bangla-sydney
bangla-sydney.com
News and views of Bangladeshi community in Sydney













জীবনের রঙ
কামরুল মান্নান আকাশ



হাসপাতাল এক অদ্ভুত জায়গা, এখানে জীবন আর মৃত্যুর লড়াই চলে প্রতিনিয়ত। দেশে থাকতে ওখানে যেতাম কেউ অসুস্থ হলে বা মারা গেলে তাকে দেখতে। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ায় এসে চাকুরীর কারণে সপ্তাহে পাঁচ দিন, প্রতিদিন আট ঘণ্টা কাটাতে হয় এখানে। প্রিন্স অফ ওয়েলস পাবলিক হসপিটাল, প্রিন্স অফ ওয়েলস প্রাইভেট হসপিটাল, রয়েল হসপিটাল ফর উইম্যান ও সিডনি চিলড্রেন হসপিটাল, এই সবগুলো হাসপাতাল একই জায়গায় এবং একইসাথে। তাই প্রচুর রোগী ও মানুষ আসে এখানে। গত ১৯ বছর ধরে এখানে কাজ করছি তাই এগুলোকে আমার কাছে এখন আর হাসপাতাল মনে হয়না, মনে হয় কাজের জায়গা। প্রতিদিন এখানে কত মানুষ দেখি কারও সাথে কথা হয় কারও সাথে শুধু হাসি বিনিময়। বাঙালি রোগী এলে চিনি বা না চিনি দেখতে যাই এবং তাদের সাথে আসা মানুষদের সাথে কথা বলি। যদিও আমি কাজ করি আইটিতে কিন্তু কখনওবা পরিচিত ডাক্তার-নার্সরা আমাকে ডাকে ইংরেজি না জানা বাংলাভাষী রোগীদের দোভাষী হয়ে সাহায্য করতে। এখানে প্রতিদিন কত আনন্দ-বেদনা ও দুঃখ-কষ্টের গল্পের জন্ম হয় তা শুধু নীরবে দেখে যাই। একসময় সে সব নিয়ে হয়ত লিখব। নতুন শিশুর আগমনে বা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যাওয়ার আনন্দিত মুখ যেমন দেখি, তেমনি দেখি না ফেরার দেশে চলে যাওয়া মানুষটির কাছের মানুষদের ক্রন্দনরত মুখ।

একদিন লিফটে করে নামছি দেখি এক বুড়ো নীরবে কাঁদছে আর চোখের পানি মুছছে, লিফটভরা মানুষ কিন্তু কেউ তাকে কিছু বলছেনা। আসলে এটাই এই সমাজে স্বাভাবিক, এখানে কেউ কারো ব্যক্তিগত ব্যাপারে নাক গলায় না। কিন্তু আমার আজীবনের শিক্ষা সেটা মেনে নিতে পারেনি। নীচে নেমে তার কাঁধে আলতো করে হাত রেখে জিজ্ঞেস করলাম কাঁদছ কেন। আশিউর্ধ ভদ্রলোক আমাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে লাগল। বলল এইমাত্র আমার স্ত্রী মারা গেছে। ষাট বছরের বেশী আমরা একসাথে কাটিয়েছি। আমাদের ছেলেমেয়েরা আমাদের ছেড়ে চলে গেছে কিন্তু আমরা কেউ কাউকে কখনো ছেড়ে থাকিনি। ভাবলাম এদের পারিবারিক বন্ধন একসময় আমাদের মতই শক্ত ছিল তাহলে। জানতে চাইলাম তোমার ছেলেমেয়েরা আসবেনা। দেখলাম ওর মুখটা একটু কঠিন হয়ে গেল, বলল না কেউ আসবেনা। বুঝলাম এখানেও একটা দুঃখের গল্প আছে। কিন্তু এটা ভেবে ভাল লাগল যে সে তার একমাত্র প্রিয়তমা স্ত্রীকে নিয়ে একটা সুন্দর দীর্ঘ জীবন কাটিয়েছে যা এখনকার প্রজন্মে ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে। কফি খাওয়াতে চাইলাম, রাজী হলোনা। ও অপেক্ষা করছিল ফিউনারেল সার্ভিসের জন্য, আমিও কিছুটা সময় সঙ্গ দিলাম তাকে। এর মধ্যে কিছুটা শোক সামলে উঠেছে পিটার। বললাম এবার আমি যাই। ও বলল গড ব্লেস ইউ মাই সান। তার চোখের দৃষ্টিতে ঝরে পড়ছে পিতৃ-স্নেহ। আমিও বললাম ভাল থেকো পিটার। যদিও শঙ্কা হচ্ছিল সঙ্গীহারা পিটার হয়ত খুব বেশীদিন আর এই পৃথিবীতে থাকতে চাইবেনা। আসলে বেঁচে থাকার জন্য শারীরিক সুস্থতার চেয়ে মনের সুস্থতারই প্রয়োজন বেশী যা সে হারিয়ে ফেলেছে।

প্রাণী জগতের নিয়মটাই বুঝি এমন, বুড়ো হয়ে গেলে তার আর কোন দাম থাকেনা। কোন বয়স্ক মানুষকে একা দেখলে যেয়ে জিজ্ঞেস করি কোন সাহায্য লাগবে কিনা। বেশীর ভাগই কথা বলতে চায় একাকীত্ব কাটানোর জন্য। বয়স্কদের লোকেরা এড়িয়ে চলে কিন্তু আমার খুব ভাল লাগে তাদের সাথে কথা বলতে। যারা তাদের এড়িয়ে চলে তারা জানেনা তারা কি হারাচ্ছে। সত্তর, আশি, নব্বুই বছরের এই মানুষেরা কেমন করে জীবন কাটিয়েছেন তার গল্প শুনি। শুনি আমার মতন দেশান্তরিত মানুষের জীবন যুদ্ধের কথা। শুনি তাদের গৌরবময় অতীতের কথা। নিজেকে সমৃদ্ধ করি তাঁদের জীবনবোধ, জীবনদর্শন থেকে। আমার কাছে এরা একেক জন জীবন যোদ্ধা, একেকজন জীবন্ত ইতিহাস। কিন্তু ইতিহাস তো এদের কথা বলেনা, মনে রাখেনা এদের অবদান। যে কৃষক উদয়াস্ত পরিশ্রম করে ফসল ফলিয়েছে, যে শ্রমিক মাথার ঘাম পায়ে ফেলে কল-কারখানায় পণ্য উৎপাদন করেছে, যে মা নিজেকে বিলিয়ে দিয়ে সন্তানকে মানুষ করেছে, তাঁদের কথা লেখা থাকেনা। ওরা জন্মে ছিল, কিছুদিন বেঁচে ছিল তারপর একদিন চলে গেছে। খুব সাধারণ জীবন এবং এটাই সাধারণ মানুষের ইতিহাস। ইতিহাসে লেখা থাকে রাজ-রাজরাদের কথা, বড় বড় মানুষের কথা, সেখানে সাধারণ মানুষের জায়গা নেই। সারাটা জীবন যারা ব্যয় করল দেশকে, সমাজকে এগিয়ে নিতে, সন্তানকে মানুষ করতে তাঁদের কথা শোনার সময় কারও নেই। পারিবারিক ভাবে না পারলেও রাষ্ট্রীয়ভাবে অস্ট্রেলিয়াতে বয়স্কদের জন্যে রয়েছে সম্মান, বিশেষ সুবিধা ও সহযোগিতা। মানুষই তো স্বপ্ন দেখে তাই আমিও দেখি, মিনিকে বলি আমার যদি সামর্থ্য থাকত তাহলে দেশে ফিরে গিয়ে বৃদ্ধাশ্রম বানাতাম। মিনি কিছু বলে না হয়ত ভাবে এটা আমার দিবাস্বপ্ন।

লিখতে যেয়ে খেই হারিয়ে ফেলাটা আমার অভ্যাস। আমি খুব আবেগপ্রবণ মানুষ তাই কিছু লিখতে গেলে রিন রিন করে মনটাই শুধু বেজে উঠে তখন মাথাটা আর কাজ করেনা। আর লেখার মাঝে ঝট করে এসে পড়ে অন্য প্রসঙ্গ।

যার কথা ভেবে লিখতে শুরু করেছিলাম তার নাম এন্থনি সবাই টনি বলে ডাকে। হাসপাতালের ক্যান্টিনের পাশে হসপিটাল ফাউন্ডেশন বলে একটা অফিস আছে যারা হাসপাতালের জন্য ফান্ড রেইজ করে। সেখানে রাখা আছে পুরানো বইয়ের শেলফ, যে বই দান করতে চায় সেখানে রেখে যায় আর যে পড়তে চায় সে গোল্ড কয়েন দিয়ে নিয়ে যায়। আমি প্রতিদিন সেখানে ঢু দেই এবং পছন্দ মত বই পেলে নেই। আসলে বই নিয়ে নাড়াচাড়ার মধ্যে রয়েছে অপার আনন্দ। মাঝে মাঝে ভাবি লাইব্রেরীতে কাজ করলে মনে হয় ভাল হত। প্রতিদিনের মত সেদিনও আমি বই দেখছিলাম, আরও একজন বয়স্ক লোক বই দেখছিল। সে আমার দিকে ফিরে বলল তুমি কার বই পড়তে ভালবাসো? কিছু বলার আগে ওকে ভাল করে দেখলাম - নীল চোখ, গায়ের চামড়া কুঁচকে গেছে কিন্তু এখনও শক্ত সমর্থ গড়ন। বললাম আমার ভাষা বাংলা তাই বাংলায় লেখা বই পড়তেই বেশী স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি এবং উপভোগ করি, তবে আমার কিছু প্রিয় লেখক আছে যারা ইংরেজিতে লেখেন তাঁদের বই পেলে পড়ি। ও বলল তুমি যে ভাষার মাঝে বেড়ে উঠো, যে ভাষার চর্চা কর সেটাই আসলে তোমার সত্যিকারের আনন্দ নিংড়ে নেওয়ার মাধ্যম। আমি বলছিনা অন্য ভাষার মাধ্যমে পড়ার আনন্দকে উপভোগ করা যায়না, যায়, তবে তার মধ্যে কিছু শূন্যতা থেকে যায়। আমি কোরিয়ান, জার্মান, ভিয়েতনামীজ ভাষা জানি এবং সেইসব ভাষায় কিছু বইও পড়েছি। কিন্তু আনন্দ পাই আমার ভাষা ইংরেজিতেই। আরও বলল তোমার সন্তান যদি এখানে বেড়ে উঠে বাংলায় পড়তে জানলেও তাঁর সাবলীল ও আনন্দের ভাষা কিন্তু হবে ইংরেজিই। আমি এক মত না হয়ে পারলাম না। জিগ্যেস করল বই পড়া হয়ে গেলে কি কর? বললাম আবার এখানে ফিরিয়ে দেই বা স্যালভেসন আর্মিতে দিয়ে দেই। আগে বাসার সামনে রাখলে দু একটা কেউ নিয়ে যেত কিন্তু এখন কেউ নেয় না, প্রযুক্তির যুগ! তবে আমার ভাষার বইগুলি কিন্তু রেখে দেই যত্ন করে। টনি একটু হেসে বলল আমি যেখানে থাকি সেখানে আমার মত অনেক বই প্রেমিক থাকে। তাই আমরা সেখানে একটা শেডের নীচে বইয়ের আলমারি রেখেছি। যার বই পড়া হয়ে যায় সেটা সে ওখানে রেখে যায় এবং নতুন বই নিয়ে যায়। যে বইগুলি সবার পড়া হয়ে যায় সেগুলি আবার দান করে দেই। এভাবেই চলছে অনেকদিন ধরে। ভেবোনা শুধু বুড়োরাই বই পড়ে সব বয়সের পাঠকই আছে আমার এলাকায়। জানলাম সিডনির সমুদ্রতীরবর্তী একটি বড়লোক এলাকায় ওর বাস। সবারই নতুন বই কিনে পড়ার মত সামর্থ্য আছে তবুও সবাই মিলে বই পড়ে ভাগাভাগি করে। এর মাঝেও নিহিত আছে বই পড়ার আনন্দ।

জিজ্ঞেস করলাম তুমি নিজেই কি রোগী, নাকি অন্য কেউ? ও এড়িয়ে গিয়ে প্রসঙ্গ পরিবর্তন করল। হঠাৎ করেই বলল অস্ট্রেলিয়াতে স্বাগতম এবং ধন্যবাদ এই দেশের জন্য কাজ করার জন্য, যা এখন তোমারও দেশ। বললাম তোমার মত করে মন থেকে খুব কম মানুষই আমাদেরকে স্বাগতম জানায়। এই মুহূর্তে একজনের কথা মনে পড়ছে যে বিশ বছর আগে তোমার মত করে ধন্যবাদ জানিয়েছিল এই দেশে আসার জন্য। সে ছিল ব্রিটিশ আর্মিতে নার্স এবং ইন্ডিয়াতে পোষ্টেড। টনি বলল সে জন্যই বলেছে। সে দেখেছে তোমাদেরকে, দেখেছে মৃত্যুকে কাছ থেকে, তাই সে পেরেছে মানুষকে ভালবাসতে।

তারপর বলল আমিও ছিলাম সেনাবাহিনীতে। দেখেছি কি সহজেই না মানুষের জীবন প্রদীপ নিভে যায়। দেখেছি হিংস্রতা, দেখেছি বর্বরতা। আবার দেখছি মানবতা, মানুষের প্রতি মানুষের ভালবাসা। আঠার বছর বয়সে সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়ে যুদ্ধে চলে যাই কোরিয়াতে, সেখান থেকে ভিয়েতনামে। বলল তোমাকে দেরী করিয়ে দিচ্ছিনাতো! আমি বললাম চল কফি খাই আর তোমার গল্প শুনি। যতই তোমার কথা শুনছি ততই ভাল লাগছে তোমাকে। টনি বলল তোমাকে দেখেই কেন যেন মনে হয়েছে কত চেনা। আসলে কি জান, যারা বই ভালবাসে কাছাকাছি এলে তাঁদের মধ্যেও একধরনের অদৃশ্য যোগাযোগ তৈরি হয়ে যায়।

কফি নিয়ে বসে আবার বলতে শুরু করল। কোরিয়ার যুদ্ধ নিয়ে আমি গর্ব বোধ করি এই জন্য যে আমি সেই দেশের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য গিয়েছিলাম। কিন্তু ভিয়েতনাম যুদ্ধ আমাকে মাঝে মাঝেই কষ্ট দেয় যখন নিরীহ অত্যাচারিত মানুষগুলোর মুখ ভেসে উঠে। কিন্তু কি করব আমিতো রাজনীতিবিদ নই সৈনিক, হুকুম পালন করাই যে আমার কাজ। অনেক বারই মৃত্যুর হাত থেকে ফিরে এসেছি। যতবার ফিরেছি ততবারই জীবনকে নতুন করে ভালবেসেছি। তোমাকে একটা ঘটনার কথা বলি। একটা ছোট দল নিয়ে আমি টহলে বেড়িয়েছি। একটা জংগলের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি হঠাৎ করেই গেরিলাদের এম্বুশের মধ্যে পড়ে যাই। প্রচণ্ড গোলাগুলির মধ্যে অনেক সৈন্য নিহত হয়। আমি আহত অবস্থায় পালাতে গিয়ে পড়ে যাই গর্তে। দুইদিন লুকিয়ে থাকি। এক ভিয়েতনামীজ মেয়ে আমাকে দেখে ফেলে। ভাবলাম বুঝি এখনই গেরিলাদের খবর দিবে। কিন্তু না সে এসে আমাকে বলল তাঁর সাথে যেতে। আমাকে লুকিয়ে রেখে সুস্থ করে তোলে। গেরিলারা যদি জানতে পারত তবে আমার সাথে তাকেও মেরে ফেলত। একেই বলে মানবতা, যাদেরকে আমরা মারছি তাদেরই একজন আমার জীবন বাঁচিয়েছে। তখন থেকেই আমি সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ দেই আমাকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য। যার মৃত্যু যেভাবে নির্ধারিত আছে সেভাবেই হবে। তুমি যদি মারতেও চাও সে বেঁচে থাকবে।

আরেকটি ঘটনার কথা বলি যা আজও আমার মনে গভীর দাগ কেটে আছে। আমি জার্মানিতে গিয়েছি ট্রেনিং-এ। এক পরিবারের সাথে আমার ঘনিষ্ঠতা হয়। তাঁদের দুটি বাচ্চাই অটিস্টিক। মহিলাটি আবার প্রেগনেন্ট হয় এবং ডাক্তার বলেছে গর্ভপাত করাতে। কারণ এই বাচ্চাটিও হবে অটিস্টিক। তারিখ ঠিক হয় অপারেশনের। বিধিবাম, ঠিক সেদিনই ডাক্তারের হয় কার্ডিয়াক এরেস্ট। তিনি আর অপারেশনটি করতে পারলেন না। আর মহিলা অন্য কারও কাছে অপারেশন করাতে রাজী হলেননা। যথাসময়ে সন্তান প্রসব করলেন। সবাই অবাক হয়ে দেখল সম্পূর্ণ সুস্থ এক মানব সন্তান এসেছে পৃথিবীতে! আর সেই ছেলেটিই পরবর্তীতে হয়ে উঠে জার্মানির এবং বিশ্বের একজন নামকরা গণিতজ্ঞ। তাই বলছিলাম সৃষ্টিকর্তা যা ঠিক করেছেন তাই হয়। বলতে পার মানুষ কি নিয়ে এত অহংকার করে! যে নিজেই জানেনা তার জীবনটা কখন ফুরিয়ে যাবে। আমি আমেরিকার প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে পুরস্কার নিয়েছি, সেনাবাহিনীতে উচ্চপদ থেকে অবসরে গিয়েছি, বীরত্বের জন্য সামরিক পুরস্কার পেয়েছি, সুখে কেটেছে পারিবারিক জীবন, অর্থের অভাব কখনো হয়নি। সব কিছুর জন্যই সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ দেই।

আজ আমি এখানে এসেছি আমার স্ত্রীকে নিয়ে, সে পাঁচ বছর ধরে ক্যান্সারে ভুগে এখন শেষ অবস্থায় আছে। সারাক্ষণ তাঁর হাত ধরে বসে থাকি যাতে ওর যাওয়াটা আমি দেখতে পারি। আমি মন খারাপ করিনা। সৃষ্টিকর্তার উপর গভীর বিশ্বাস আমার জন্য সব সহজ করে দিয়েছে। কিন্তু আজকে কেমন যেন অস্থির লাগছিল, ভেবেছিলাম এখান থেকে বই নিয়ে গিয়ে ওর কাছেই বসে পড়ব। কিন্তু তোমাকে দেখে মনে হল কথা বলার মত একজনকে আমি পেয়েছি যার সাথে কথা বলা যায়। এখন আমি আবার স্থির হতে পেরেছি তোমার সাথে কথা বলে। আবার বলি সৃষ্টিকর্তাই তোমাকে আমার কাছে পাঠিয়েছেন। জীবনটা নানা রঙে রঙ্গিন, রংধনুর চেয়েও রঙিন যদি তুমি সেই রঙে নিজেকে রাঙাতে পার। আমি প্রতিদিন ভোরে উঠে বাইরে এসে দাঁড়াই, বুক ভরে নিঃশ্বাস নিয়ে চারিদিকে তাকাই এবং সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ দেই আমাকে আরেকটি দিন বাঁচিয়ে রাখার জন্য।

টনির চলে যাওয়া পথের দিকে তাকিয়ে ভাবতে থাকি টনির কথা, জীবনের কথা। প্রদীপের আলো যখন নিভু নিভু তখন সৃষ্টিকর্তার উপর গভীর বিশ্বাস কি করে সেই আলোকে উজ্জ্বল করে তোলে! মনে মনে ধন্যবাদ দেই টনিকে জীবনের নতুন রঙ চেনানোর জন্য।




কামরুল মান্নান আকাশ, সিডনি


Share on Facebook               Home Page             Published on: 19-Jul-2020


Coming Events: