bangla-sydney
bangla-sydney.com
News and views of Bangladeshi community in Sydney












এই লিংক থেকে SolaimanLipi ডাউনলোড করে নিন



পার্থের চিঠি (৭ম পর্ব)
বোরহান উদ্দিন আহমদ

আগের অংশ পরের অংশ




মৌসুমিদের বাসায় বাঙ্গালীদের সমাবেশঃ

আজ ৯ মে, শনিবার। আজ সকালে আমাদের প্রতিবেশী বব ও লিলিদের বাসায় বেড়িয়েছি, আগেই বলেছি। সেখান থেকে বিদায়কালে লিলি আমাদেরকে গোলাপ ফুলের সাথে পাতা বাহারের দুটি ডেকোরেটিভ খয়েরী চারা ও একটি সবুজ চারা উপহার দিয়েছিলেন। বিকেলের দিকে ববের কাছ থেকে লিলির খুরপি ধার নিয়ে ঐ চারা তিনটা লাগালাম মিতি-তানভীরদের বাসার মিতির পড়ার ঘর ও আমাদের রুমের সংলগ্ন উত্তর দিকের চিলতে বাগানে। এই বাগানে ছুঁচালো মুখের লাল জবা ফুল, গাঁদা ফুল, নীল রংয়ের নাম না জানা ফুল গাছ আর ফুলের মত পাতাওয়ালা মোটা পাতার পাতাবাহারসহ বেশ কিছু ফুল ও পাতাবাহারের গাছ। এই বাগানের গাছপালার দেখাশোনা আর পানি দেয়ার কাজ নাকি লিলি করে। এতো ভাল প্রতিবেশী ও প্রকৃতি প্রেমিক তিনি। লিলির সখ বাগানের পরিচর্যা বা গার্ডেনিং। বাগানে কাজ করার জন্য স্পেশাল হ্যান্ড গ্লাভস সহ বাগানে কাজ করার সব যন্ত্রপাতি লিলির আছে। আর তার স্বামী ববের সখ মাছ ধরা। সে আমার চেয়ে চার বছরের বড়। আমাকে তার মাছ ধরার সময় সঙ্গে নেবার জন্য তানভীর তার সাথে আলাপের প্রথম দিনে ও আজ অনুরোধ করেছে। বব সানন্দে রাজী হয়েছে।

সন্ধ্যার পরে আমরা সবাই মিতির এখানকার হাসপাতালের বাংলাদেশী বান্ধবী ডাঃ মৌসুমির বাসায় দাওয়াতে গেলাম। মিতিদের বাসা থেকে ১৫/২০ মিনিট গাড়ীতে যেয়ে পার্থের এক নিরিবিলি অংশে এই বাসায় পৌঁছলাম আমরা। এমন নিরিবিলি অংশ যে রহস্যময় মনে হয়। বাসায় প্রবেশ করতেই মৌসুমি আর তার স্বামী সুজো আমাদেরকে উষ্ণ ভাবে রিসিভ করে তাদের ড্রইং রুমে বসাল। মৌসুমি ডিএমসি মানে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের কৃতি ছাত্রী, গোল্ড মেডেলিষ্ট। তার স্বামী সুজো, পুরো নাম আবু তৌহিদ সাঞ্জাবী এই ধরনের জবড়জং কিছু। সুজো নামেই সে বেশী পরিচিত। আর এই নামে সে নিজের পরিচয় দেয়। সুজো ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অফ টেকনোলজি বা আইইউটি(Islamic University of Technology) (IUT) থেকে পাশ করা ইঞ্জিনিয়ার। তাদের বাসায় মিতিদের বাসার মত কাঠের ফ্লোর। খুব সুন্দর। ড্রইং রুমটা বিশাল। ড্রইং রুম-কাম ডাইনিং রুম-কাম কিচেন। এত বিশাল যে হল ঘরের মত। সেখানে দেখলাম ইতিমধ্যে ৫/৬ জন অভ্যাগত এসে গেছে। তাদের সাথে সুজো পরিচয় করিয়ে দিল। অধিকাংশই সুজোর আইইউটির পাশকরা ইঞ্জিনিয়ার। একজন খুব সুদর্শন ইঞ্জিনিয়ার। পরে আমার পাশে সোফায় বসল। কথায় কথায় প্রকাশ পেল সে আমাদের সেনাবাহিনীর সহকর্মী মনোবিজ্ঞানী আইএসএসবি'র (Inter Services Selection Board, ISSB) ব্রিগেডিয়ার এরশাদের মেয়ের জামাই। সে অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে আলাপ করল। পরে সে মোবাইলে বাংলাদেশে তার শ্বশুরের সাথে কথা বলল। পরে আমার কথা তার শ্বশুরকে বলে মোবাইল আমাকে দিল। পুরনো সহকর্মী ব্রিগেডিয়ার আরশাদের সাথে আমার অত্যন্ত হৃদ্যতাপূর্ন আলাপ হল। খুব আনন্দ লাগল।

পরে আমার পাশে বসলেন খুলনা ইউনিভার্সিটি অফ ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজির (Khulna University Of Engineering & Technology, KUET)'এর পাশকরা সিভিল ইঞ্জিনিয়ার মতিউর রহমান। উনি খুবই মিশুক, নিরহঙ্কারী ও সদালাপী। খুবই হৃদ্যতাপূর্ন ও আপনকরা ব্যবহার এই অত্যন্ত বিনয়ী ইঞ্জিনিয়ারের। উনি তার বাংলাদেশের ইঞ্জিনিয়ার ক্যারিয়ার ও এখানে পার্থে তার প্রথম দিকের সংগ্রামের গল্প করলেন। উনি প্রথমে এসে ক্লাস ইলেভেন টোওয়েলভ ক্লাসের অংক বা ম্যাথ পড়িয়েছেন কলেজে, উনি জানালেন। খুব মজা লাগল তার এই গল্প শুনে।

কিছুক্ষণ পরে খাবারের জন্য আহবান জানাল সুজো। ইতিমধ্যে ১১/১২ জন অভ্যাগত পুরুষকে দেখতে পেয়েছি এই ড্রইং রুমে। ভিতরে তাদের গৃহিণীরা ও বাচ্চাকাচ্চারা এসেছে। খাবার টেবিলে বহু রকমের সুস্বাদু সবজী, চপ, মাছ, মাংস ইত্যাদি সহকারে প্রচুর খাবারের আয়োজন। অত্যন্ত সুস্বাদু ডিনার। প্রাণ ভরে পূর্ণ তৃপ্তি সহকারে খেলাম এই বিদেশ বিভূঁইয়ে। পরে অত্যন্ত চমৎকার মিষ্টি পর্ব। ছানার তৈরি বিভিন্ন রংয়ের একটি সন্দেশসহ বহু মিষ্টি নিজের হাতে বানিয়েছে গৃহিণী ডাঃ মৌসুমি। তবে ঐ সন্দেশ ছিল সবার সেরা। বহুদিন তার স্বাদ মুখে আর মনে লেগে থাকবে। তার আতিথেয়তা আর মিষ্টি বানানোর দক্ষতা অসাধারণ। হসপিটালের কাজ সেরে সে যে একা একা এত সব কেমন করে রান্না করেছে বা তৈরি করেছে ভাবলে খুব অবাক হতে হয়।

বিদায়ের আগে বুয়েটের পাশকরা ১৯৭১ সালের মানে আমাদের ২ বছর পরের ব্যাচের ডঃ কুদ্দুসের সাথে আলাপ পরিচয় হল। আলাপে প্রকাশ পেল উনি আমাদের শেরে বাংলা হলে আমার একই নর্থ হলের আমার রুমের কাছাকাছি ২০৫ নং রুমে থাকতেন। আমি থাকতাম ২০২ নং রুমে। একজন ডাক্তারের সাথেও পরিচয় হল। সম্ভবতঃ মৌসুমির ডিএমসি'র সহপাঠী। পার্থের মত বিদেশে বাংলাদেশের এতগুলো ইঞ্জিনিয়ার ও ডাক্তারের দেখা পাওয়ায় খুব আনন্দকর অভিজ্ঞতা হল। অত্যন্ত আনন্দিত মনে বাসায় ফিরলাম।


ইষ্ট পার্কের সাথে প্রথম পরিচয়ঃ

এর ৩ দিন আগে ৬ মে'র কথা। সন্ধ্যার একটু পরে মিতিকে নিয়ে সবাই বের হলাম। পথে মিতি তার মেডিক্যাল লেকচার শুনতে নেমে গেল। আমরা আনিসাকে নিয়ে প্রথমে অফিসওয়ার্কস এর মানে ষ্টেশনারী আইটেমের দোকানে গেলাম। জামাই আর শাশুড়ি মিলে ঠিক করেছে আনিসাকে ব্যস্ত রাখার জন্য বাসায় তার ছবি আঁকার রঙ্গিন পেন্সিল, রঙ করবার বই ইত্যাদি রাখতে হবে। দুজনে সব আইটেম পছন্দ করে কিনল। আনিসা মহানন্দে দৌড়ে র্যাাকের সারির মাঝখান দিয়ে দূরে চলে যায়। তানভীর তার পিছু পিছু ছুটে। আনিসার দুটো খুব সুন্দর রংয়ের বলপেন খুব পছন্দ হল। সেগুলো সে কিছুতেই ছাড়বে না। আনিসার দোষ কি, সেগুলো এত সুন্দর যে তার নানাও মুগ্ধ হয়ে গেছিল তাদের সৌন্দর্যে। পরে বহু কষ্টে সেগুলো ফেরত দেয়া হল।

এরপর তানভীর আমাদেরকে নিয়ে এখানকার খুব সুন্দর ইষ্ট পার্কে নিয়ে গেল। সেখানে নদীর কৃত্রিম খাড়ির উপরে ঢাকার হাতির ঝিলের মত সেতু। সেতুর উপর সুন্দর নীল আলো। দেখতে খুব সুন্দর। তবে হাতির ঝিলের পরিবর্তনশীল রকমারি সুন্দর আলো নিঃসন্দেহে আরো বেশী সুন্দর ও মোহনীয়। আমরা এদিক থেকে গর্ব করতে পারি। মুল নদীর পাশে কিছুটা খাড়ি আর চরা ছিল। সেখানে ড্রেজারের সাহায্যে কেটে আরো বড় খাড়ি সৃষ্টি করেছে। সেই খাড়ির তিনদিকে মাটি। একদিক নদীর দিকে খোলা। যেন এক খুদে উপসাগর। নদীর সৌন্দর্যকে যে কত ভাবে অমলিন রেখে আরো বৃদ্ধি করা যায় এই পার্থে সোয়ান নদীর প্রতি এদের ব্যবহার না দেখলে তা বুঝতে পারতাম না। সেদিন শুধু সেই সেতু বা ব্রিজ থেকে এই ইষ্ট পার্কের শোভা উপভোগ করলাম। পরে একদিন রাতে এর পাশে টিলার উপরে একটা সুন্দর গাছপালামন্ডিত অংশ আর নীচে নেমে লম্বা আলোক-শোভিত পানির তিন পাশ দিয়ে দিয়ে হেটে এর সৌন্দর্য উপভোগ করেছি। সে কথা যথাসময়ে বিস্তারিত বলা যাবে। প্রথম দর্শনে ইষ্ট পার্ক খুব ভাল লাগল। মনে অনেক আনন্দ নিয়ে বাসায় ফিরলাম। (চলবে)



আগের অংশ পরের অংশ



বোরহান উদ্দিন আহমদ, পার্থ থেকে



Share on Facebook                         Home Page



                            Published on: 2-Oct-2015