bangla-sydney
bangla-sydney.com
News and views of Bangladeshi community in Sydney












এই লিংক থেকে SolaimanLipi ডাউনলোড করে নিন



ভালবাসার গল্প
এম এস আরেফীন



আর সব আট দশটা দিনের মতই শুরু হয়েছে মাহতাবের দিন। মেডিকেল কলেজের গেটের সামনে দাঁড়িয়ে সোহানার জন্য অপেক্ষা করছে। ঠিক ৬ টা ৫০ এ সোহানার রিকশাটা দেখলো, তারপর তার টোল পরা গাল আর ঠোটের কোনে ভালবাসার হাসি। বুকটা ধুক করে উঠলো। প্রতিদিনই তাকে দেখে তার পরেও বুকটা ধুক করে উঠতে ভুলেনা। মাহতাব জানে, সোহানা ওকে বলেছে, প্রতিদিন সকালে মাহতাবকে গেটের কাছে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে সোহানার বুকটাও ধুক করে ওঠে। তার হৃদয়টাও নাকি একটা দিনের জন্য ও ধুক করে উঠতে ভুলে না।

তাদের দুজনের হৃদয়ের কথোপকথন, এক জন আরেকজনকে দেখে ধুক করে ওঠা, তাদের দুজনের চেহারার প্রতিক্রিয়া, চোখে চোখে কথা, চোখের ঝলকের বার্তা বিনিময়, তারপর কাছে এসে মৃদু মুচকি হাসি, এক সাথে ক্লাসে যাওয়া, ক্লাসে পাশাপাশি বসা, বন্ধু চোখকে আড়াল করে হাত ধরে ফেলা, পড়াশুনা, এক্সাম, কার্ড, নোট নেয়া, সোহেলের দোকানের সামনে বসে চা খাওয়া এই সব কিছুর পরে দিনটা খুব সুন্দর ভাবে শেষ হলো।

সারে তিনটার দিকে মামার টং দোকানের সামনে বসে দুজনে ফুচকা খাচ্ছে। হঠাৎ করেই সেই বিষয়টা নিয়ে দু একটা কথা হলো। কথা থেকে কথামালা, বিবাদ, বিতর্ক, তর্ক এবং শেষ মেশ ঝগড়া। কথার পিঠে কথা চললো, কেউ কাউকে ছাড় দিলোনা, কারো কথা মাটিতে পড়লোনা, দুজনের একজনও ভাবলোনা যে যার সাথে ঝগড়া করছে সে তো আমারই ভালবাসার একটা মানুষ। একটা নিছক বিষয় নিয়ে কথার রেষারেষি আর সেখান থেকে শুধু মাত্র নিজেদের ঈগো বা অহংবোধ ধরে রাখার জন্য তারা ঝগড়ার ম্যারাথন চালালো।

এক নয় দুই নয়, চার ঘণ্টা, তাও আবার এক জায়গায় নয় কলেজ গেট থেকে আবাহনী মাঠ, সেখান থেকে ধানমন্ডি ৩২ নম্বর লেক, এবং শেষ মেশ কলাবাগান মাঠ পর্যন্ত তাদের ঝগড়া গড়ালো। তারা ঝগড়া করেই শান্ত হয়নি। ঝগড়ার সমাপ্তি হয়েছে সম্পর্ক সমাপ্তির মাধ্যমে। গত দু বছরের পরিচয়, চেনা জানা শুনা, ভালোলাগা, ভালবাসা, টান প্রতিদিনের ধুক করে ওঠা সব কিছুকে এক নিমিষে শেষ করে দিলো তাদের ২৪০ মিনিটের রোষানল। এক মুহূর্তে মিথ্যা করে দিলো তাদের গত দু বছরের হাজারো সুন্দর মুহূর্তগুলোকে।

এখন তাদের সব কিছুই একটা ইতিহাস, একটা অতীত, গত দু বছরে কতো ভালোলাগার সময় পার করেছে। অথচ এখন ঐ সব ভাল মুহূর্তগুলো এক নিমিষে হয়ে গেলো তিক্ত অভিজ্ঞতা। মনে করতে চাইনা, মনে রাখতে চাইনা এই ধরনের অতীত। ধানমন্ডি লেকের ধারে বসে অস্তগামী সূর্য দেখতে মাহতাবের বেশ ভালো লাগে। এমন অনেক সাঁঝের বেলা গেছে যখন দুজন মিলে অস্তগামী সূর্যকে বিদায় জানিয়েছে তাদের ভালবাসার আস্তরণে। অথচ আজকের সূর্যাস্তটা তাকে অসহনীয় ভাবে কাঁদাবে। সোহানাকে ছাড়া সে একা একা কি ভাবে সূর্য অস্ত দেখবে?

ঝগড়া এবং সম্পর্ক শেষ করে, দিক বিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে, চিন চিন বুক ব্যথা আর দপ দপ মাথা ব্যথা নিয়ে মাহতাব বাসায় ফিরলো। রাত প্রায় নয়টা বাজে, প্রচণ্ড ক্ষুধা পেয়েছে। ঝগড়া ঝাটিতে মাথা ব্যস্ত ছিলো তাই টের পায়নি। এখন বুঝতে পারছে।
মাহতাব হট শাওয়ার নিলো, ফ্রেশ হলো। কিন্তু বুকটা এখনো চিন চিন করছে আর মাথায় সেই চাপ, সেই যন্ত্রনাতো এখন রীতিমতো জাঁকিয়ে বসেছে। তার মনে হচ্ছে এই যন্ত্রণা কোনদিন ও শেষ হবেনা।
ফ্রিজ থেকে খাবার বের করে গরম করলো কিন্তু একটা দানাও মুখে দিতে পারলো না। খাবার ঢেকে রেখে বারান্দায় এসে দাঁড়ালো। শীতের রাতের ঝক ঝকে মেঘহীন আকাশে সুদৃঢ় সেই রুপার অবয়বটা প্রাণ খুলে জোছনা ছড়াচ্ছে। আগামীকাল ভরা পূর্ণিমা।

পূর্ণিমা, অমাবস্যা তিথি এই সব হিসাব কিতাব মাহতাবের জানা ছিলোনা। সোহানাই তাকে এই সব শিখিয়েছে। ভরা পূর্ণিমায় হেটে বেড়ানো সোহানার খুব পছন্দের। এমনি অনেক ভরা জোছনায় তারা দুজন হেটে হেটে চষে বেরিয়েছে পুরো ধানমন্ডি কলাবাগান এলাকা এবং তখন থেকেই মাহতাব হিসাব রাখতে শিখেছে, কবে পূর্ণিমা, কবে অমাবস্যা কিংবা তিথি।

চিন চিন বুক, দপ দপ মাথা আর খালি পেট নিয়ে মাহতাব ঘুমাতে গেলো। রাত প্রায় দশটা। শরীরটা বিছানায় এলিয়ে দিতেই মাহতাব টের পেলো সে কতটা ক্লান্ত। চোখ বন্ধ করলো কিন্তু মাথা বন্ধ হচ্ছেনা। মাথা তার কারখানা চালু রেখেছে আর নানান নেতিবাচক ভাবনার জন্ম দিচ্ছে। চিন্তাগুলিকে অন্যদিকে ঘোরানোর জন্য একটা গল্পের বই হাতে নিয়ে পড়া শুরু করলো, লাভ হলো না, গান শুনলো, লাভ হলো না, উঠে গিয়ে বারান্দায় বসলো। রাত প্রায় ১২ টা। চাঁদ মনে হয় আজ এই ধরণীর ভালবাসায় নিজের সবটুকু জোছনা বিলিয়ে দিয়ে নিজেকে নিঃশেষ করে ক্ষান্ত হবে। অসাধারণ লাগছে। আচ্ছা সোহানাও কি জেগে জেগে ঠিক এই মুহূর্তে জোছনা দেখছে, ভাবতেই গায়ে কাটা দিয়ে উঠলো মাহতাবের। বুকের চিন চিন ব্যথাটা তীব্র হলো। মাহতাব আবার বিছানায় গেলো, ঘুমানোর চেষ্টা করলো। বিছানাটাকে তার কাছে সমুদ্র মনে হচ্ছে, এপার ওপার এপাশ ওপাশ করছে কিন্তু ঘুম আসছে না। সে পরিষ্কার বুঝতে পারলো টেনশন, চিন চিনে বুক আর দপ দপে মাথা আজ একটা নির্ঘুম রাতের জন্ম দেবে। সুতরাং সে আর ঘুমানোর কোন চেষ্টাই করলোনা। তার মস্তিষ্ক এখন অনেক কিছু নিয়ে ভাবছে, কত স্বপ্ন বুনেছিলো। ভেবেছিলো, একসাথে কক্স বাজারে সমুদ্রে বীচে বসে সূর্য ডোবা দেখবে, সমুদ্রের তীরে জোছনা যাপন করবে, গহীন শালবনের মাঝ দিয়ে গভীর রাতে ড্রাইভ করে যাবে, গভীর রাতে সুন্দরবনে দেখবে হরিণের জ্বল জ্বলে চোখ, কুয়াকাটার সূর্যাস্ত, পঞ্চগড়ের শীত-সকাল অথবা ম্যানহাটন এ কোন এক বারে সন্ধ্যা যাপন, নিউ ইয়র্ক টাওয়ার ভ্রমণ, ডিজনিল্যান্ড এ সপ্তাহ কাটানো, লাস ভেগাসে গিয়ে মজার মজার সব শো দেখা, স্মোকি মাউন্টেইনে কেবিনে ইন দ্যা মিডিল ওব নো হোয়ারে হারিয়ে যাওয়া অথবা রাতের ঝক ঝকে আকাশে তারা গোনার পাল্লা দেয়া। আরো কত না কী?

সেই সব স্বপ্ন এখন দু স্বপ্ন, শুধুই প্রাণ হীন দেহ মাত্র। কেবলই নিছক কল্পনা। সোহানা ছাড়া এসবের কোন মানে নেই, কোন মূল্য নেই।
সে ভাবছে সে বেঁচে থাকবে অথচ সোহানা তার পাশে থাকবে না এটা হতেই পারেনা। সোহানা ছাড়া তার জীবন সম্পূর্ণ অর্থহীন। একটা সাদা কাগজ মাত্র। প্রতিদিন কলেজে তাকে দেখবে, তার বোকা বুকটা নিয়ম মাফিক ধুক করে উঠবে অথচ কথা বলবে না, হাত ধরবে না, হাসবে না, একসাথে ফুচকা খাবে না এতো হতেই পারেনা। এসব ভাবতে ভাবতে মাহতাব সিদ্ধান্ত নিলো আগামীকাল ভোরে লাজ ফার্মার সামনে ওর জন্য অপেক্ষা করবে। সোহানা যখন রিকশা দিয়ে যাবে তাকে থামাবে। নরম ভাবে কথা বলবে, শান্ত হয়ে বোঝাবে, আজ সারাদিন যা হলো তা নয়। শুধুই এই টুকুই বোঝাবে যে সোহানাকে ছেড়ে সে হয়তো বেঁচে থাকতে পারবে, তবে সে বাঁচায় কোন প্রাণ থাকবে না। সে জীবনে কোন ছন্দ হবে না, সে হবে রঙ হীন এক ভ্রান্ত দীর্ঘ সময়।

ঘড়িতে এখন প্রায় ভোর চারটা ত্রিশ। মাহতাব উঠে গিয়ে আবার হট শাওয়ার নিলো। শাওয়ার শেষে একটা ষ্ট্রং কফি বানিয়ে খেলো। কফি শেষ করে আস্তে করে দরজাটা বন্ধ করে বেরিয়ে পড়লো।

মাহতাব এখন লাজ ফার্মার সামনে। এখন সকাল পাঁচটা বিশ। লাজ ফার্মার সিঁড়ির শেষ ধাপটায় সে বসে পড়লো।

স্যার চা খাইবেন চা, গরম গরম চা - ডাকে ঘুম ভাংলো মাহতাবের। ক্লান্ত শরীরের ক্লান্ত দুটো চোখ আর তার থেকেও অশান্ত মন নিয়ে সেই ভোর রাতে লাজ ফার্মার সিঁড়ির গোড়ায় হেলে থাকা ল্যাম্প পোষ্ট এ হেলান দিয়ে বসে ছিলো মাহতাব। কখন যে চোখ লেগে গেছে টের পায়নি। চা ওয়ালার হাকে ঘুম ভাংলো। ঘুমটা ভেঙ্গে যাওয়া মাত্রই বুকটা ধুক করে উঠলো। ঝট করে ঘড়ির দিকে তাকালো। সকাল ছয়টা ১৫। মনে মনে ভাবলো যাক বাবা মিস করিনি তাহলে। যে কারণে এত কষ্ট, কন কনে শীতের সকালে লাজ ফার্মার সিঁড়িতে বসে থাকা। আর মাত্র কুড়ি মিনিটের মতো। প্রতিদিন ছয়টা ৩৫ থেকে ৪০ এর মধ্যে সোহানার রিকশাটা লাজ ফার্মার সামনে দিয়ে যায়। মাঝ রাস্তা বরাবর একটা বেশ বড় পার্টিশন থাকার কারণে কলাবাগান থেকে কলেজ যাবার সময় রিকশাগুলো শর্টকাট মারে। উলটো পথে রিকশা চালায়। আচ্ছা যদি আমেরিকায় রিকশা থাকতো আর রিকশাওয়ালারা যদি উলটো পথে চালাতো এবং যদি পুলিশ তাদের ধরতো তাহলে তাদের কি ফাইন বা সাজা হতো তাই ভাবছে মাহতাব। আচ্ছা মাহতাব এসব কি ভাবছে! প্রচণ্ড মানসিক চাপে মানুষ মনে হয় উলটা পালটা ভাবে। আর হবেই না কেন। কী ধকলটাই না গেছে গতকাল।

মাহতাব উঠে দাঁড়ালো। ছয়টা পঞ্চাশ, কাউকেই দেখছে না। আবার বসে পড়লো। সাতটা দশ এখনো সোহানার দেখা নেই। সাতটা বিশ, ত্রিশ, চল্লিশ, না সোহানার দেখা নেই। সময় যতই পার হচ্ছে তার উৎকণ্ঠা ততই গাড়ো হচ্ছে। প্রতিটা সেকেন্ড মনে হচ্ছে মিনিট আর প্রতিটা মিনিট মনে হচ্ছে ঘণ্টা। আটটা বাজে। এখনো তার দেখা নেই। সোহানা ঠিক আছেতো। নাকি আবেগের বশে উলটা পালটা কিছু করে বসলো। না, এসব কি ভাবছে ও। এর আগেও দুবার তাদের ব্রেকাপ হয়েছে কিন্তু সোহানা কখনোই কোন ভুল কাজ নেয়নি। হয়তো সোহানাও টায়ার্ড। গতকালের ঝক্কিটা তো কম ছিলো না। হয়তো এখনো ঘুম থেকে উঠেনি। নিজেকে শান্ত করলো মাহতাব তবে তার অশান্ত চোখ দুটো প্রতিটি রিকশার আরোহীকে দেখছে। অনেক মহিলা ও মেয়ে আরোহী তার উৎসুক চাহনিতে কিছুটা বিব্রত ও হচ্ছে। এখন সকাল নয়টা এখনো সোহানার দেখা নেই। নাকি আজকেই রিকশাটা নিয়ম মেনে চালিয়েছে, ধানমন্ডি আট দিয়ে লম্বা পথ ঘুরে কলেজে গেলো। কি করবে মাহতাব বুঝতে পারছে না। সোহানার বাসায় যাবে? নাকি রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকবে। দশটা দশ। এখনো সোহানার দেখা নেই। মাহতাব ভাবলো কলেজেই যাই। ভাগ্য খারাপ হলে সব দিক দিয়েই হয়। আর তাই হয়তো আজকেই রিকশাটা লম্বা পথ দিয়ে কলেজের দিকে গেছে। মাহতাব রাস্তা পার হলো। ৩২ নম্বর শেখ মুজিবের বাড়ির সামনের রাস্তা দিয়ে হন হন করে হাঁটাতে লাগলো। তার পা চলছে না। এতো টেনশনে পায়ে জুতা পড়তে ভুলে গেছে, স্যান্ডেল শু পরে এসেছে, ঠাণ্ডায় পা জমে গেছে। দুই তিনটা রিকশা কে হাকলো, কেউ আবাহনী মাঠে এর দিকে যাবে না। মাহতাব আরো দ্রুত হাটতে শুরু করলো। পিঠে ব্যাগে গোটা কয়েক বই, একটা খাতা আর এপ্রোনটা ভাজ করে রাখা অথচ মনে হচ্ছে ব্যাগটার ওজন কয়েক টন হবে। কলেজে ঢুকে সোজা নিলুফার ম্যাডামের এনাটমি লেকচার ক্লাসের সিঁড়ির কাছে এসে দাঁড়ালো মাহতাব। উকি মেরে দেখবে সেই উপায় ও নেই। ক্লাসের দরজাটা খোলা, হা করে আছে। উকি মারতে গেলে ম্যাডামের চোখে পরবে। তার পরেও উকি দেবার চেষ্টা করলো। নাহ ঠিক মতো উকি দেয়া যাচ্ছে না। সুতরাং ক্লাস শেষ হওয়া অবধি অপেক্ষা করতে হবে। ঠিক এই সময়ে আরণ্যক মাহতাবের পাশে এসে দাঁড়ালো। ছেলেটা বরাবর ফাঁকিবাজ। ক্লাস শুরু হয় সকাল সাত টায় আর সে কিনা এই মাত্র কলেজে আসলো।
মাহতাব জিজ্ঞাসা করলো। সোহানাকে দেখেছো। আরণ্যক বললো হ্যাঁ, সোহেলের চায়ের দোকানের সামনে। মাহতাব মনে হয় জান ফিরে পেলো। ঝড়ের বেগে বের হয়ে গেলো সোহেলের দোকানের দিকে। সেখানে গিয়ে দেখে সোহানা নেই। আশে পাশে দেখলো। নাহ সোহানার দেখা পেলনা। কোথায় গেলো? বুঝতে পারছে না। ভাবলো আরণ্যককে গিয়ে আবার জিজ্ঞেস করবে। ভুল শুনলো কি না? অতএব আবারো নিলুফার ম্যাডামের ক্লাসের দিকেই গেলো। গিয়ে দেখে আরণ্যক দাড়িয়ে আছে।

- সোহানাকে তো পেলাম না
- পাবে কি করে?
- কেন, তুমি বললে তাকে সেখানে দেখেছো
- সেটাতো গতকাল
- ও আচ্ছা
- তুমি জিজ্ঞেস করলে দেখেছি কিনা। কিন্তু সেটা যে আজকে সেটা তো বলনি।

মাহতাবের মেজাজটা আরো খিচড়ে গেলো। আরণ্যকের মতো উড়নচণ্ডীকে সোহানাও দেখতে পারে না। সেদিন দুষ্টুমি করে সোহানার পুরো চকবার আইসক্রিমটা এক কামড়ে গিলে ফেললো। যত সব ফালতু ছেলে।
যা হোক ক্লাস শেষ হলো। সবাই একে একে বের হলো। সোহানার দেখা নেই। সোহানার সবচেয়ে কাছের বন্ধু শারমিনাকে জিজ্ঞেস করলো। শারমিনা বললো সে সোহানাকে দেখেনি, সে মনে হয় আজ আসেনি।



পরের অংশ





Share on Facebook                         Home Page



                            Published on: 2-Oct-2018