয়োজক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন লিসেন ফর। সেই সঙ্গে এবারও অনুষ্ঠান থেকে আয়কৃত অর্থের একটি অংশ বিভিন্ন তহবিল খাতে অনুদান করা হবে বলে জানিয়ে সকলকে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন আয়োজকেরা একজন মাহমুদ হোসেন ইমন। তিনি আরও বলেন, আপনারা অনুষ্ঠান দেখতে আসেন, নিরাশ হবেন না।



পাহাড় থেকে পড়ে বাংলাদেশি ছাত্রের মৃত্যু

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে পাহাড় থেকে পড়ে গিয়ে এক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত অস্ট্রেলিয়ান ছাত্রের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। আজ স্থানীয় সময় দুপুরে সিডনির দক্ষিণে ক্লিফটনের ক্লিফ ব্রিজের পাশে এ ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত জরুরী সেবা পৌঁছায় স্থানটিতে। দুর্ঘটনাস্থলে অবস্থানরত স্থানীয় পুলিশরা জানিয়েছেন, বন্ধুদের সাথে পাহাড়ের কিনারা দিয়ে হাঁটার সময় পা পিছলে পড়ে যায় ২২ বছর বয়সী ছাত্র মুনায়ার সরকার অনিক। খাঁড়া পাহাড় থেকে প্রায় ২০ মিটার পিছলে পড়ে এরপর আরও ৪০ মিটারেও বেশি নিচে পাথরে সোজা আছড়ে পড়ে অনিক। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু ঘটে বলে জানিয়েছে উদ্ধার কর্মীরা। পুলিশ জানিয়েছে, অনিক ও তাঁর সঙ্গীরা পাহাড়ের যে কিনারা দিয়ে হাঁটছিল তা অত্যন্ত বিপদজনক এবং ভ্রমণকারীদের এ পথ ব্যবহারের জন্য নিরুৎসাহিত করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে একে একটি দুর্ঘটনা বলেই মনে করছে পুলিশ।

মুনায়ার সরকার অনিক সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রকৌশল বিষয়ে পিএইচডি করছিলেন। তাঁর বাবা ইলিয়াস সরকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন। বর্তমানে তিনি শারজাহ বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করছেন বলে তাঁর এক নিকটাত্মীয় জানিয়েছেন। অনিকের অকাল মৃত্যুতে সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে বলে জানিয়েছেন সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশ স্টুডেন্ট এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ফাতেমা জোহরা আদিবা।



কাউসার খান: অভিবাসন আইনজীবী, সিডনি, অস্ট্রেলিয়া। ইমেইল: immiconsultants@gmail.com




Share on Facebook                         Home Page



                            Published on: 3-Oct-2018