bangla-sydney
bangla-sydney.com
News and views of Bangladeshi community in Australia












সুন্দর ফন্টের জন্য SolaimanLipi ডাউনলোড করে নিন...

একজন শহিদুল্লাহ্'র কথা
দিলরুবা শাহানা


যখন বৈভবে বিতৃষ্ণা, আনন্দে অনীহা তখনই অন্য কিছু করার জন্য তাগিদ আসে। চৈতন্যের দরজায় কড়া নাড়ে কেউ একজন। তখন রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, জীবনানন্দ বা অন্যকিছুর জন্য মনের আকুতি প্রকাশের ইচ্ছারা ডানা ঝাপটায়। শহিদুল্লাহ বা এমনি সামান্য চেনাজানা কারও সম্পর্কে ভাবার অবকাশ হয়নি কখনো। সাধারণ কেউ একজন ভাবনায় আসেনি এটা দাম্ভিকতা নয় এটা বোধহয় আমার সীমাবদ্ধতা; বোধহয় শব্দটা বলা ঠিক হয়নি এটা নিশ্চিত আমার লিমিটেশন বা সীমাবদ্ধতা।

শহিদুল্লাহভাইর কথা মনেই পড়তো না যদি তাহেরুন্নেসা আবদুল্লাহ'র ইমেইল না পেতাম। একজন মানুষের সংকটে-বিপদে অন্য মানুষের সহানুভূতি, সহমর্মিতা প্রগাঢ় হওয়াই স্বাভাবিক। তাহেরুন্নেসা আপার একজন শহিদুল্লাহ'র প্রতি সাহায্য সহমর্র্মিতার হাত বাড়ানোর আহ্বান বা আবেদনটি তাকে নিয়ে ভাবার সুযোগ করে দিল।

আমরা আমাদের স্বেচ্ছাশ্রমে আইন ও সালিস কেন্দ্র সংগঠনটি গড়ে তোলার সময়েই নাকি ঠিক তার পর পরই শহিদুল্লাহ্ ভাই এতে যোগ দিয়েছিলেন ঠিক মনে করতে পারছি না। হিসাবনিকাশ রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব তার। তার সাথে কথা তেমন হয়নি কখন। যদিও মিটিং টিটিং ছাড়াও প্রতি শনিবার ছুটির দিনে মনের আনন্দে আধবেলা সময় ঐ সংগঠনে ব্যয় করতাম। তখন দেখেছি রোগা-পাতলা, শান্তশিষ্ট মানুষটির মুখে প্রায় রা নেই।

সংগঠন ধীরে ধীরে এগুচ্ছে, মানুষের আস্থা বাড়ছে। এরমাঝে সংগঠনটি একটি রিজিওনাল/ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিতে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ পেল। কাজটা সম্মানজনক। সংগঠনের পক্ষ থেকে যারা ঐ রিসার্চ স্টাডিতে কাজ করেছিল তাদের মাঝে আমি ছিলাম একজন। আইনজীবী সারা হোসেন ছাড়া আর কে ছিলেন জানতাম না। উইমেন এন্ড এক্সেস টু জাস্টিস স্টাডি থেকে অর্থপ্রাপ্তি তেমন হয়নি তবে অনুসন্ধানে তথ্য-প্রাপ্তি ছিল অমূল্য। জানা হল তৃনমূলের জনপ্রতিনিধির দফতর থেকে শুরু করে উচ্চ-আদালত সবখানেই ন্যায্য বিচারের আশা মেয়েদের প্রবেশ অনায়াস সাধ্য নয় বরং কষ্ট-লব্ধ। সংগৃহীত তথ্য এই সত্যের উপাত্ত উপস্থাপন করেছিল শক্তভাবে।

শহিদুল্লাহ ভাই আমাদের সম্মানীর খামগুলো দিতেন। এরমাঝে স্টাডির শেষে আমি কিছুদিনের জন্য দেশের বাইরে গিয়েছিলাম। ফিরে আসার পর উনি একদিন জানালেন যে আমার কিছু টাকা তার কাছে রয়ে গেছে। আমিও বললাম যে নিব পরে। কিছুদিন পর শহিদুল্লাহ ভাই আবার টাকার কথা মনে করালেন, আমিও নিচ্ছি, নিব করে নিতে ভুলে গেলাম। পরে একদিন উনি বললেন
-আপা টাকাটার কি আপনার এখন দরকার নাই?
টাকার দরকার নাই এমন অদ্ভুত কথা বলি কি করে। মনে মনে দরকারটা খুঁজতে শুরু করলাম। মুখে বললাম
-আপনার দরকার হলে এখন রাখতে পারেন। আমি দরকারে পরে চেয়ে নেব।
তখন উনি আমাকে দিয়ে দুটো কাগজে সই করিয়ে নিলেন। তারপর এক শনিবারে
আমার হাতে একটা খাম দিয়ে বললেন
-এতে আপনার টাকায় সঞ্চয়পত্র কিনে দিয়েছি ম্যাচিউর হলে টাকাটা দ্বিগুণ হবে।
ঐ সঞ্চয়পত্র আমার এক দরকারের সময়ে খুব কাজে লেগেছিল। তখন মনে মনে নিঃস্বার্থভাবে সঞ্চয়পত্র কেনার বুদ্ধি খরচের জন্য শহিদুল্লাহ ভাই এর উপর খুব খুশী হয়েছিলাম। তবে তাকে ধন্যবাদটা দেওয়া হয় নি।

একসময়ে ব্যারিস্টার সালমা সোবহানের প্রস্তাবনায় ও সবার সমর্থনে আমি সংগঠনের ট্রেজারারের দায়িত্ব পালন করি। টাকা পয়সার বিষয়ে আমি খুব পাকা মানুষতো নয়ই বরং বোকা বলা চলে। তবে শহিদুল্লাহ'র মতো কর্তব্যনিষ্ঠ, স্বচ্ছ-স্বভাবের মানুষের হিসাবনিকাশ নিখুঁত সংরক্ষণের জন্য ট্রেজারারের দায়িত্ব সম্মানের সাথে শেষ করি।

আজ শহিদুল্লাহ ভাই কঠিন অসুখে আক্রান্ত। সালমা আপা (সালমা সোবহান) আজ বেঁচে নেই। সংগঠনের দীর্ঘদিনের পুরানো কর্মীর প্রতি সহমর্মিতার হাত বাড়ানোর জন্য তাহেরুন্নেসা আপার আবেদন আন্তরিক ও সময়োপযোগী। কত বীর, কবি-সাহিত্যিক, শিল্পী ও আপনজনের (হুমায়ূন আহমেদ, ডেল্টা গডরেম, প্রদীপ আনোয়ার ও সহোদর ভাই) জন্য নীরবে দুঃখ ও আবেগ প্রকাশ করেছি, প্রার্থনা করেছি। আজ একজন কর্মী শহিদুল্লাহ'র জন্য একই সততায় ও নিষ্ঠায় মঙ্গল প্রার্থনা করছি।




Click for details



Share on Facebook               Home Page             Published on: 19-May-2014

Coming Events:

Bangla Film Festival organised by Bangladesh Consulate in Sydney

3rd show - 28 November 2021